ঢাকা, শুক্রবার   ১৫ জানুয়ারি ২০২১, || মাঘ ৩ ১৪২৭

করোনায় জয়ী হওয়ার সহজ উপায়

ডাঃ মোঃ আইয়ূব আল মামুন

প্রকাশিত : ১৫:২৫, ১১ জুন ২০২০ | আপডেট: ১৩:০৭, ১৩ জুন ২০২০

ডাঃ মোঃ আইয়ূব আল মামুন

ডাঃ মোঃ আইয়ূব আল মামুন

করোনা একটি আরএনএ (RNA) ভাইরাস। এটা একটি প্রোটিন কণা যার উপরে একটি চর্বির প্রলেপ আছে, ফলে ভাইরাসটি খুব সহজেই নাখ, মুখ, চোখের ঝিল্লি (Mucous membrane) দিয়ে শরীরের ভিতরে ঢুকে পড়তে পারে। এটি একটি খণ্ডিত বা অপূর্ণ ভাইরাস। একবার শরীরে ঢুকলে ভাইরাটির জিনোম শরীরের জিনোমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে এবং পরিপূর্ণ একটি ভাইরাস তৈরী করে। এ জিনোম জিনোমে সম্পৃক্ততা (interaction)-এর সময় অনেক ক্ষেত্রে মিউট্যান্ট স্ট্রেন-এর আর্বিভাব হওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হয়, ফলশ্রুতিতে অনেক সময় অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রকৃতির স্ট্রেন আর্বিভূত হয়। সার্স (SARS) নামের একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর স্ট্রেন ২০০১ সালে সারা বিশ্বে মহামারী আর মার্স (MERS) নামে অপর একটি ক্ষতিকর স্ট্রেন ২০১২ সালে মধ্যপ্রাচ্যে মহামারী সংক্রমণ করেছিল। বর্তমান কোভিড-১৯ ভাইরাসটি করোনা ভাইরাসের চরম পরিবর্তিত অবস্থা, যা অতি ছোঁয়াচে, সংক্রমণক্ষম ও অধিকতর ক্ষতিকারক।

এই করোনা ভাইরাসটির গঠনে চর্বির আবরণ থাকায় এটি খুব সহজেই শরীরে ঢুতে পড়তে পারে এবং অতি ছোঁয়াছে হওয়ায় একজন হতে কাছের অনেক জনকে এবং এভাবে আক্রান্তরাও স্বল্প সময়ের মধ্যে অনেকজনকে সংক্রমণ করতে পারে বিধায় অসুখটি জ্যামিতিক হারে বেড়ে অনেক লোককে সংক্রমণ করতে পারে, আর ভাইরাসটি অত্যন্ত ক্ষতিকর হওয়ায় এটি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে প্রদাহ করে, অন্য ভাইরাসের তুলনায় অনেক জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে এবং প্রাণহানি ঘটিয়ে থাকে। চীনের হুবেই প্রদেশে শুরু হয়ে ভাইরাসটির সংক্রমণ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বর্তমানে এটি মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে।

ভাইরাসটির গঠন প্রকৃতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তণশীল হওয়ায় এর বিরুদ্ধে কোন কার্যকরী ওষুধ নেই বা কোন ভ্যাকসিনও আবিস্কার হয়নি। তাই সংক্রমণ রোধে সচেতন হওয়া ও ব্যবস্থা গ্রহণ করাই ভাইরাসটির মহামারী প্রকোপ হতে বাঁচার প্রধান উপায়। 

ভাইরাসটি আক্রান্ত রোগীর হাঁচি, সর্দি, কাশির ও হাতের ছোঁয়ার মাধ্যমে ছড়ায়। হাঁচি, সর্দি, কাশি হতে যে জলীয় কণা (hydrodrop) তৈরী হয়, তা কোন সুস্থ ব্যক্তির (যদি অর্ধ মিটার দূরত্বের মধ্যে থাকে) নাক, মুখ, চোখের ঝিল্লিতে ঢুকে পড়লে সে আক্রান্ত হয়। এই জলীয় কণাগুলো বাতাসে কয়েক ঘন্টার মত ভেসে থাকতে পারে এবং নিঃশ্বাসের সাথে নাকে ঢুকে সংক্রমণ করতে পারে। এছাড়া ঐ জলীয় কণাগুলো বাতাসের ধুলিকণায় আশ্রয় নিয়ে ভারী কণায় পরিণত হয় এবং এক সময় তা মানুষের নিত্য ব্যবহার্য জায়গায় বা জিনিষপত্রে স্থিত হয় এবং ঐ সব জায়গায় সুস্থ ব্যক্তি স্পর্শ করলে তা হাতে চলে আসে। এছাড়া যত্র তত্র হাঁচি-কাশি ফেললে (যেমন- দরজা, জানালা, বারান্দা, লিফট ইত্যাদি) ভাইরাসটি সেখানে স্থিত হয়, কোন সুস্থ্য ব্যক্তি ওখানে হাত দিলে ভাইরাসটি হাতে লেগে যায় এবং পরবর্তীতে ঐ অপরিস্কার হাত ঐ সুস্থ ব্যক্তির নাকে, মুখে লাগলে সে আক্রান্ত হতে পারে। অথবা আক্রান্ত রোগীর হাতের স্পর্শ সুস্থ ব্যক্তির নাকে মুখে লাগলেও সে আক্রান্ত হতে পারে।
 
আর আক্রান্ত ব্যক্তির নাক মুখে হাতের ছোয়া লাগলে ভাইরাসটি হাতে চলে আসে ও সে কোন সুস্থ ব্যক্তির সঙ্গে করমর্দন বা কোলাকুলি করলে ভাইরাসটি তার হাতে চলে যায়। পরবর্তীতে সে হাত দিয়ে নাক, মুখ ঘষাঘষি করলে সে আক্রান্ত হয়। আবার আগের মতো ভাইরাসটি কোন জায়গায় স্থিত হলে এ জায়গাগুলোতে হাতের স্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাসটি হাতে চলে আসে আর তা নাকে মুখে হাত ঘষার মাধ্যমে ছড়ায়।

এছাড়া আরো অনেক পথে ভাইরাসটি ছড়ায় বলে ধারণা করা হয় যার সব কিছু এখনো জানা যায়নি। আর প্রেগন্যান্সি-তে ভাইরাসটি বাচ্চার শরীরে সংক্রমণের আশংকা কম, তবে সঠিক তথ্য জানা নেই। আক্রান্ত মা বাচ্চাকে দুধ পান করালে বাচ্চাদের সংক্রমণের বিষয়ে কোন তথ্য জানা নেই।

উপসর্গ সমূহঃ এটি একটি ভাইরাল অসুখ। অনেক ক্ষেত্রেই অসুখটির কোন উপসর্গ প্রদর্শন করে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মৃদু লক্ষণ যেমন-সর্দি, কাশি, হাচি, হালকা জ্বর, গলা ব্যাথা ইত্যাদি দেখা যায়, যেগুলো আপনা-আপনি সেরে যায়। এই ভাবে প্রায় ৮০-৯০% রোগী সেরে যায়। ১০-১৫% রোগীর ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা যায়। যেমন রোগীর শ্বাস কষ্ট হয় এবং অনেকের শরীরের অন্য অঙ্গ সমূহ আক্রান্ত হইয়া ক্রিটিকালি অসুস্থ হইয়া পরে। এমনকি রোগীর অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। শ্বাস তন্ত্র আক্রান্ত হয়ে রোগীর নিউমোনিয়া তথা ARDS ডেভেলপ করে এবং একাধিক অঙ্গ (organ) আক্রান্ত হলে সেগুলো বিকল হয়ে যায়। সাধারণত বয়স্ক রোগী ও যাদের বার্ধক্যজনিত অন্যান্য অসুখ থাকে, যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, হৃদরোগ, ক্যান্সার থাকে তাদের ক্ষেত্রে জটিল উপসর্গগুলো দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

