ঢাকা, রবিবার   ১৯ জুলাই ২০২৬

নিজের কবর তৈরি করে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন এক বৃদ্ধা মা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২১:৩৬, ১৮ জুলাই ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

জীবনের শেষ সময়ে সন্তানের স্নেহ-ভালোবাসাই একজন মা-বাবার সবচেয়ে বড় আশ্রয়। কিন্তু সেই আশ্রয় যখন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তখন নিজের শেষ ঠিকানাটুকুও নিজেকেই গড়ে নিতে হয়। সন্তানেরা মৃত্যুর পর দাফন করবেন কি না—সেই শঙ্কায় জীবিত থাকতেই নিজের কবর তৈরি করে রেখেছেন এক বৃদ্ধা মা। 

ঠাকুরগাঁওয়ে এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এটি কোনো মৃত মানুষের কবর নয়। এটি একজন জীবিত মায়ের নিজের হাতে তৈরি করে রাখা শেষ ঠিকানা। ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার ইউনিয়নের বালিয়া এলাকার বড়বালিয়া পাইকারমনি গ্রামের বৃদ্ধা আয়েশা খাতুনের এই কবর এখন সবার দৃষ্টি কেড়েছে।

স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের অবহেলায় মানবেতর জীবন কাটছে তার। অভিযোগ, ছেলেরা সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার পর আর খোঁজখবর রাখেন না। 
জানা যায়, বড় ও ছোট ছেলের বাড়িতে কিছুদিন থাকলেও বনিবনা না হওয়ায় সেখান থেকেও চলে আসতে হয়েছে তাকে। পরে স্বামীর দেওয়া আড়াই শতাংশ জমিতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি ছোট ঘর তুলে বসবাস শুরু করেন তিনি।

শেষ বয়সে সন্তানদের ওপর আস্থা হারিয়ে ঘরের পাশেই নিজের কবর তৈরি করে রেখেছেন এই বৃদ্ধা। প্রতিদিন সেই কবরের পাশ দিয়ে হাঁটেন, আর নীরবে মৃত্যুর অপেক্ষা করেন।

বৃদ্ধার এমন সিদ্ধান্তে আবেগাপ্লুত স্থানীয়রা। তাদের দাবি, প্রায় পাঁচ বছর ধরে একাই কষ্টে জীবন কাটাচ্ছেন আয়েশা খাতুন। সন্তানরা সবাই স্বচ্ছল হলেও কেউ মায়ের দায়িত্ব নিচ্ছেন না। মৃত্যুর পর যেন এই কবরেই তাকে দাফন করা হয়—এমন অনুরোধও করে রেখেছেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে আয়েশা খাতুনের সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের অন্য সদস্যরা বৃদ্ধার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে বৃদ্ধার ভরণপোষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

ঠাকুরগাঁওয়ের এই ঘটনা আমাদের সমাজ ও পারিবারিক মূল্যবোধের সামনে এক কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি