এমপি পদ হারাচ্ছেন জামায়াতের বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম
প্রকাশিত : ২০:০৯, ২২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২০:১২, ২২ জুলাই ২০২৬
দলীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কৃত হলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয়ে যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। সে হিসেবে নৈতিক স্খলনজনিত কারণে জামায়াত থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের গাজী নজরুল ইসলাম তার এমপি পদ হারাতে যাচ্ছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কোনো দলের সংসদ সদস্যকে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কার করা হলে তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না এবং ওই আসন শূন্য ঘোষণা করা হবে কি না- এমন আইনি প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মতামত ব্যক্ত করেন।
বুধবার (২২ জুলাই) নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে তার মন্তব্য জানান।
নির্বাচন কমিশনার এ বিষয়ে রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামোর সাধারণ নীতি তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মূল পরিচয় ও আইনগত ভিত্তি তৈরি হয় দলগত কাঠামোর ওপর ভর করে। তাই দল যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করে এবং তার মনোনয়ন প্রত্যাহার বা বাতিল করে, তবে তার আসন শূন্য হওয়াটাই স্বাভাবিক আইনগত প্রক্রিয়া।
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় বহিষ্কার সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র বা চিঠি এখনও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হাতে পৌঁছেনি বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার।
তিনি উল্লেখ করেন, ইসির নিজস্ব কার্যপ্রণালি ও উপ-নির্বাচনের ঘোষণার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। অফিশিয়াল কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আইন, বিধিমালা ও সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, কোনো অনুমাননির্ভর তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো সঠিক নয়। লিখিত নথি ও সুনির্দিষ্ট আইন কোট করেই ইসি তার দাপ্তরিক অবস্থান স্পষ্ট করবে। নথিপত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে পর্যালোচনা শেষে আইন অনুযায়ী আসন শূন্য ঘোষণা এবং পরবর্তী উপ-নির্বাচন সংক্রান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণের বিষয়টি জানানো হবে।
উল্লেখ্য, নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার বিকালে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সম্প্রতি তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরে এ নিয়ে বৈঠক করে জামায়াতে ইসলাম গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।
এএইচ
আরও পড়ুন










