ঢাকা, সোমবার   ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:০০, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

দেশে উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষি খাতকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাত, সেচ ও যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা দ্রুত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। 

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ বৈঠকের এসব তথ্য জানান।

বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশে সরিষার আবাদ ও উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টনে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টন।

পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংরক্ষণব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতার মতো প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলায় সক্ষম নতুন জাতের ফসলও কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলছে।

কৃষি গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রণালয় জানায়, বিভিন্ন ফসলের ১ হাজার ৯০টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে ধানের জাত রয়েছে ১৫৫টি। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্যও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

কৃষিতে শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে যান্ত্রিকীকরণেও জোর দেওয়া হচ্ছে। দেশীয় কৃষিযন্ত্রের উদ্ভাবন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মতো যন্ত্র কৃষকদের জন্য সহজলভ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায় বৈঠকে। বর্তমানে দেশে ২ হাজার ৬১৭টি সৌরচালিত সেচব্যবস্থা রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক সেচের পরিধি বাড়ানো গেলে কৃষকের সেচ খরচ কমার পাশাপাশি প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতাও কমবে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়।

কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দিতে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির বিষয়েও আলোচনা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণনসহ কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং সৌর সেচ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, দেশের চাহিদা মেটাতে যেসব কৃষি ও খাদ্যপণ্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা পর্যায়ক্রমে কমাতে হবে। এজন্য কৃষি গবেষণা জোরদার, উন্নত জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ ও যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

এমএইচ
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি