‘অবৈধ’ ঘোষণার পর ফের ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা ট্রাম্পের
প্রকাশিত : ১৪:৫৮, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী ঢালাওভাবে আরোপ করা শুল্ক বা গ্লোবাল ট্যারিফ নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এই রায়কে ‘ভয়াবহ’ অভিহিত করে বাতিল হয়ে যাওয়া শুল্কের বদলে নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প।
উচ্চ আদালত রায় দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন "প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না"। রায়ে বলা হয়েছে, জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য সংরক্ষিত আইনকে ব্যবহার করে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে ট্রাম্প তার কর্তৃত্বের সীমা অতিক্রম করেছেন।
সংবিধান অনুযায়ী, এ ধরনের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে বলেন, প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের মতো অসাধারণ ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন দেখাতে হবে। তিনি তা করতে পারেন না।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এরইমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হয়ে যাওয়া শুল্কের বদলে নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছেন।
শুক্রবার ট্রাম্প 'সেকশন ১২২' নামে আগে কখনও ব্যবহৃত না হওয়া একটি আইনের আওতায় নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন।
এ আইন অনুযায়ী, কংগ্রেস হস্তক্ষেপ করার আগে সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যায়। এটি ২৪ ফেব্রুয়ারি কার্যকর হবে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউজে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, শুল্ক ফেরতের বিষয়টি দীর্ঘ আইনি লড়াই ছাড়া হবে না। তার প্রত্যাশা, এই বিষয়টি আদালতে বহু বছর জটিল অবস্থায় আটকে থাকবে।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাজ্য, ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তারা পূর্বে আলোচনায় নির্ধারিত শুল্কের বদলে এখন সেকশন ১২২-এর আওতায় ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মুখোমুখি হবে।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আশা করে এই দেশগুলো তাদের বাণিজ্য চুক্তির অধীনে করা ছাড়গুলো মানতে থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউস আরও কিছু প্রক্রিয়া বিবেচনা করতে পারে—যেমন সেকশন ২৩২ ও সেকশন ৩০১—যা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি ও অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার মোকাবিলায় আমদানি শুল্ক আরোপের সুযোগ দেয়।
গত বছর ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ির মতো খাতে যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, সেগুলো এই ধরনের আইনি কাঠামো ব্যবহার করে আরোপিত হয়েছিল এবং সেগুলো সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রভাবিত হয়নি।
গত এপ্রিল মাসে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের পণ্যের উপর ১০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এএইচ
আরও পড়ুন










