নিরাপত্তার ঘেরাটোপে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রকাশিত : ১৫:৩৮, ১৮ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৪১, ১৮ জুন ২০২৬
নিরাপত্তার ঘেরাটোপ সরকার প্রধানকে যেন জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সে বিষয়ে এসএসএফকে লক্ষ্য রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার প্রধান জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
তরুণ বেলা থেকেই এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে নিজের পরিচিত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রধান হিসেবে বর্তমানে প্রতিদিন-প্রতি সময় আমি এসএসএফের কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছি। তবে এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে আমার পরিচয় নতুন নয়। মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তখন থেকেই অর্থাৎ আমার তরুণ বেলা থেকেই আমি এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত।
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায়শই জনসভা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করতে হয়। এ ধরনের অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিছুটা জটিল। এ ধরনে পরিস্থিতিতে একদিকে সরকার প্রধানের নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রাখা, অপরদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত রাখা– এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই এসএসএফকে তাদের নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়। সমন্বিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এসএসএফ’র কর্মদক্ষতাও প্রতিভাত হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, ২০০২ সালের পর এসএসএফ’র ‘রেড বুক’ সময়ের চাহিদানুযায়ী পুনরায় সংস্কার করে বর্তমানে আরও আধুনিক এবং সময়োপযোগী করা হয়েছে। এই ‘রেড বুক’ এসএসএফ’র কার্যপদ্ধতি এবং কর্মপদ্ধতির নীতিমালা প্রদানের পাশাপাশি আইনি সুরক্ষা ও নিশ্চিত করেছে। আপনাদের জন্য ‘রেড বুকে’ উল্লেখিত নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ অবশ্য জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রেড বুকের নির্দেশনার পাশাপাশি সময় এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয়। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নেরও সুযোগ রয়েছে। এসএসএফ’র মতো বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস-সততা-বিশ্বস্ততা-পেশাদারত্ব-নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।
তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান এবং দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রঘোষিত বিশেষ গুরুত্ত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত। এ কারণে নিরাপত্তাব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে দেশের অন্য সব নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই এসএসএফ-কে নিরাপত্তা কৌশল নিশ্চিত করতে হয়। আমি মনে করি, সমন্বয় যত বেশি দক্ষতার সঙ্গে করা যায়, নিরাপত্তাব্যবস্থাও ততবেশি সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, আরও একটি বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, অবশ্যই আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয় সে দিকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকবেন। গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এসএসএফ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন।
এএইচ
আরও পড়ুন










