ঢাকা, মঙ্গলবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাল্যবিয়ে রোধে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের ‘চাইল্ড, নট ব্রাইড’ ক্যাম্পেইনের যাত্রা শুরু

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৭:৪০, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৪৪, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

বাংলাদেশে বাল্য ও জোরপূর্বক বিয়ে প্রতিরোধ এবং মেয়েদের অধিকার সুরক্ষায় বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের উদ্যোগে সামাজিক মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘চাইল্ড, নট ব্রাইড’(সিএনবি) শীর্ষক ক্যাম্পেইনের যাত্রা শুরু হয়েছে। 

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় এবং নরওয়েজিয়ান স্টেট ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (এনআরকে টেলিথন) অর্থায়নে ক্যাম্পেইনটি পরিচালিত হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, শিশুদের শৈশব থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। বিশেষ করে পারিবারিক চাপ কিংবা সামাজিক প্রলোভনের কারণে যেন মেয়েশিশুরা বাল্যবিয়ের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, অনেক পরিবার বাল্যবিয়ের মাধ্যমে একটি সমস্যার সমাধান হচ্ছে বলে মনে করে। কিন্তু বাস্তবে এর মাধ্যমে আরও বড় সমস্যার সৃষ্টি হয়।

মাহ্‌দী আমিন আরও বলেন, কোন এলাকায় কী কারণে বাল্যবিয়ে বাড়ছে, তা নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী নীতি গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।

দেশের জনগোষ্ঠীর একটি অংশ এখনো বাল্যবিয়েকে উৎসাহিত করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকেই না বুঝেই বাল্যবিয়ের মাধ্যমে অপরাধ করছেন। পরিবারের কাছে বিষয়টি হয়তো একটি ‘শুভ কাজ’মনে হতে পারে, কিন্তু এর ফলে একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন বলেন, বাল্যবিয়ে মেয়েদের শিক্ষার পথ রুদ্ধ করে, তাদের সম্ভাবনা সীমিত করে এবং দারিদ্র্যের চক্রকে দীর্ঘায়িত করে। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে শিক্ষা ও সচেতনতার পাশাপাশি গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জনমত গঠন, সামাজিক আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে ‘চাইল্ড, নট ব্রাইড’ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রিজিওনাল ডিরেক্টর মো. আল মামুন।

তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন এবং সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মো. আল মামুন বলেন, বাল্যবিয়ে একটি বহুমাত্রিক সামাজিক সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে একটি বিয়ে বন্ধ করা সম্ভব হলেও পরে অন্যত্র মেয়েটির বিয়ে হয়ে যায়। তাই শুধু একটি ঘটনা ঠেকানো নয়, বাল্যবিয়ের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

অনুষ্ঠানে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) নীলিমা ইয়াসমিনও বক্তব্য দেন। তিনি কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় বাল্যবিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সরকারের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতারা অংশ নেন। এ সময় কয়েকজন সাংবাদিক বাল্যবিয়ে নিয়ে তাঁদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে নির্মিত জনসচেতনতামূলক বার্তা, গান, পাবলিক সার্ভিস অ্যানাউন্সমেন্ট (পিএসএ) ও বিভিন্ন প্রচারণামূলক কনটেন্ট অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। ক্যাম্পেইনের একটি গানে অংশ নিয়েছেন বাউল শিল্পী আলেয়া বেগম ও র‍্যাপার আলী হাসান।

এমএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি