ঢাকা, বুধবার   ০৪ মার্চ ২০২৬

আ.লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনকারী ছাত্রলীগ নেতাকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১২:৩৭, ৪ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১২:৪০, ৪ মার্চ ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনকারী ছাত্রলীগ নেতাকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেছেন তার বাবা। 

আজ বুধবার (৪ মার্চ) বিষয়টি জানাজানি হয়েছে। এর আগে গত সোমবার বাবা আবু জাফর তার সন্তানকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেন।

জেলা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এক হলফনামার মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন ছাত্রলীগ নেতার বাবা মো: আবু জাফর। ঝিনাইদহ জেলা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট মো: সাদাতুর রহমান হাদি’র মাধ্যমে আইনগত দিকটি সম্পন্ন করেন তিনি। 

গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করেন তার সন্তান নাহিদ হাসান সবুজ। সে ঝিনাইদহ সরকারি কেশবচন্দ্র (কেসি) কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছেন। 

হলফনামা সূত্রে জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সক্রিয় হয়ে রাজনীতি করায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটী ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ব্যবসায়ী মো: আবু জাফর (৪৮) তার ছেলে মো: নাহিদ হাসান সবুজকে (২৪) ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন।

হলফনামায় মো: আবু জাফর উল্লেখ করেন, তার পুত্র দীর্ঘদিন ধরে তার অবাধ্য এবং অবান্তর জীবনযাপন করে আসছিলেন। তিনি বর্তমানে পরিবারের সাথে বসবাস করেন না এবং নিজের খেয়ালখুশিমতো আলাদা থাকেন।

হলফনামায় আবু জাফর আরও অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্ট (২০২৪) পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও তার ছেলে ওই সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে লিপ্ত আছেন। বিশেষ করে গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করেন তার সন্তান নাহিদ হাসান সবুজ। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে পিতা হিসেবে তিনি বিব্রত বোধ করেন।

হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, নাহিদ হাসান সবুজের কোনো প্রকার আয়-রোজগার, দায়-দেনা বা কর্মকাণ্ডের সাথে পিতা বা তার পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। তার কোনো অপকর্মের দায়ভার পরিবার বহন করবে না। ভবিষ্যতে তার সাথে পরিবারের সকল প্রকার রক্ত সম্পর্কীয় ও আইনি বিচ্ছেদ বজায় থাকবে।

এ ঘটনায় ত্যাজ্য ঘোষণাকারী মো: আবু জাফর বলেন, “দেশের আইন ও নীতিমালার পরিপন্থী কোনো কাজ আমার সন্তান করুক তা আমি চাই না। বারবার সতর্ক করার পরও সে শোধরায়নি, তাই বাধ্য হয়ে আমি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ হাসান সবুজের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মুঠোফোনটি খোলা পাওয়া যায়নি।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি