ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২০:১৯:৪১

Ekushey Television Ltd.

ফেনীতে ভাসমান বীজতলা তৈরিতে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে

নুর উল্লাহ কায়সার

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৪:১০ পিএম, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শুক্রবার

ফেনীতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ভাসমান বীজতলা বসানো হয়েছে। জেলার ৬ উপজেলার খাল, বিল ও জলাশয়ে ৬টি স্থান নির্বাচন করে এ ভাসমান বীজতলা বসিয়েছে স্থানীয় কৃষকরা। বীজতলাগুলোতে এখন চারা গজিয়েছে। এ সব বীজতলা বসানোরপদ্ধতি জানতে ও পরিদর্শন করতে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে উৎসুক কৃষকরা ছুটে আসছেন। মূলত বন্যা ও আপদকালীন সময়ে ভাসমান বীজতলায় উৎপাদিত চারাগুলো কৃষকদের বীজ সংকট মেটায় বলেই এ পদ্ধতিতে আগ্রহ বেশি কৃষকদের।

সরেজমিনে ফেনী সদর উপজেলার উত্তর কাশিমপুরে চর এলাকায় দেখা যায়, কৃষক নুর মিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে এবার প্রথম ভাসমান বীজতলা তৈরি করেছেন।

বীজতলা তৈরিপদ্ধতি সম্পর্কে তিনি জানান, প্রথমে পানিতে কলা গাছ বেঁধে ভেলার মতো করে নিতে হবে। তারপর উপরে কচুরিপানা দিয়ে মাঝা মাঝি উচু নিচু স্থানগুলো পূর্ন করার পর মাটি সমান করে বীজ ছিটিয়ে দিতে হয়। ১৫ থেকে ২০ দিনে চারা পরিপূর্ণতা লাভ করবে।

গত কয়েক বছর আগাম বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বন্যা নেমে যাওয়ার পর হালি চারার ব্যাপক সংকটে পড়ে কৃষকরা। এ সময় ভাসমান বীজতলায় উৎপাদিত হালি চারাগুলো কৃষকদের চাহিদা মেটায়। এই ভাসমান হালি চারার দাম একটু বেশি হলেও ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা আপদকালীন সময়ে এ চারা তাদের জমিতে বপন করতে হাঁটেবাজারে খোঁজে ফিরেন।

ফেনী সদর উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা আবুনঈম মো. সাইফুদ্দিন জানান, আমাদের দেশে দুটি পদ্ধতিতে ভাসমান বীজতলা তৈরি করাহয়ে থাকে। প্রথমত- বন্যাকবলিত এলাকায় যদি বীজতলা করার মতো জায়গা না থাকে এবং বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর চারা তৈরির প্রয়োজনীয় সময় না থাকে তবে বন্যারপানি, নদীর পানি, বিলের পানি, পুকুরের পানি, ডোবা বা খালের পানির ওপর কলা গাছের ভেলায় হোগলার চাটাই দিয়ে সেখানে মাটির প্রলেপ কিংবা বাঁশ এবং বাঁশের চাটাইয়ের মাচা দিয়ে তৈরিকৃত বেডের ওপর ২-৩ সেন্টিমিটার পরিমাণ পুকুরের তলার মাটির পাতলা কাদার প্রলেপ দিয়ে ভেজা বীজতলা তৈরি করা হয়।

দ্বিতীয়ত- বিল ঝিল বা নিচু জায়গায় কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান বীজতলা করা যায়। এ পদ্ধতিতে প্রথমে কচুরিপানাগুলো স্তুপ করে সুন্দরভাবে সাজিয়ে বেড আকৃতি করা হয়। বেডের চার পাশে জড়িয়ে থাকা বাড়তি কচুরিপানাগুলো দা দিয়ে কেটে সোজা করে নিতে হয়। অত:পর বেডের ওপর ২-৩ সেন্টিমিটার কাদামাটির প্রলেপ দিয়ে সমান করে বীজতলা তৈরি করা যায়। বন্যার পানিতে যেন ভেসে না যায় সে জন্য ভাসমান বীজতলা বেডকে দড়ির সাহায্যে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখতে হবে। তাছাড়া হাঁসের আক্রমণ থেকে বীজতলাকে রক্ষা করার জন্য জাল দ্বারা বেড়া দিয়ে দেওয়া উত্তম।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. জয়েন উদ্দিন জানান, ভাসমান পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারাগুলো বিপদকালীন সময়ে কৃষকদের মাঝে প্রাণের সঞ্চার করে। ফেনীতে ভাসমান বীজতলা এবার প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে তৈরী করাহয়েছে। এটি তৈরিতে অতিরিক্ত খরচ তেমন না থাকায় আগামীতে এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি আরও বৃদ্ধি পাবে। ফেনীতে এ পদ্ধতিতে বীজতলা বসাতে কৃষকদের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

সম্প্রতি সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে ভাসমান বীজতলাপরিদর্শন করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মো. জয়েন উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খামারবাড়ী ঢাকার ক্রপ উইং ও মনিটরিংকর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, সহকারী কৃষিসম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবুল কালাম মজুমদার, উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তা প্রনব চন্দ্র মজুমদার, জসিম উদ্দিন, মামুনুর রহমান ভূঁইঞা।

একে//



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি