ঢাকা, সোমবার   ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৩:৫৯, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৪:০৮, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের এই জেলায় উচ্চশিক্ষার নতুন দ্বার উন্মোচনের প্রত্যাশা আরও জোরালো হলো।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় অতি অল্প সময়ের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য যে জায়গা পাওয়া গেছে, তা শিল্প মন্ত্রণালয় ও ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। এ জন্য ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষ ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

এসময় রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন এজন্য তাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। তারা অতি অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকি কাজগুলো শেষ করবেন।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যান ও ডিজাইন তৈরি হবে এবং দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঠাকুরগাঁও এলাকার মানুষের জন্য আজ আনন্দের দিন। কারণ আমরা একটি সুযোগ পেয়েছি। উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই এলাকার মানুষ এই উদ্যোগকে গ্রহণ করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়টিকে সত্যিকার অর্থেই একটি সেন্টার অব এক্সেলেন্স হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। শিক্ষার উন্নত মান যাতে আমরা সৃষ্টি করতে পারি, সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর ইস্রাফিল শাহিনকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি এই কাজগুলো সমাধান করার চেষ্টা করেছেন। আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের জন্য তার প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, সিন্ডিকেটে যারা আছেন, তারাও উচ্চশিক্ষিত মানুষ। অধ্যাপক মাহবুবুল্লাহ, ড. আহমেদ কামাল এবং সবার প্রিয় শিক্ষক মনোতোষ কুমার দের প্রচেষ্টায় আমি বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকি কাজগুলো দ্রুত শেষ হবে।

জনগণের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনারা এই বিশ্ববিদ্যালয় দেখে রাখবেন, খেয়াল করবেন। আপনাদের যে দাবি ছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই বিশ্ববিদ্যালয় সম্ভব হয়েছে।

সবশেষে তিনি  আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, আল্লাহ যেন এই বিশ্ববিদ্যালয় কবুল করেন এবং এটি দ্রুত সফল হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। স্থানীয়রা বলেন, পিছিয়ে পড়া ঠাকুরগাঁও অঞ্চল এখন শিক্ষার নগরীতে পরিণত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থান বাড়বে, নতুন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হবে এবং বেকারত্ব কমবে।

তারা বলেন, আমরা এই অঞ্চলের মানুষ অনেক খুশি। ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য আজকের এই দিন ইতিহাস হয়ে থাকবে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি