ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ঝড়ে কুমিল্লায় ৩৫ ট্রান্সফর্মার নষ্ট, মিটার ভেঙ্গেছে ৫৫০টি

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৯:২৩, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

বৈশাখী ঝড়ে কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলায় বৈদ্যুতিক সংযোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে দক্ষিণের উপজেলাগুলো। ঝড়ো বাতাসে খুঁটি উপড়ে, ট্রান্সফরমার ও মিটার নষ্ট হয়ে গ্রাহকদের ঘণ্টা পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে হচ্ছে। 

বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।  কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় অনেক কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীরদের পরীক্ষা দিতে হয়েছে অন্ধকারে কিংবা চার্জার লাইট ও মোমবাতি জ্বালিয়ে।

পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব বৈদ্যুতিক সংযোগ মেরামত করা হবে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেরামত কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
 
কালবৈশাখী ঝড়ে কুমিল্লার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ৬ উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত দুই দিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অধীনে আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, লালমাই, চৌদ্দগ্রাম, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায় মোট ৭১টি খুঁটি ভেঙ্গেছে। ১০২৫টি স্পটে বৈদ্যুতিক সংযোগের উপরে গাছ পড়েছে। ৫৫০টি মিটার ভেঙেছে এবং ৭৩৮টি স্পটে তার ছিড়েছে। 

এছাড়া ছয় উপজেলায় ৩৫টি মিটার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে ২৭ হাজার গ্রাহকের। 
 
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ২৬ এপ্রিল এর পর আমরা সকল সংযোগ চালু করেছিলাম। কিন্তু ২৮ তারিখের ঝড়ে আবারো এসব সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। আমরা সেগুলো পুনরুদ্ধারে দিনরাত কাজ করছি। 

এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর চান্দিনা, দেবিদ্বার,মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলায়ও বৈদ্যুতিক সংযোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় আট ঘন্টা বিদ্যুৎহীন থাকে এসব এলাকার গ্রাহকরা। পরে বিকেল পাঁচটায় জাতীয় গ্রিডের প্রধান সংযোগটি সংস্কার করা হয় বলে জানান পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা। 

সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান জানান, ঝড়ের পর থেকে আমাদের টিম সব জায়গায় কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বুধবার রাত পর্যন্ত জানা যায়নি। 

বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি জানান, উপজেলার ভবানীপুর, এগারোগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়েছে। সেগুলো অপসারণ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।  এছাড়াও বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন আছে, সেগুলো আবারও সংযোগ দিতে কাজ করছে পল্লী বিদ্যুৎ। 

কুমিল্লায় পল্লী বিদ্যুতের ৪টি সমিতির মোট ক্ষয়ক্ষতি জানতে আরো সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া অন্যান্য ক্ষতির পরিমাণও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ দপ্তর।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি