ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ মার্চ ২০২৬

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে কমছে তেলের দাম

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১২:৪৪, ২৪ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১২:৪৬, ২৪ মার্চ ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে 'গঠনমূলক' আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবে। এরপর থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমতে শুরু করেছে।

সেইসঙ্গে পুঁজিবাজারে গত কয়েকদিনের ধারাবাহিক দরপতনের ধারাও যেন দিক পরিবর্তন করার আভাস দিতে শুরু করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট গতকাল সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, দুই দেশ একটি 'সম্পূর্ণ ও সামগ্রিক' সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করেছে, তবে ইরান এ ধরনের কোনো আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।

এদিকে, ট্রাম্পের ওই বিবৃতির পর ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল অর্থাৎ অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে, আর বিপরীতে ইউরোপীয় এবং মার্কিন শেয়ারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালির নৌপথ পুনরায় খুলে দেওয়া না হয়, তবে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো 'নিশ্চিহ্ন' করে দেবেন।

জবাবে ইরানও বলেছিল, তারা পারস্য গালফ অঞ্চলের মার্কিন সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালাবে।

শনিবার ও রোববার জুড়ে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ওইসব বক্তব্যে আর্থিক বাজার অস্থির হয়ে উঠছিল, যা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নিতে পারে - এমন আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

তেলের দাম নিম্নমুখী, শেয়ারবাজার উর্ধ্বমুখী
সোমবার এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৩ মার্কিন ডলারে উঠে গিয়েছিল, কিন্তু ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের পর তা দ্রুত নিচে নেমে আসে। এরপর ব্যারেল প্রতি সর্বনিম্ন ৯৬ ডলারে নেমে পরে আবারও সামান্য বৃদ্ধি পায়।

এদিকে, তেলের দাম কমলেও শেয়ারবাজারের সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। লন্ডনের ফাইনান্সিয়াল টাইমস স্টক এক্সচেঞ্জ এফটিএসই-১০০ সূচক সোমবার দিনের শুরুতে দুই শতাংশের বেশি পড়ে গেলেও দিন শেষে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে আসে।

জার্মানির ডিএএক্স সূচকও ঘুরে দাঁড়িয়ে এক দশমিক দুই শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দিন শেষ করেছে, আর ফ্রান্সের সিএসি সূচক প্রায় এক শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ড পি ৫০০, মানে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত শীর্ষ ৫০০ কোম্পানির কার্যক্রম দেখা হয় যে ইনডেক্সে তার সূচক এক দশমিক এক শতাংশের বেশি বেড়েছে। আর ডাও জোন্স সূচক প্রায় এক দশমিক চার শতাংশ বৃদ্ধিতে দিন শেষ করেছে।

এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলো ট্রাম্পের মন্তব্যের আগেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে বড় ধরনের ধস দেখা গেছে।

জাপানের নিক্কেই সূচক তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সাড়ে ছয় শতাংশ কমেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ফলে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ তারা তেল ও গ্যাসের জন্য ব্যাপকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল, যা সাধারণত বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কার্যত এই জলপথটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের প্রায় কুড়ি শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি সাধারণত এ প্রণালি দিয়ে পার হয়, যে কারণে এ সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামকে আকাশচুম্বী করে তুলেছে।

সূত্র: বিবিসি

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি