জনগণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য: রিজভী
প্রকাশিত : ১১:৫৩, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫৯, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিএনপি জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রিজভী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়া কোনো ধরনের আপস করেননি। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থানেই অটল ছিলেন।
রিজভী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে নানা ধরনের রাজনৈতিক চাপ, নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মধ্যেও খালেদা জিয়া বিএনপি এবং দেশের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন মহল থেকে দল ও তার নেতৃত্বকে দুর্বল করার নানা চেষ্টা হলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থেকে তিনি বিচ্যুত হননি।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সংগঠিত হয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেন। দীর্ঘদিনের সেই আন্দোলন একসময় বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয়। এর ফলে রাজপথে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও প্রতিরোধ আরও জোরালো হয়।
রিজভী দাবি করেন, গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কারণে খালেদা জিয়া মানুষের কাছে একটি প্রতীকী অবস্থান তৈরি করেছেন। তার নেতৃত্বে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের যে দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে, সেটিকে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তার রাজনৈতিক আদর্শ ও সাহসকে সামনে রেখে বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান রিজভী। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চিন্তা এবং খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শের ধারাবাহিকতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমও দেশজুড়ে জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন বিএনপির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর উন্নয়ন, উৎপাদন ও জনকল্যাণকেন্দ্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ পথে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও সেগুলো মোকাবিলা করে সরকার এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
তারেক রহমানের দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী বলেন, হার্ভেস্ট কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা এবং জীবনযাত্রার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তার দাবি, সংকট দেখা দিলেও সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
রিজভী বলেন, জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এমনকি দেশে জ্বালানি আনার পথে কয়েকটি জাহাজে বোমা হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে বাজেটের নির্ধারিত অর্থের পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহেশখালীর টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর তা সমাধানের কাজও চলছে বলে জানান তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, দলের ৩১ দফা, নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি এবং খালেদা জিয়ার দেওয়া রাজনৈতিক কর্মসূচির আলোকে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে এসব কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি জানান।
দল ও সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিএনপি এবং সরকার সাংগঠনিকভাবে পৃথক হলেও তাদের কার্যক্রম পরস্পরের পরিপূরক। জনগণের ভোটে একটি রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করলে সেই দলের অভিজ্ঞ ও যোগ্য নেতাদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার মতে, বিএনপির নেতাকর্মীরা সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায় থেকে জনগণকে অবহিত করবেন। একই সঙ্গে দল তার সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবে এবং সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।
দলীয় দায়িত্বের পাশাপাশি বিএনপির নেতাদের মন্ত্রিত্ব পালন নিয়েও তিনি ব্যাখ্যা দেন। রিজভী বলেন, দলের যেসব নেতা সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন, তারা সেই দায়িত্ব পালন করবেন। একইভাবে সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া বিএনপির নেতারাও তাদের সাংগঠনিক দায়িত্ব ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিজ নিজ অবস্থান অনুযায়ী পালন করবেন।
দীর্ঘ আন্দোলনের পর সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর জনপ্রিয়তা ধরে রাখার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রিজভী বলেন, সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের স্বার্থে কাজ করা।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বিভিন্ন সময়ে সংকট তৈরি হতে পারে। তবে সেই সংকট যদি সরকারের নিজের তৈরি না হয় এবং সরকার আন্তরিকভাবে তা মোকাবিলার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারে।
রিজভীর ভাষ্য, সংকটের সময় সরকার কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়—জনগণের কাছে সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করছে দাবি করে তিনি বলেন, এই পথ থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
সবশেষে রিজভী বলেন, বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা। জিয়াউর রহমানের দেশ গঠন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চিন্তা এবং খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বিএনপি এগিয়ে যেতে চায়। নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার কথা জানান তিনি।
এমএইচ
আরও পড়ুন










