ঢাকা, বুধবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী-গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৯:১৭, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:১৯, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার আশাবাদ জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় তিন ঘণ্টার আলোচনায় দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি, ব্যবসা-বাণিজ্যের নানা সমস্যা এবং সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।

সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শিরোনামে একটি উপস্থাপনা দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর সমাধান অল্প কয়েক মাসে সম্ভব নয়। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এখন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর্যায় চলছে।

গ্যাস সরবরাহের সাম্প্রতিক সংকটের কারণ হিসেবে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। ওই ঘটনার কারণে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব পড়ে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যা সমাধান করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আগামীকাল সন্ধ্যার মধ্যে শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ প্রায় দেড় মাস আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে তারা আশা করছেন।

গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় দেশে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) গত এক মাস ধরে এ বিষয়ে প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়েছে বলে জানান তিনি। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন টার্মিনালকে সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।

বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সমস্যাগুলোও দীর্ঘদিনের বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা চিহ্নিত করেছে এবং ধাপে ধাপে সমাধানের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি।

তার ভাষ্য, বড় কোনো পরিকল্পনা গ্রহণের পর তা বাস্তবায়নে স্বাভাবিকভাবেই সময় প্রয়োজন। তাই দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়।

সভায় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময়সীমাও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। নির্ধারিত সময়ের ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, তবে সরকারের সামনে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প ও ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে উল্লেখ করে ব্যবসায়ী সমাজকে সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত নয়; দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিও এর সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য অর্জন করতে হলে পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

সরকার সংকটের বিষয়গুলো গোপন না করে ব্যবসায়ী মহলের সামনে তুলে ধরেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। সরকার সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করছে এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এর সুফল শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নয়, পুরো দেশের মানুষ পাবে।

দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। জনগণই নির্ধারিত সময়ে সিদ্ধান্ত নেবে কার হাতে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে। তবে যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে তার ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা জরুরি। তথ্যের ঘাটতি থাকলে বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন তথ্য থেকে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট ধারণা পেলে তারা সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়গুলো আরও সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় কোনো কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে হলে একটি কার্যকর দল হিসেবে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হয়। সরকারের সংশ্লিষ্টরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছেন, যাতে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়। ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সরকারের কার্যক্রমে সহযোগিতা করলে জনগণের জন্য আরও ভালো কিছু করা সম্ভব হবে।

মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। গণমাধ্যমের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

এমএইচ 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি