ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ আগস্ট ২০২৬

নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টে রায় ঘোষণা চলছে

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:৩০, ২৪ আগস্ট ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টে রায় ঘোষণা শুরু হয়েছে। আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর এই রায় দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রায় ঘোষণা শুরু হয়।

আদালতে আসামিদের পক্ষে উপস্থিত রয়েছেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

এর আগে গত ২০ আগস্ট নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শেষ হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হলেও নুসরাত এতে রাজি হননি। এর কয়েক দিন পর, ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে তাকে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

গুরুতর দগ্ধ নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার পর ঢাকায় নেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তিনি মারা যান। পরে তাঁর বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। তদন্তের পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দেন। রায়ে তৎকালীন মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সিরাজ উদদৌলা, রুহুল আমিন, মাকসুদুল আলম, হাফেজ আবদুল কাদের, আফসার উদ্দিন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান, মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট শাখায় নথিপত্র পৌঁছালে এটি ১৪০/১৯ নম্বর ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পৃথকভাবে আপিল ও জেল আপিল করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও অন্যান্য বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি বর্তমান হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন। বেঞ্চটি ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে।

এখন হাইকোর্টের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে নুসরাত হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে কি না এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে।

এমএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি