ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৬:০৩:০৩

Ekushey Television Ltd.
জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

চ্যালেঞ্জের মুখে ৭৫ বয়সী নানগাওয়া

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:৪০ পিএম, ৮ জুলাই ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ০৮:৩৩ পিএম, ৮ জুলাই ২০১৮ রবিবার

মাত্র কয়েক মাস আগেই রক্তপাতহীন এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেন জিম্বাবুয়ের বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাওয়া। ৩৭ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে ক্ষমতাচ্যূত করে নিজে প্রেসিডেন্ট বনে যান নানগাওয়া। সেনাবাহিনীর অকুণ্ঠ সমর্থনে ক্ষমতায় বসলেও আগামী ৩০ জুলাই দেশটিতে নির্বাচনের মাধ্যমে পাকাপোক্তভবে ক্ষমতায় বসতে চলেছেন তিনি। তবে তার সেই ইচ্ছা কিছুটা হলেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৪০ বছর বয়সী আরেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী চ্যামিসা তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মতোই তিনি কারিশমা দেখাবেন।

এএফপির সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেওয়াকালে চ্যামিসা বলেন, ‘জিম্বাবুয়ে একটি জেনারেশনাল (বংশ পরম্পরার) পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই এই ভোট তাকে খুব আশাবাদী করে তুলেছে। চ্যামিসা ঘোষণা করেন, জনগণ এখন তরুণ নেতৃত্বের পথে চলছে। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। তরুণরা সেই দায়িত্ব নিচ্ছে। ফ্রান্সের দিকে তাকান, কানাডার দিকে তাকান, নিউজিল্যান্ডের দিকে তাকান..., এবং সর্বোপরি আমেরিকার দিকে তাকান।

‘বারাক ওবামা ৪৭ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন, জাস্টিন ট্রুডো ৪৩ বছর বয়সে কানাডার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, ৩৯ বছর বয়সে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো। তারা সবাই আমার বয়সী। তারা যে লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েছে, আমিও সে লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি,’ চ্যামিসা যোগ করেন।

চ্যামিসা দেশটির মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেটিক চেঞ্জ (এমডিসি) নামের রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে দলটির সাবেক প্রধান ও চ্যামিসার গুরুখ্যাত মরগান ভ্যানগিরাইয়ের মৃত্যুর পরই দলটির দায়িত্ব নেন তিনি।

এদিকে আগামী ৩০ জুলাই দেশটির ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাওয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন তিনি। নানগাওয়ার জানু পিএফ পার্টি টানা ৩৮ বছর ধরে দেশটি শাসন করছে। এদিকে রবার্ট মুগাবের ক্ষমতাচ্যূতের বিষয়ে তিনি বলেন, মুগাবের পদত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশটিতে নতুন দিনের যাত্রা শুরু করেছে। এদিকে শুধু চ্যামিসা ই নয়, নানগাওয়ার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে তার দলেরই একাংশ।

বিশেষ করে মুগাবের কট্টর সমর্থক গোষ্ঠী নানগাওয়াকে মেনে নিতে পারছেন না। দলের একাধিক সদস্য যে নানগাওয়ার বিপরীতে অবস্থান নেবেন তা ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া মুগাবে দম্পতি ক্ষমতা থেকে সরে গেলেও তার স্ত্রী গ্রেস মুগাবে এখনও দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তাই এ দম্পত্তিও নির্বাচনে কলকাঠি নাড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুঝায় যাচ্ছে, নানগাওয়া কিছুটা হলেও অস্বস্থিতে রয়েছেন।

এর আগে গত বছরের ২১ নভেম্বর বন্দুকের নলের মুখে সরিয়ে দেওয়া হয় রবার্ট মুগাবেকে। এর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাওয়াকে বরখাস্ত করে স্ত্রী গ্রেস মুগাবেকে উত্তরসূরি করা নিয়ে মুগাবের সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয় ক্ষমতাসীন দলের। আর সেই সুযোগে ভাইস প্রেসিডেন্টের পক্ষ নিয়ে সেনাবাহিনী চলে আসে ক্ষমতার কেন্দ্রে।

মুগাবের নিজের দল জিম্বাবুয়ে আফ্রিকান ন্যাশনাল ইউনিয়ন-পেট্রিয়টিক ফ্রন্ট (জানু-পিএফ) তাঁকে সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপ্রধানের পদ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানায়। ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৮০ সালে জিম্বাবুয়েকে স্বাধীন করেছিলেন মুগাবে। তখন থেকেই তিনি দেশটির ক্ষমতায় আছেন। এ সময়ে ‘আফ্রিকার রুটির ঝুড়ি’ হিসেবে খ্যাত দেশটির অর্থনীতি ভেঙে পড়ে, সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে।

সূত্র: এএফপি
এমজে/

 

 

ফটো গ্যালারি



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি