খুলনায় এমইউজের শোকসভা
গণতন্ত্রের স্থপতি ও উদার নেতৃত্বের প্রতীক ছিলেন খালেদা জিয়া
প্রকাশিত : ১৮:৩১, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
খুলনায় দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এই শোকসভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
শোকসভায় বক্তারা বেগম খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম স্থপতি এবং দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে নেতৃত্ব দেওয়া একজন জাতীয় নেত্রী হিসেবে অভিহিত করেন।
বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে উত্তরণের যে ঐতিহাসিক সূচনা বেগম খালেদা জিয়া করেছিলেন, জাতি এ জন্য চিরদিন তাঁর কাছে ঋণী থাকবে। এই স্মরণসভা শুধু শোক প্রকাশের নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক অবদান ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
আরও বলেন, ক্ষমতায় থাকলে অনেক সময় অহংকার, দাম্ভিকতা ও কর্তৃত্ববাদী আচরণ নেতাদের মধ্যে দেখা যায়। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এসবের প্রকাশ কখনো দেখা যায়নি। দেশ শাসন কিংবা দল পরিচালনা উভয় ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সহজ-সরল, সাদা-সিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত এবং সকলকে নিয়ে চলার মতো উদার মানসিকতার অধিকারী।
শোকসভায় খুলনার উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়। বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খুলনার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তিনি সরাসরি সময় দিয়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও জননিরাপত্তার বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। খুলনার এমপিদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে বরাদ্দ প্রদান ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা খুলনাবাসী আজও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।
শোকসভা শেষে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
খুলনা প্রেসক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নাগরিক শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন এমইউজে খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তৃতা করেন এমইউজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হিমালয়।
সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও সর্বশেষ দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন এমইউজে খুলনার সহ-সভাপতি মো. নূরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নূরের সঞ্চালনায় রাজনীতিবিদদের মধ্যে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ খুলনা মহানগর কমান্ডার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামী’র আমীর অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খুলনা মহানগরী সহ-সভাপতি শেখ মো. নাসির উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস কে রাশেদ।
পেশাজীবীদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সাবেক নির্বাহী সদস্য শেখ দিদারুল আলম, এমইউজের সাবেক সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান, খুলনা প্রেসক্লাব আহবায়ক এনামুল হক, খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটন, খুলনা মহানগর ড্যাব এর সাধারণ সম্পাদক ডা. মোস্তফা কামাল, খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মশিউজ্জামান খান, খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির আহবায়ক আব্দুল্লাহ হোসেন বাচ্চু, কলেজ শিক্ষক পরিষদ সভাপতি অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল।
এছাড়াও আরও অনেকেই বক্তব্য রাখেন।
এএইচ
আরও পড়ুন










