ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত সশস্ত্রবাহিনী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৬:২২, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৬:২৫, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যালট বাক্স সুরক্ষায় প্রয়োজনে যেকোনও ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে সশস্ত্রবাহিনী। এ লক্ষ্যে সারা দেশে লক্ষাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বিগত জাতীয় নির্বাচনগুলোতে যেখানে ৪০ থেকে ৪২ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করতেন, এবার প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রের আঙ্গিনা পর্যন্ত সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় স্টেডিয়ামের পাশে রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সেনাসদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদফতরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মো. মনজুর হোসেন।

তিনি বলেন, আগের নির্বাচনগুলোতে আমাদের সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করতেন। এবার ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি পর্যন্ত লক্ষাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করাই এর উদ্দেশ্য। 

তিনি জানান, এই মোতায়েন কার্যক্রম ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে।

যানবাহন ঘাটতির বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের প্রয়োজনীয় যানবাহন অপ্রতুল। অসামরিক প্রশাসনের কাছে সহায়তা চেয়েছি। প্রয়োজনে ভাড়া করে হলেও সদস্যদের টহল কার্যক্রম চালু রাখা হচ্ছে।”

নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা অভিযান জোরদারের কথাও জানান এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ২০ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ১৪ দিনে প্রায় দেড় শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ককটেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

গত ৩১ জানুয়ারি যশোরের বাহারপাড়া এলাকায় যৌথ অভিযানে চারটি বিদেশি পিস্তল ও ১০টি গ্রেনেড সদৃশ হাতবোমা উদ্ধারের তথ্যও তুলে ধরেন তিনি। সেনা কর্মকর্তা বলেন, দায়িত্ব পালনের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি অবৈধ অস্ত্র ও প্রায় ২ লাখ ৯১ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ২২ হাজার ২৮২ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতিকারীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সেনাপ্রধানের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা আশ্বস্ত করেছি— সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে যেকোনও প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। মনজুর হোসেন বলেন, প্রয়োজনে সামরিক হেলিকপ্টার ও নৌযানের মাধ্যমে কর্মকর্তা ও নির্বাচনি সরঞ্জাম পরিবহন করা হবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আগাম হেলিকপ্টার মোতায়েন থাকবে।

তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে আগের চেয়ে বেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অডিও–ভিডিও ক্যামেরা ও আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে। সেনা সদর দফতরে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল কাজ করছে, যা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রাখছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও অপপ্রচারকে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা ভোটারদের আতঙ্কিত করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রচারে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন, অসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি