ঢাকা, মঙ্গলবার   ১০ মার্চ ২০২৬

আমরা এ পর্যন্ত সংবিধান মেনেই এসেছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২১:৪৯, ১০ মার্চ ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমরা সংবিধান মেনেই এ পর্যন্ত এসেছি। সংবিধান মেনে চলছি এবং সামনেও সংবিধান মেনে চলার আশা রাখি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত দোয়া এবং ইফতার মহফিল পূর্ববর্তী ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার সুরক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের প্রতি আইনজীবী সমাজের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি আমরা শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ, এটা রাজনৈতিক সমঝতার দলিল। আমরা তাতে স্বাক্ষর করেছি বরং যারা সমালোচনা করছে তারা স্বাক্ষর করেছে গত কয়েকদিন আগে।

তিনি বলেন, আমরা সংবিধান মেনেই এই পর্যন্ত এসেছি এবং সংবিধান মেনে চলছি এবং সামনেও সংবিধান মেনে চলার আশা রাখি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের বক্তব্য ছিল যদি গণভোটের রায়কে আমরা সম্মান দিতে চাই জাতীয় সংসদে আগে যেতে হবে। সেখানে আলাপ আলোচনা করতে হবে। আইন প্রণয়ন করতে হবে। সংবিধানে সেটা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তারপরে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে হয় সেটা সেখানেই নির্ধারণ করা হবে এবং কোন ফর্মে শপথ হবে সেটা তৃতীয় তফসিলে আনতে হবে।

তিনি বলেন, শপথ বাক্য কে পাঠ করাবেন সেটা নির্ধারিত হবে। তারপরে এটা বিধিসম্মত হবে। কিন্তু আজকে যাদেরকে জবরদস্তিমূলক শপথ পড়ানো হল, যিনি জবরদস্তিমূলক শপথ পড়ালেন সেটা সংবিধান রক্ষণ হয়েছে কিনা অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টের দেখার দায়িত্ব। কারণ বিচারকগণ শপথ নিয়েছেন সংবিধান রক্ষণের, সংরক্ষণের এবং এই সংবিধানকে রক্ষা করার জন্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা তো জুলাই জাতীয় সনদকে অস্বীকার করি না। জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটা শব্দকে-অক্ষরকে আমরা ধারণ করি এবং আমরা সেটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। জাতির কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি, আমরা সেটা বাস্তবায়ন করব। এমনকি সেই প্রতিশ্রুতির বাইরেও আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে বিএনপি যে সমস্ত ইশতেহার প্রণয়ন করে জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করেছে সেই সমস্ত ইশতেহারও যা কিছু আছে তা আমরা বাস্তবায়ন করব।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ১৩৩টা অধ্যাদেশ জারি করেছে। সংবিধানের বাধ্যবাধকতা আছে যেদিন জাতীয় সংসদ বসবে সেই প্রথম সেশনে আমরা সাংবিধানিকভাবে এই ১৩৩ টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করতে বাধ্য। কিন্তু সেই ১৩৩ টি অধ্যাদেশের কোনটা কীভাবে গৃহীত হবে, কোনটার নোটিফিকেশন কীভাবে হবে, কোনটা সংশোধন হবে, কোনটা ল্যাপস হয়ে যাবে, কোনটা এজ ইট ইজ এপ্রুভ করা হবে সেটা জাতীয় সংসদের এখতিয়ার। সেটা তখন দেখা যাবে।

তিনি বলেন, আপনারা স্বপ্নে দেখেন কীভাবে? স্বপ্ন দেখারও তো একটা সীমারেখা আছে। যেই দল মনে করে যে তারা সরকার গঠন করতে পারতো, তাদেরকে হারানো হয়েছে এই স্বপ্ন দেখাও তো নাজায়েজ। যাই হোক গণতন্ত্রের মাঠে অনেকে অনেক কথা বলবে, আমরা এগুলো শুনব। কারণ, এগুলো শোনার জন্যই তো আমরা জীবন দিয়েছি। এগুলো বলার জন্যই তো আমরা গণঅভ্যুত্থান করেছি। সবাই সবকিছু বলবে। বিতর্ক হবে, বাহাস হবে। আসুন জাতীয় সংসদের ভিতরে ঢুকে যাই। ওখানে সমস্ত বিতর্ক হবে এবং আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে যেটা জনগণ চাইবে, যেটা আইনানুগ হবে যেটা সাংবিধানিক হবে সেটাই হবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি জয়নুল আবেদীন এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সভাপতি ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব ও বার কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক গাজী তৌহিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খানসহ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আইনজীবীরা।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল।

এমআর// 
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি