ঢাকা, মঙ্গলবার   ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপির নেতা কর্মীরা আত্মত্যাগ করেছ: প্রধানমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:৩৫, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:১০, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা গণতন্ত্রকামী জনগণের সঙ্গে থেকে আত্মত্যাগ করেছেন। গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপির যেসব নেতা-কর্মী প্রাণ দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাঁদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, বিএনপির মূল লক্ষ্য একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।

তারেক রহমান বলেন, সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাফল্যের মধ্য দিয়ে বিএনপি ৪৮ বছরে পা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনটি দেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।

বাণীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে (রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে এটি ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

তারেক রহমান বলেন, মানুষের বাক্‌স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জিয়াউর রহমান দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমানকে ‘স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, তাঁর ‘সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের’ মাধ্যমে বিএনপি বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যায়।

বিএনপি শুধু গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্যই নয়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা গণতন্ত্রকামী জনগণের সঙ্গে থেকে আত্মত্যাগ করেছেন। গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপির যেসব নেতা-কর্মী প্রাণ দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাঁদের অবদানও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বিএনপির সরকার পরিচালনার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, জনগণ যখনই নির্ভয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সময় সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন ও নারীশিক্ষার প্রসারসহ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আবার বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বিএনপি তাদের আস্থার প্রতিদান দিতে চায়।

বাংলাদেশকে জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিএনপি সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও বাণীতে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা দেশসেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই দলটির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামের সঙ্গে বিএনপির পরিচয় জড়িত। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিনি গণতন্ত্রকামী ও স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসীকে আবারও শুভেচ্ছা জানান।

এমএইচ
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি