Ekushey Television Ltd.

ক্রাইস্টচার্চে ছেলের জানাজায় এসে মারা গেলেন মা

প্রকাশিত : ২০:৫৩ ২৩ মার্চ ২০১৯

ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর মসজিদে গুলিতে নিহত ছেলের জানাজায় এসে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন মা। চোখের জলে ছেলে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেন ফিলিস্তিনি এই মা। শনিবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে।

গত ১৫ মার্চ (শুক্রবার) ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর ও লিনউড মসজিদে জুমার নামাজের সময় অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী সন্ত্রাসী ব্রেন্টন ট্যারান্টের বন্দুক হামলায় ৫০ মুসল্লির প্রাণহানি ঘটে। এই হামলায় মারা যান ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ৩৮ বছর বয়সী কামাল দারউইশ। তিন সন্তানের বাবা কামাল ক্রাইস্টচার্চের একটি দুগ্ধ খামারে কাজ করতেন।

তার বড় ভাই আগে থেকেই নিউজিল্যান্ডে বসবাস করে আসছিলেন। গত বছর জর্ডান থেকে ভাইয়ের কাছে আসেন কামাল। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিউজিল্যান্ডে আনার জন্য ভিসার আবেদন করেছিলেন।

সিডনিতে নিযুক্ত জর্ডান দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বলেন, ক্রাইস্টচার্চে নিহত কামালের ৬৫ বছর বয়সী মা সউদ আব্দেল ফাত্তাহ মেইসেন আদওয়ান শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পারিবারিক বন্ধু ইয়াসির মোহাম্মদ বলেন, কামালের মা শুক্রবার জর্ডান থেকে নিউজিল্যান্ডে পৌঁছেছিলেন।

ছেলের জানাজায় অংশ নেয়ার জন্য শুক্রবার নিউজিল্যান্ডে আসেন তিনি। শনিবার সকালের দিকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি; কারণ ছেলেকে হারিয়ে তিনি শোকে ভেঙে পড়েছিলেন। নিউজিল্যান্ডে তার আরো এক ছেলে রয়েছে। এখন তারা মায়ের মরদেহ জর্ডানে নেয়ার ব্যবস্থা করছেন।

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে প্রাণ হারানো আরো কয়েকজনের স্বজন হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। আল-নূর মসজিদে গুলিতে সন্তানের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সৌদি আরবের ৬১ বছর বয়সী মহসিন আল-হারবি নামের এক ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

ছেলে ও স্বামীকে হারানোর পর শোকে ভেঙে পড়েন স্ত্রী মানাল। পরে তিনিও হৃদরোগে আক্রান্ত হন। বর্তমানে হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাজেদা আক্তার নামের এক নারী ক্রাইস্টচার্চে গুলিতে আহত হন। মেয়ের আহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর বাংলাদেশে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তার মা। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আরকে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি