ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

জুলাই সনদ ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করবে : আলী রীয়াজ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৭:২৮, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

জুলাই সনদ প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করে সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করবে, যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের সঙ্গে বৈষম্য করবে না—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এ মতবিনিময়ের আয়োজন করে।

আলী রীয়াজ বলেন, একটি গণতান্ত্রিক মানবিক স্বদেশ সৃষ্টির স্বপ্নে আমাদের রক্তাক্ত পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। অনেক হারিয়ে যে সুবর্ণ সুযোগ এসেছে, তা আর হারাতে চাই না।

তিনি বলেন, ফ্যসিবাদের নিষ্পেষণে জর্জরিত রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। আর সেই সংস্কারের লক্ষ্যেই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলা সময়ের দাবি।

তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু এতদিন সেই জনগণকেই বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশগ্রহণ জরুরি যেন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ অতীতের মতো না হয়। মনে রাখবেন, গণভোটের জয়ের মাধ্যমে আপনার কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন সম্ভব।

রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী বলেন, বিগত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই সব হতো। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। অথচ বলা হয়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়, বিচার ব্যবস্থায় বিচারপতি নিয়োগ এসব রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পদায়ন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এগুলো তৎকালীন সরকারপ্রধানের ইচ্ছা অনুসারেই হয়ে থাকে।

সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে ড. রীয়াজ বলেন, নিজ দলের এমপিদের মুখে স্কচটেপ এটে দেয়ার মতো। এ ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিকাশে বিশাল বাধা। এ ব্যবস্থার উত্তরণে সংস্কার প্রস্তাবে অর্থবিল এবং আস্থা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে নিজ নিজ দলের অনুগত থাকবে, অন্য বিষয়ে এমপিরা স্বাধীন মতামত প্রদান করতে পারবেন এমন প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল উদ্দেশ্য সামাজিক ন্যায় বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের মতো বিষয় যেন সম্মানের সাথে বাস্তবায়ন করতে পারি তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটা সমাজ চাই যে সমাজে আমার সন্তানের পরিচয় নির্ধারণ হবে তার যোগ্যতার ওপর তার অর্জিত জ্ঞান ও প্রচেষ্টার ওপর।

তিনি অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদারের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: কামাল উদ্দিন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব দেবেন্দ্র মাথ ওরাও।

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি