জুলাইয়ে সড়কে প্রাণ ঝরেছে ৪১৬ জনের
প্রকাশিত : ১৪:২২, ৬ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৫:২৩, ৬ আগস্ট ২০২৬
জুলাইয়ে দেশজুড়ে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন ৬২৯ জন। নিহতদের মধ্যে ৫৭ জন নারী ও ৪৮ জন শিশু রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১০৬ জন পথচারী, যা মোট প্রাণহানির ২৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এ ছাড়া জুলাইজুড়ে ১৫৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৮ জন। মোট দুর্ঘটনার ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট, আর মোট প্রাণহানির ৩৩ দশমিক ১৭ শতাংশ ঘটেছে এসব দুর্ঘটনায়।
যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, থ্রি-হুইলার দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯৪ জন, বাস দুর্ঘটনায় ২১ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রলির দুর্ঘটনায় ১৯ জন, নসিমন, ভটভটি ও অন্যান্য স্থানীয় যানবাহনের দুর্ঘটনায় ২৬ জন, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় সাতজন এবং রিকশা ও বাইসাইকেল দুর্ঘটনায় পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন।
সড়কের ধরন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে।
মোট ১৬৯টি দুর্ঘটনা বা ৩৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ১৫৫টি বা ৩৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে, ৬৬টি বা ১৪ দশমিক ৪১ শতাংশ শহরের সড়কে, ৬১টি বা ১৩ দশমিক ৩১ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে এবং ৭টি দুর্ঘটনা অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।
সময়ের ভিত্তিতে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ২৮ দশমিক ৮২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালে। রাতে ঘটেছে ১৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ, দুপুরে ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ, বিকেলে ১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১২ দশমিক ২২ শতাংশ এবং ভোরে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি—উভয় ক্ষেত্রেই শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এ বিভাগে ১৩৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২৫ জন। মোট দুর্ঘটনার ২৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং মোট প্রাণহানির ৩০ দশমিক ৪ শতাংশই ঘটেছে এ বিভাগে।
অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে। সেখানে ২৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৪ জন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে মোট দুর্ঘটনার ২১ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং প্রাণহানির ১৯ দশমিক ২৩ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে যথাক্রমে ১১ দশমিক ৩৫ ও ১২ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ৯ দশমিক ৮২ ও ১১ দশমিক ২৯ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ৭ দশমিক ৮৬ ও ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ৬ দশমিক ৭৬ ও ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৭ দশমিক ৪২ ও ৭ দশমিক ২১ শতাংশ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রেকর্ড করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় জুলাই মাসে ৩৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে ১১টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, অতিরিক্ত গতি, চালকদের অদক্ষতা, অসুস্থতা ও বেপরোয়া মানসিকতা, নির্ধারিত বেতন ও কর্মঘণ্টার অভাব, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।
এএইচ
আরও পড়ুন










