ঢাকা, রবিবার   ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, || পৌষ ১ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

করদাতাদের প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যানের কৃতজ্ঞতা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৪:৩৮ ২১ নভেম্বর ২০১৯

আয়কর মেলায় স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহনের জন্য করদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, দেশের সকল সামর্থবানদের আয়কর প্রদান করা নৈতিক দায়িত্ব। 

মেলার মতো হয়রানিমুক্ত কর সেবা আয়কর অফিসেও পাওয়া যাবে। ঝামেলাবিহীনভাবে কর রিটার্ন জমা দেয়ার অনুকূল পরিবেশ পাওয়ার কারণে করদাতারা আয়কর মেলাকে নির্ভরযোগ্য মনে করেন বলেও তিনি জানান। 

সাত দিনব্যাপী আয়কর মেলার শেষ দিন বুধবার (২০ নভেম্বর) মেলা প্রাঙ্গনে বৃহৎ আয়কর ইউনিটের (এলটিইউ) আওতাধীন ২১টি ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ২৯৩ কোটি টাকার আয়করের পে-অর্ডার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এনবিআর চেয়ারম্যানের হাতে হস্তান্তরকালে তিনি এ কথা বলেন। 

কর-জিডিপির আনুপাতিক হার বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমাদের কর-জিডিপি ১০ থেকে এখন ১১ শতাংশ। আগামী ২০২৫ সালে ১৫ শতাংশে এবং ২০৩০ সালে তা ২০ শতাংশে নিয়ে যেতে চাই। এ জন্য সবার সহোযোগিতা প্রয়োজন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আয়কর মেলা আজ (বুধবার) শেষ হলেও ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কর অঞ্চলে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়া যাবে। মেলার পরিবেশে যেন কর অফিসগুলোতে করদাতারা করসেবা গ্রহণ করতে পারেন, সে জন্য কর বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়েছি। 

আমরা করের আওতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছি, করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করছি। আয়কর মেলা আয়োজন তারই একটি অংশ। এ বছর ব্যক্তি পর্যায়ের সর্বোচ্চ করদাতা সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। তিনি ৩০ কোটি টাকারও অধিক আয়কর দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। 

এর আগে, সপ্তাহব্যাপী (১৪-২০ নভেম্বর) দশম আয়কর মেলার শেষদিনেও করদাতাদের পদচারণায় মুখর ছিল মেলা প্রাঙ্গন। বুধবার সকালে মেলা শুরুর নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার অনেক আগেই করদাতাগণ মেলা প্রাঙ্গনে হাজির হতে থাকেন। 

করদাতাদের সুবিধার্থে  সকাল ৮টা থেকেই মেলার কার্যক্রম শুরু করা হয় এবং বিকাল ৫টার পরিবর্তে বিরতিহীনভাবে রাত ৮টা পর্যন্ত কর সেবা প্রদান করা হয়। বর্ধিত নির্ধারিত সময়ের পরেও রিটার্ন বুথগুলোতে কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। প্রচন্ড ভীড় থাকা সত্ত্বেও সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে রিটার্ন জমা দিতে পেরে করদাতাদের মুখে ছিল স্বস্তির ছাপ। 

আয়কর মেলার ইতিহাসে এ বছর রেকর্ড সংখ্যক আয়কর রিটার্ন (৬,৫৫,০৯৫টি) দাখিল, আয়কর জমা এবং করদাতাদের উপস্থিতির লক্ষ্য করা গেছে। 

এ বছর সর্বমোট ৬,৫৫,০৯৫ জন করদাতা তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। গত বছর  যেখানে দাখিলকৃত রিটার্ন সংখ্যা ছিল ৪,৮৭,৫৭৩। এবারের আয়কর মেলায় কর আহরিত হয়েছে ২,৬১৩ কোটি ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৬৮ টাকা যা পূর্ববর্তী  বছরে ছিল ২৪৬৮ কোটি ৯৪ লক্ষ ৪০ হাজার ৮৯৫ টাকা। শুধু শেষ দিনে ১ লাখ ১৫ হাজার ১৮৫টি রিটার্ন এবং সংগৃহীত আয়করের পরিমান ৫৯৭,০১,৬৪,৫৪৮ টাকা।

এবারের মেলার বিশেষ আকর্ষণ ছিল মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা। এছাড়া ই-পেমেন্টের মাধ্যমে করদাতাগণ রকেট, নগদ, বিকাশ, ইউপে শিওর ক্যাশ, ক্রেডিট এবং ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে  তাদের আয়কর জমা দিতে পেরেছেন।  আয়কর মেলায় ৭ দিনে ই-পেমেন্টে ৬,৪২০ জন সেবাগ্রহণকারী ৪ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকা কর প্রদান করেছেন। 

এআই/                                                                   

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি