ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ জুন ২০২৬

রামিসা হত্যা মামলা: ২ আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১২:০৯, ১৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩০, ১৬ জুন ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের পক্ষে শুনানির জন্য স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এই বিশেষ বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি শুনানির জন্য রয়েছে।

ফৌজদারি বিশেষজ্ঞ একজন আইনজীবীকে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ দিতে আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর উইংকে বলা হয়েছে।

মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত হলে মামলাটি শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চের কার্যতালিকায় আনা হয়। এর আগে, রোববার আসামিদের জেল আপিল শুনানির গ্রহণ করেন বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

ঐদিনই বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে, কোনো মূলতবি ছাড়া বিরতিহীনভাবে শুনানির আবেদন জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। 

এর আগে, গত ৯ জুন রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড (ডেথ রেফারেন্স) অনুমোদনের নথি হাইকোর্টে আসে।

দুই আসামির ফাঁসির রায়ে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন স্বাক্ষরের পর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

ফৌজদারি কোনো মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) মামলা হিসেবে পরিচিত।

গত ৭ জুন রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন আদালত। আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মৃত্যুদণ্ডের এ রায় ঘোষণা করেন।  

পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে দণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে। ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভিকটিম মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, হত্যার আগে ধর্ষণ ও বিভিন্ন স্থানে জখমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না থাকায় বোঝা যায়, সোহেল স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছে। স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী স্বপ্না। অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা এবং তা প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা না রাখার বিষয়টিও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি