১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে
প্রকাশিত : ১৬:৩৯, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৭:০১, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং বর্তমান জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার এক বিশাল দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
নিয়োগ-পদোন্নতি বাণিজ্য, টেন্ডার সিন্ডিকেট, প্রকল্প থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন গ্রহণ এবং বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আগের একটি অভিযোগের সাথে এই নতুন ও বৃহত্তর অভিযোগটি যুক্ত করে যৌথভাবে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। দুর্নীতির প্রধান খাত ও আর্থিক খতিয়ানদুদকের কাছে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্নীতির পরিধি একাধিক মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন ও উন্নয়ন প্রকল্প জুড়ে বিস্তৃত।
অভিযোগের সবচেয়ে বড় অংশটি আন্তর্জাতিক অর্থ পাচার সংক্রান্ত। দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের তথ্য রয়েছে। এই অর্থ দিয়ে বিদেশে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয় ও ব্যবসায় বিনিয়োগের দাবি করা হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬টি জেলায় ডিসি পদায়নের ক্ষেত্রে জেলাপ্রতি ২ থেকে ১০ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ যাচাই করছে দুদক। ঢাকা ওয়াসার এমডি নিয়োগে ১০ কোটি, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগে ৫২ কোটি এবং গাজীপুর সিটির সিইও নিয়োগে ৬৫ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার পাশাপাশি শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পরিবার ও সহযোগীদের সিন্ডিকেটঅভিযোগপত্রে আসিফ মাহমুদের ক্ষমতার অপব্যবহার ও পারিবারিক সিন্ডিকেটের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। আসিফ মাহমুদের দুই বোন জামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার করা হয়েছে। তার বাবা বিল্লাল হোসেন এবং এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন মিলে ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনে প্রভাব খাটাতেন।
তার পিও মাহফুজুল আলমের বিরুদ্ধে ঘুষের তদবির, ব্যক্তিগত কম্বল বিতরণে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় এবং বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। পূর্ববর্তী তদন্তের অগ্রগতিএর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ১৫০ জন কর্মকর্তা পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৪ সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করেছিল দুদক। নতুন এই বহুমাত্রিক অভিযোগটি যুক্ত হওয়ায় এখন তদন্তের পরিধি অনেক বড় আকারে বিস্তৃত করা হয়েছে।
এমএইচ
আরও পড়ুন