ভাইরাসটি সংক্রমণ রোধের উপায়: হাঁচি, কাশির মাধ্যমে অথবা হাতের স্পর্শে যাতে ভাইরাসটি না ছড়ায় সে লক্ষ্যে এ বিষয়গুলির উপরে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যথা- (১) বিশ সেকেণ্ড সময় নির্দিষ্ট করে সাবান দিয়ে বার বার হাত ধোয়া, (২) হাঁচি কাশির সময় টিস্যু বা রুমাল ব্যবহার করা এবং ব্যবহৃত টিস্যু নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং সম্ভব হলে পুড়িয়ে ফেলা, (৩) মাস্ক ব্যবহার করা, (৪)হাত দিয়ে নাক মুখ না ঘষা, (৫) হাঁচি, কাশি যখন তখন না করা ও যত্র তত্র না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা, (৬) হাঁচি কাশির রোগী এড়িয়ে চলা, (৭) কোলাকুলি বা করমর্দন না করা।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন সমূহ: বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা ভাইরাসটির সংক্রমণের পথ এবং বিস্তার বিবেচনা করে এটির সংক্রমণ রোধের জন্য বিভিন্ন গাইড লাইন তৈরী করেছেন। এই গাইড লাইনে সংক্রমণ রোধে আগের উপদেশমালা মেনে চলার সঙ্গে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ও সামাজিক দূরত্ব কমপক্ষে ৩ ফিট বজায় রেখে চলার উপরে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

বিশেষ করে কমপক্ষে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকলে শরীরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাছে এ ভাইরাসটি পরাস্ত হয়ে নিস্ক্রিয় হয়ে যায়, ফলে সে করোনামুক্ত হয়ে যায় এবং ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তাছাড়া কোয়ারেন্টাইন সময়ে পৃথক বা আলাদা থাকে বিধায় সে ভাইরাসটিও ছড়ায় না। আর সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলে আক্রান্ত ব্যক্তি হতে ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা কমে যায়।
 
এই নিয়মকানুনগুলো আক্রান্ত রোগী, সংক্রামক উপসর্গে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং সুস্থ ব্যক্তি- সবারই মেনে চলা আবশ্যক। কেননা সুস্থ ব্যক্তি জানেনা সে নিজে ভাইরাসটি বহন করছে কিনা, তাই সে নিজের অজ্ঞাতেই অন্যকে সংক্রামিত করতে পারে অথবা নিজে সংক্রমিত হতে পারে।

এই নিয়মকানুনগুলো মেনে চলা খুব একটা কষ্টসাধ্য কাজ নয়। প্রয়োজন প্রতি ব্যক্তির সচেতন আচরণ এবং এভাবে সমাজের সকল ব্যক্তির মধ্যে সচেতনতা জাগ্রত করে কর্মসূচিগুলো পালন করা। এইভাবে প্রতিজন এবং সমাজের সকল ব্যক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে উপরোক্ত নিয়মগুলো বিশেষ করে কোয়ারেন্টাইন কর্মসূচী যথারীতি পালন করলে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চললে ভাইরাসটির বিস্তার রোধ করা সম্ভব। কোন একজনের একক প্রচেষ্টায় এর কোন সুফল আসবে না। এর জন্য প্রয়োজন সকলেরই সচেতন এবং দায়িত্ববোধ সহকারে প্রতিটি কর্মসূচী পালন করা। এই সচেতনতা জাগ্রত করতে ও যথাযথ নিয়ম পালনের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে গণমাধ্যমগুলো প্রচারণার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ও অবদান রাখতে পারে।

