সংঘর্ষের পর আলেপ্পো ছাড়ছেন সিরিয়ার কুর্দি যোদ্ধারা
প্রকাশিত : ১১:৫০, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১২:০৬, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সাথে কয়েকদিনের লড়াইয়ের পর আলেপ্পো শহর থেকে সরে যেতে সম্মত হয়েছে সিরিয়ার কুর্দি যোদ্ধারা।
কুর্দি যোদ্ধারা আজ রোববার এ ঘোষণা দেয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সিরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কুর্দি-অধিষ্ঠিত শেখ মাকসুদ পাড়ায় অভিযান শেষ করেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী কুর্দি যোদ্ধাদের বাসে করে উত্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যেই আলেপ্পোর অন্য কুর্দি-অধিষ্ঠিত আশরাফিয়াহ দখলের ঘোষণা দিয়েছে।
কুর্দি বাহিনী সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোর কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং উত্তর ও উত্তর-পূর্বের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রকৃতপক্ষে স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসন পরিচালনা করে, যার বেশিরভাগই ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় দখল করা হয়েছে।
দেশটির নতুন সরকারে কুর্দিদের একীভূত করার আলোচনা স্থগিত হওয়ার পর সর্বশেষ সংঘর্ষ শুরু হয়।
কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছি যার ফলে যুদ্ধবিরতি হয়েছে এবং আশরাফিয়াহ এবং শেখ মাকসুদপাড়া থেকে শহীদ, আহত, আটকে পড়া বেসামরিক নাগরিক এবং যোদ্ধাদের উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
সিরিয়ার সরকারী সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, ‘এসডিএফ সংগঠনের সদস্যদের শেষ দলটিকে বহনকারী বাসগুলো আলেপ্পোর শেখ মাকসুদ পাড়া থেকে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার দিকে রওনা দিয়েছে।’
এসডিএফ প্রাথমিকভাবে তাদের যোদ্ধাদের চলে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে, বাস স্থানান্তরকে বেসামরিক লোকদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ঘটনা হিসাবে বর্ণনা করেছে।
এএফপি’র এক সংবাদদাতা জানান, তিনি শনিবার শেখ মাকসুদ থেকে পুরুষদের বহনকারী অন্তত পাঁচটি বাস দেখেছেন, তবে তাদের পরিচয় তিনি যাচাই করতে পারেননি।
এসডিএফ এর বিবৃতি বলা হয়েছে, আলেপ্পোতে আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে আক্রমণ এবং লঙ্ঘন বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর মধ্যস্থতার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়ই সিরিয়ার সরকার এবং কুর্দি কর্তৃপক্ষকে রাজনৈতিক সংলাপ করার আহ্বান জানিয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘকালীন শাসক বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে তীব্র এই লড়াইয়ে কমপক্ষে ২১ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে, অন্যদিকে আলেপ্পোর গভর্নর বলেছেন যে ১,৫৫,০০০ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার সংঘর্ষ শুরুর জন্য উভয়পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করেছে।
এএইচ
আরও পড়ুন










