ভেনেজুয়েলাকে কেন লক্ষ্যবস্তু করলেন ট্রাম্প
প্রকাশিত : ০৯:১২, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১০:০০, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে শত-সহস্র ভেনেজুয়েলান অভিবাসীর আগমনের জন্য নিকোলাস মাদুরোকে দোষারোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মাদুরোর অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ দখল করতে পারে।
২০১৩ সাল থেকে প্রায় আট মিলিয়ন ভেনেজুয়েলান অর্থনৈতিক সংকট ও দমন-পীড়ন থেকে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা।
প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, মাদুরো ‘তার কারাগার ও মানসিক হাসপাতাল খালি করে’ বন্দিদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছেন।
ট্রাম্প মাদক প্রবাহ, বিশেষ করে ফেন্টানিল ও কোকেন রোধে মনোযোগ দিয়েছেন। তিনি দুটি ভেনেজুয়েলান অপরাধী গোষ্ঠী—ট্রেন দে আরাগুয়া ও কার্টেল দে লস সোলেসকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে পরেরটি মাদুরোর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কার্টেল দে লস সোলেস কোনো সংগঠিত গোষ্ঠী নয়, বরং দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বোঝাতে ব্যবহৃত একটি শব্দ, যারা কোকেন পরিবহনে সহায়তা করেছে।
মাদুরোকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ করেছেন এবং তার সরকারকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
মাদুরো জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি কোনো কার্টেলের নেতা নন। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এবং ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদ দখল করতে।
ভেনেজুয়েলা কত তেল রপ্তানি করে এবং তা কেনে কারা?
মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে ট্রাম্প প্রশাসন তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ দখল করতে পারে।
তিনি ট্রাম্পের একটি মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যে মন্তব্য তিনি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে প্রথম তেলবাহী জাহাজ দখল করার পর।
সাংবাদিকরা যখন জাহাজ ও এর তেলের কী হবে জানতে চান, ট্রাম্প বলেন ‘আমার ধারণা আমরা তেল রেখে দেব।’
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা পূর্বে অস্বীকার করেছেন যে মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল দেশের অপ্রচলিত তেল সম্পদে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত অপরিশোধিত তেল মজুদ রয়েছে ভেনেজুয়েলার এবং তেল খাতের আয় সরকারি বাজেটের অর্ধেকের বেশি অর্থায়ন করে। তবে এর রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিষেধাজ্ঞা, বিনিয়োগের অভাব এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে।
মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভেনেজুয়েলা বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের মাত্র ০.৮% উৎপাদন করেছে।
বর্তমানে দেশটি দৈনিক প্রায় ৯ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে এবং এর সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলো চীন।ৎ
সূত্র: বিবিসি
এএইচ
আরও পড়ুন