গণমাধ্যমের ভূমিকাঃ রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র, ডিজিটাল মিডিয়া, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো ইত্যাদি বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিনিয়ত সম্প্রচার করে জনগণের সম্মুখে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের উপায়, উপসর্গ, জটিলতা বিভিন্ন চিকিৎসার সুযোগ ও প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে জনগণকে সচেতন করতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। প্রতিথযশা চিকিৎসক, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি এমনকি শিল্পী, শিক্ষাবিদ, খেলোয়াড় ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে এই রোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখা যেতে পারে। এই পরিচিত ও বিশিষ্ট লোকের বক্তব্য শুনলে জনগণের মধ্যে আস্থা বাড়ে ও নিয়মগুলো মেনে চলার ক্ষেত্রে উৎসাহ পায়। অনেক সময় উদ্বুদ্ধ করতে এ বিষয়গুলোর উপরে বিভিন্ন ধরনের গান বাজনা, কার্টুন ও নাটিকা ইত্যাদি সম্প্রচার করা যেতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসন লিফলেট, মাইকিং-এর মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ভূমিকা রাখতে পারে এবং প্রশাসণ যন্ত্রের প্রতিটি ব্যক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিষয়টির গুরুত্ব উল্লেখ করে প্রচার করতে পারে এবং প্রতিজনকে বিশেষ করে কোয়ারেন্টাইন ও সংক্রমণ রোধের উপায়গুলোর বিষয়ে ওয়াকিবহাল করতে পারে। মসজিদে, মন্দিরে মাইকিংয়ের মাধ্যমেও সবাইকে সচেতন করা যেতে পারে। তাছাড়া গণমাধ্যম আক্রান্ত রোগী ও চিকিৎসকদের করণীয় ও হোম কোয়ারেন্টাইন, লকডাউন ইত্যাদি বিভিন্ন কার্যক্রম বিষয়েও প্রচারণা করে জনগণকে সচেতন ও উক্ত কার্যক্রমে সঠিকভাবে অংশ গ্রহণের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। 

কেউ সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হলেই তার করোনা হয়েছে, এটা মনে করা সমীচীন নয়। কেননা এখন ঋতু পরিবর্তনের সময়, তাই এটা কমন ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা হওয়ার সম্ভবনাই বেশি। তবুও এই লক্ষণ দেখা দিলে উক্ত রোগীকে সর্তকতামূলক নিজ থেকেই কোয়ারেন্টাইনে থাকা উচিৎ। কোনক্রমেই আতঙ্কগ্রস্ত হওয়া উচিৎ নয়। আর দশটা ফ্লু অসুখের মত করোনা ভাইরাস অসুখটিও আপনা আপনি (৮০-৯০%) সেরে যায়। মৃদু লক্ষণ থাকলে বাড়িতে বসে সংক্রমণের চিকিৎসা নেয়া অথবা হেল্প লাইন-এর মাধ্যমে পরামর্শ নেয়া যেতে পারে। আর জটিল হলে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করে চিকিৎসা নিতে পারে। তাকে বুঝতে হবে যে, এই দূঃসময়ের মধ্যেও চিকিৎসা যন্ত্রের সকল ব্যবস্থা তার জন্য খোলা আছে এবং তাকে অসহায় বলে আতংকগ্রস্ত হওয়ার কোন কারণ নেই। আর এই অসুখটি নিয়ে লুকানোর কিছুই নেই অথবা অসুখটি নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো উচিৎ হবে না, কেননা এ ক্ষেত্রে সে নিজে যেমন চিকিৎসার সুবিধা থেকে একদিকে বঞ্চিত থাকবে অন্যদিকে যত্র তত্র ভাইরাসটি ছড়িয়ে বেড়াবে। অসুখটি যেহেতু অতি ছোঁয়াচে তাই তাকে কোয়ারেন্টাইন বিধিমালা সতর্কভাবে মেনে চলতে হবে, তাকে বুঝতে হবে যে হেলাফেলা করলে তার নিজের পরিবারেরই কেউ আক্রান্ত হয়ে জটিলতায় ভুগতে পারে। আত্মীয়-স্বজন ও সমাজের অন্যদের উচিত কেউ করোনা আক্রান্ত হলে তার সাথে আন্তরিক ব্যবহার করা, তাকে মানসিক ভাবে আশ্বস্ত করা ও রোগটির গতিবিধি সম্পর্কে বুঝিয়ে বলা আর হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য উপদেশ দেয়া ও প্রয়োজনে চিকিৎসার জন্য সহায়তা করা। তাছাড়া হয়তো সে মানসিকভাবে আরো ভেঙে পড়তে পারে, এমনকি পালিয়ে গিয়ে নিজেকে যেমন চিকিৎসা হতে বঞ্চিত করে থাকে। সেইসাথে ভাইরাসটি যত্রতত্র ছড়িয়ে সামাজিক সংক্রমণ বৃদ্ধি ও অন্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা টেষ্ট শুরু হয়েছে। তাই আক্রান্ত রোগী অথবা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় এই পরীক্ষাটি করে প্রকৃত অবস্থা জেনে নেয়া উচিৎ।
 
একজন রোগী অসুখের ক্ষেত্রে স্রষ্ঠার পরে ডাক্তারের উপরে নির্ভর করে এবং অন্তিম মুহূর্তে ডাক্তারের হাতের সেবা একান্তভাবে কামনা করে। আর এ মহামারীর সময়ে ডাক্তাররা সব সময় রোগীদের পাশে থাকবে এটাই সমাজের সকলেরই প্রত্যাশা। অতীতের ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, নব্বইয়ের অভ্যুত্থান ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশ গ্রহণের মতো এবারও ডাক্তাররা এগিয়ে আসতে এতটুকুও পিছুপা হয়নি, শুরুতে যা অনেকটা খালি হাতে যুদ্ধ করার মতোই ছিল। এই সেবা করতে গিয়ে অনেক ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়ে জীবনের ঝুঁকিতে পড়েছেন এবং অনেকের জীবনাবসানও ঘটেছে। সরকারি পর্যায় ছাড়াও অনেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী বেসরকারিভাবে এমন কি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন করে নীরবে নিভৃতে প্রতিনিয়ত নিরলসভাবে সেবাগুলো দিয়ে যাচ্ছেন। 

টেলিফোন হেল্পলাইন, ফেসবুক ইত্যাদি ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে রোগীদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বিদ্যমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জামের অপ্রতুলতার মধ্যে চিকিৎসকদের এই সেবাব্রতী প্রচেষ্টাকে এই ক্রান্তিলগ্নে জাতি এক মূল্যবান অবদান হিসেবে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এ প্রচেষ্টায় জাতি একদিন করোনাবিরোধী এই মহারণে অবশ্যই বিজয়ের সাফল্য পাবে।

হোম কোয়ারেন্টাইন-এর গুরুত্ব: ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে সারা বিশ্বে হোম কোয়ারেন্টাইন-এর ওপরে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দেশে জরুরী আইন, কারফিউ, লকডাউন, সরকারি ছুটি ইত্যাদি ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো- প্রতিটি বাড়ির প্রতি জনকে ঘরের মধ্যে পারিবারিক পরিবেশে ঘরোয়াভাবে থেকে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা। বৃহৎ আকারে সমাজের প্রতিটি লোককে সংযুক্ত করা যায় বলে এটি ভাইরাস সংক্রমণ রোধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায়। এখানে ভাইরাস আক্রান্ত কেউ নির্ধারিত সময়ে কোয়ারেন্টাইনে থাকলে সে আপনা আপনি সেরে যায় ও তার শরীরের ভিতরের ভাইরাসগুলো ধ্বংস হয়ে নিস্ক্রিয় হয়ে যায়। ঘরের ভিতরে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলায় পরিবারের অন্যদের সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে না। 

এখানে নিয়ম হলো- প্রত্যেকে আলাদা কক্ষ ব্যবহার করা এবং আলাদা বাথরুম ব্যবহার করা। কোন বাড়িতে লোকজন বেশি থাকলে খাট, মেঝে, বারান্দা মিলে তিন ফুট দূরে দূরে থাকলে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টিও মিটে যায় এবং সম্ভব হলে আক্রান্ত ব্যক্তি সবার পরে টয়লেট ব্যবহার করবে এবং ব্যবহার শেষে প্রচুর পানি ঢালবে ও ডিটারজেন্ট ব্যবহার করবে। বাড়ির বয়স্ক ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থ লোকদের দিকে বেশি নজর রাখা উচিত। কেউ বেশি অসুস্থ হলে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারে এবং সেখানে কোয়ারেন্টাইনে যেতে পারে এবং প্রয়োজনবোধে অন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিতে পারে। বিশেষ করে যারা সম্প্রতি বিদেশ থেকে এসেছে অথবা তার সংস্পর্শে এসেছে অথবা দেশের ভিতরে এক জায়গা হতে অন্য জায়গায় চলাচল করেছে তাদের স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাইনে যাওয়া উচিৎ। 

দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রতিজন আক্রান্ত রোগীকে ভাইরাস মুক্ত করতে এবং সংক্রমণ রোধে একসঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় সুযোগ করে দেয় বিধায় হোম কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টি অনেক গুরুত্ব বহন করে। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় অফিসিয়াল কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ বিভিন্ন ডিজিটাল মিডিয়া যেমন- টেলিফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ইত্যাদি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় ও জরুরী অফিসিয়াল কাজগুলো করতে পারে। একান্ত জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া পরিহার করা উচিৎ, কোন বিশেষ কারণে বাইরে গেলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসায় প্রবেশ করবে। 

মনে রাখতে হবে, হোম কোয়ারেন্টাইনে যাওয়া কোন লজ্জার বিষয় নয় বা সামাজিকভাবে হেনস্তা হওয়ার কিছু নয় বা এটিকে জেলে আবদ্ধ থাকার মতো মনে করার বিষয় নয়। এখানে নিজে যেমন সুস্থ হওয়া যায়, তেমনি নিজের আপন জন তথা দেশবাসীকে সুস্থ রাখার সুযোগ করে দেওয়া যায়। বিপরীতক্রমে হোম কোয়ারেন্টাইনে কেউ অন্যথা করলে পরিণতিতে সে যেমন নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে দেয়, তেমনি মনে হয় সে যেন নিজের অজান্তে নিজের কাউকে হত্যার মানষে শাণিত তলোয়ার উন্মোচণ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই প্রতিটি নাগরিকের উচিৎ হোম কোয়ারেন্টাইনের কর্মসূচী যথাযথভাবে পালন করে নাগরিক হিসেবে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়া। যা এই মুহূর্তে জাতির একটি চরম প্রত্যাশা। আর এটা বাস্তবায়নের সফলতার উপরে পুরো সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনার সাফল্য নির্ভর করছে। 

লকডাউন বিষয়ে সচেতনতাঃ কোন এলাকায় করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে, করোনা পরীক্ষার রিপোর্টে বেশি ধরা পড়লে বা করোনা রোগীর মৃত্যু সংখ্যা বেশি হলে ঐ এলাকা লকডাউন ঘোষণা দেয়া হয়। লকডাউন চলাকালীন সময়ে উক্ত এলাকায় বাহিরের কোন লোকের প্রবেশ এবং উক্ত এলাকার ভিতরের লোকদেরও বাহিরে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়। আর ঐ এলাকার লোকদের মনে করতে হবে যে, তারা মহামারী প্রাদুর্ভাবের কিনারায় রয়েছে। তাই ওই এলাকার প্রতিটি লোকের এবং সকলের উচিৎ সচেতনতার সাথে হোম কোয়ারেন্টাইন কর্মসূচী বাধ্যতামূলক বাস্তবায়ন করা। নিতান্ত জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে না বেরোনো ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা, গণ জমায়েত ইত্যাদি পরিহার করা। এক্ষেত্রে আইনশৃংখলা বাহিনী প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য অনেক সময় জরুরী প্রয়োজনে সরকার আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োগ করে থাকে। আইন শৃংখলা বাহিনীর কর্তব্য লোকজনকে শৃংখলা মানতে বাধ্য করা, গণজমায়েত রোধে ব্যবস্থা নেওয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে বাধ্য করা ও এসব বিষয়ে সজাগ করা, এগুলোর প্রয়োজনীয়তা বোঝানো ও মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা। মাইকিং করে, বন্ধুসুলভ আচরণ করে এবং প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করে তথা নরম গরম আচরণের মাধ্যমে এই কর্মসূচীগুলো বাস্তবায়নে জনগণকে সচেতন করে দেয়া।

এই ভাইরাসটি আক্রান্ত রোগী হতে সুস্থ ব্যক্তির মধ্যে ছড়ায়। অনেক সময় আক্রান্ত রোগীর কোনও লক্ষণ প্রকাশ পায় না। রোগটি যেহেতু অতি ছোঁয়াচে তাই জনসমাবেশে গেলে সে নিজের অজ্ঞাতেই অনেককে সংক্রমণ করে ফেলতে পারে। এজন্য যেভাবেই হোক রোগী, সুস্থ ব্যক্তি সবাইকে গণজমায়েত যেমন- হাট বাজার, সুপার মার্কেট, ধর্মীয় উপসনালয় ইত্যাদি জায়গায় যাওয়া হতে বিরত থাকা একান্ত প্রয়োজন।

ব্যক্তি সচেতনতা: ভাইরাসটি শরীরে ঢুকলে শারীরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভাইরাসটিকে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরাস্ত করে নিস্ক্রিয় করে দেয়। তাই শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সুষম খাদ্য (প্রোটিন, ভিটামিন, ফলমূল) গ্রহণ করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সতেজ রাখার ব্যাপারে সচেতন হওয়া দরকার।

মানসিক সচেতনতা: সুস্থ দেহ সুস্থ মন (A sound mind in a sound body)। অতএব বিশ্বব্যাপি এই মহামারীর সময়ে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হবে ও সতেজ রাখতে হবে। এ জন্য রেডিও টেলিভিশনে বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখে, ধর্মীয় কার্যকলাপের অনুশীলন করে, বই পড়ে, খেলাধুলা করে, হালকা ব্যায়াম করে মানসিক স্বাস্থ্যকে অটুট রাখা যেতে পারে। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও ভালো থাকে।

গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়া: এই সময়ে এই ভাইরাস নিয়ে দেশের আনাচে কানাচে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে থাকে। যেমন- থানকুনি পাতা, গায়েবি ওষুধ, বিভিন্ন হারবাল ওষুধ ইত্যাদি নিয়ে বিভিন্ন গুজব বাজারে আসে। তাছাড়া অনেক ব্যক্তির ও অনেক অসর্মথিত প্রচার মাধ্যমেও অনেক ভিত্তিহীন খবর চলে আসে। এগুলোতে সাধারণ জনগণ বিভ্রান্ত ও আতংকিত হয়, অনেক সময় অপচিকিৎসার খপ্পড়ে পড়ে। সত্যিকার প্রচার মাধ্যমে সচেতনভাবে নজর দিলে বিষয়টি এড়ানো যায়।

করোনা ভাইরাস সারাবিশ্বে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব হিমশিম খাচ্ছে এই মহামারী নিয়ন্ত্রণ করতে। ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। আমাদের সরকার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে এবং দেশের অধিকাংশ এলাকায় লকডাউন জারি করেছে। লক্ষ্য হলো- এই সময়ের মধ্যে দেশে যেসব ভাইরাস আক্রান্ত রোগী আছে, তাদের শরীর হতে ভাইরাসগুলো নির্মূল হয়ে যাবে এবং সামাজিক সংক্রমণও বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে এক সময় দেশ করোনামুক্ত হবে তথা দেশের বাতাস বিশুদ্ধ হবে। এ লক্ষ্যে আমরা সবাই  সচেতনমূলক ও দায়িত্বশীলভাবে স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব ও কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম-বিধিগুলো মেনে চললে এই ভাইরাসটির মহামারীর ঊর্ধ্বগতির লাগামটি টেনে ধরে নামাতে পারবো বলে আশা করি। 

এখানে সবারই সচেতনভাবে বুঝতে হবে যে, সার্বিকভাবে এই দায়িত্ব পালন করলে এই কর্মসূচীর সাফল্য আসবে। যে কেউ বা কিছুজন এই দায়িত্ব পালনে ন্যুনতম অবহেলা করলে পুরো কর্মসূচিটি বিফলে চলে যেতে পারে। ফলে করোনার মহামারী করাল গ্রাস হতে মুক্তি পেয়ে আমাদের বের হয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়বে।

প্রয়োজনে দেশের যুবসমাজকে সচেতন করে পাড়ায়, মহল্লায় সংঘঠিত করে অথবা কমিটি গঠন করে এই কর্মসূচীগুলোতে  সকল জনগণকে সম্পৃক্ত করে বাস্তবায়নের জন্য পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। এছাড়াও আনসার, ভিডিপি, গ্রাম পুলিশ ইত্যাদি প্রান্তিক পর্যায়ের কর্মচারীদের সচেতন করে এই কমসূচিগুলো বাস্তবায়নের জন্য কাজে লাগানো যেতে পারে। 

বিভিন্ন এনজিও সংগঠন যেমন- ব্র্যাক, গ্রামীন ব্যাংক, আশা এছাড়া অন্য সমবায় ভিত্তিক সংগঠগুলোকেও সম্পৃক্ত করে তাদের সংগঠনভূক্ত সদস্যদের প্রণোদনা দেয়া সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে। সমাজের বিত্তশীল লোকদের এখন একটু বেশী সচেতনমূলক দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ক্ষুধার তাড়নায় সমাজের ভাসমান, নিম্ন ও স্বল্প আয়ের লোকেরা যাতে রাস্তায় নেমে এসে কর্মসূচিগুলি ব্যহত না করে সে দিকটিতে এ সময় তাদের নজর দেয়া একান্ত প্রয়োজন। আর বর্তমান লকডাউনের কারণে খাদ্যাভাবে আমাদের আশেপাশের প্রাণীকূল, জীব জন্তুর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে গেছে, তারা যাতে বেঁচে থাকে সেদিকটাতেও সবার খেয়াল রাখতে হবে।

এখানে একটি বিষয় অতি গুরুত্বপূর্ণ এই যে আমাদের দেশটি বিশ্বের একটি অন্যতম ঘনবসতি এলাকা। তাই সংক্রমণ রোধে প্রথম থেকেই আমরা সবাই সচেতন হয়ে যথেষ্ট ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে ভাইরাসটি দ্রুত সংক্রমণ করে আমাদের গোটা জনপথকে ভয়াল থাবায় গ্রাস করতে পারে এবং সংক্রমণটি চরম মহামারি রুপ নিতে পারে।

সর্বোপরি করোনা ভাইরাসের এই মহামারী রোধের বিষয়টি প্রাধাণ্য দিয়ে আমাদের সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে নির্দেশিত কর্মসূচিগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে  যথেষ্ট সচেতন একং দায়িত্বশীল ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এবং এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে এ সকল কর্মসূচীর সমন্বয় করে হোম কোয়ারেন্টাইন, লকডাউন ইত্যাদি কর্মসূচীকে গুরত্ব দিয়ে বাস্তবায়নের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছে। আর এই কর্মসূচীর মূল সাফল্য নির্ভর করছে জনগনের সচেতন অংশ গ্রহণের উপরে।

পরিশেষে এই প্রাণঘাতী করোনার ভয়াল থাবায় বিশ্বে দেখা দিয়েছে মৃত্যুর মহামারী, স্থবির হয়ে গেছে অর্থনীতির চাকা, প্রাণহীন হয়ে পড়েছে কর্মের প্রাণচাঞ্চল্য। এই মুহূর্তে আমরা সবাই আন্তরিক ভাবে কাছে থেকে, শারীরিকভাবে দূরে থেকে, আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইনে রেখে এবং নিজে ঘরে থেকে এই পরাক্রমশালী ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হই, আশা করি কোন মরণাস্ত্র ব্যবহার না করে শুধু এই সহজ অথচ কৌশলগত উপায় অবলম্বন করে, লড়াই করে আমরা অচিরেই করোনা ভাইরাসের শরীরের চাকারমতো দম্ভযুক্ত স্পোকগুলো ভেঙ্গে ফেলে দিয়ে এ মহাপরাক্রমশালী মহাশত্রুর অনিবার্য পরাজয় দেখতে পাবো। আর মানব সভ্যতার অস্তিত্ব ও সমৃদ্ধির সূচক চাকাগুলো পুনঃরায় চালু করতে পারবো বলে দৃঢ় প্রত্যাশা করি। 

লেখক- সহযোগী অধ্যাপক, লিভার বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

এনএস/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি