এক ডাবের দাম ২২০ টাকা, গরমে বাড়ছে ক্রেতার চাপ
প্রকাশিত : ১৩:৩৩, ২৫ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৩৭, ২৫ আগস্ট ২০২৬
তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে নগরবাসীর কাছে ডাবের পানির চাহিদা বাড়ছে। আর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর খুচরা বাজারে বেড়েছে ডাবের দামও। কয়েক দিন আগেও যে ছোট আকারের ডাব ১৩০-১৪০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেটিই বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকায়। বড় আকারের ডাবের দাম উঠেছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর ধানমন্ডি ও লালবাগ এলাকার বিভিন্ন ডাবের দোকান ও ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এবং বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, এ সময়ে বাজারে ডাবের সরবরাহ তুলনামূলক কম। অন্যদিকে গরমের কারণে বেড়েছে ক্রেতাদের চাহিদা। ফলে পাইকারি বাজারে বেশি দামে ডাব কিনতে হচ্ছে এবং সেই প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও।
নিউমার্কেট এলাকার এক ডাব বিক্রেতা জানান, কয়েক দিন আগেও ১৩০-১৪০ টাকায় যে ডাব বিক্রি করতেন, এখন একই ধরনের ডাব ১৭০-১৮০ টাকার নিচে বিক্রি করা কঠিন। তার ভাষ্য, আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা পর্যায়েও দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে।
তার মতে, গরম বাড়ার কারণে ডাবের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলে দাম এতটা বাড়ত না।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত দুপুরের পর থেকে ডাবের দোকানগুলোতে ক্রেতার চাপ বাড়ে। পথচারী, রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তৃষ্ণা মেটাতে ডাবের পানি কিনছেন।
লালবাগের এক বাসিন্দা জানান, অসুস্থ বাবার জন্য নিয়মিত ডাব কিনতে হয় তাকে। সম্প্রতি মাঝারি আকারের একটি ডাবের দাম প্রায় ২০০ টাকা এবং বড় ডাবের দাম ২৫০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। কয়েক দিন আগেও একই ধরনের ডাব ১৫০-১৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত। ফলে এখন প্রতিটি ডাবে ৪০-৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ হচ্ছে।
লালবাগের পলাশী এলাকার আরেক ক্রেতা বলেন, আগে ১৩০-১৪০ টাকায় যে ডাব পাওয়া যেত, এখন সেটির দাম ১৭০-১৮০ টাকা। গরমে ডাবের পানি খাওয়ার প্রয়োজন ও আগ্রহ থাকায় বেশি দাম হলেও কিনতে হচ্ছে।
আরেক ক্রেতার মতে, একটি ডাবের দাম ২০০ টাকার কাছাকাছি চলে গেলে সাধারণ মানুষের জন্য নিয়মিত ডাব খাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। গরমে চাহিদা বাড়তেই পারে, তবে দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।
বর্তমানে বাজারে ডাবের দাম মূলত আকার ও মানের ওপর নির্ভর করছে। ছোট আকারের ডাব ১৭০-১৮০ টাকা এবং বড় আকারের ডাব ২১০-২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কিছু জায়গায় আকার ও মানভেদে এর চেয়েও বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে।
তবে বিক্রেতাদের দাবি, তারা নিজেদের ইচ্ছায় দাম বাড়াচ্ছেন না। পাইকারি বাজারে বাড়তি দামে ডাব কেনার পাশাপাশি পরিবহন, দোকান পরিচালনা এবং নষ্ট হওয়ার ঝুঁকির খরচও তাদের বহন করতে হয়।
অ্যালিফ্যান্ট রোড এলাকার এক বিক্রেতা বলেন, ডাব দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করে রাখা যায় না। কিছু ডাব নষ্ট হলে সেই লোকসানও বিক্রেতাকেই সামলাতে হয়। তাই কেনা দাম ও অন্যান্য খরচ বিবেচনা করেই বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের আশা, বাজারে ডাবের সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে গরমের তীব্রতা, চাহিদা এবং সরবরাহ—এই তিনটি বিষয়ের ওপরই আগামী দিনগুলোতে ডাবের বাজারদর অনেকটা নির্ভর করবে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি চাহিদা বেড়ে গেলে দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়াটা স্বাভাবিক। বর্তমানে ডাবের বাজারেও সেই প্রভাব দেখা যাচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং বাজার ব্যবস্থাপনা কার্যকর থাকলে দামের চাপ কিছুটা কমতে পারে।
তীব্র গরমে তৃষ্ণা মেটাতে ডাবের পানির চাহিদা বাড়লেও বাড়তি দাম এখন ক্রেতাদের জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শরীর ঠান্ডা করতে ডাব কিনতে গিয়ে তাই পকেটেও পড়ছে বাড়তি চাপ।
এমএইচ
আরও পড়ুন










