ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:০৯:১২

বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যে তথ্যগুলো জানা দরকার

বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যে তথ্যগুলো জানা দরকার

বাংলাদেশের পার্লামেন্টে বুধবার পাস হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮, যে আইনের প্রস্তাবের পর থেকেই উদ্বেগ, বিতর্ক আর সমালোচনা চলছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে পাস হয়। আইনটি প্রস্তাবের পর থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমের কর্মীরা। তাদের আশঙ্কা, আইনটির অনেক ধারায় হয়রানি ও অপব্যবহার হতে পারে। তবে, জব্বার সংসদে দাবী করেছেন, সংবাদকর্মীরা যেসব বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা সংশোধন করা হয়েছে। • ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো তথ্য-উপাত্ত দেশের সংহতি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ বা জন শৃঙ্খলা ক্ষুণ্ণ করলে বা জাতিগত বিদ্বেষ ও ঘৃণা সৃষ্টি করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তা ব্লক বা অপসারণের জন্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে অনুরোধ করতে পারবে। এক্ষেত্রে পুলিশ পরোয়ানা বা অনুমোদন ছাড়াই তল্লাশি, জব্দ এবং গ্রেফতার করতে পারবে। আইনটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ব্যাহত করবে বলে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে সম্পাদকদের পরিষদ• আইনে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার অতি গোপনীয় বা গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত ধারণ, প্রেরণ বা সংরক্ষণ করা হয়, বা প্রকাশ করে বা কাউকে করতে সহায়তা করে ওই আইন ভঙ্গ করলে এই আইনে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের সাজা হতে পারে, ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। • কোনো সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার অতি গোপনীয় বা গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত যদি কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ধারণ, প্রেরণ বা সংরক্ষণ করা হয়, তাহলে তা গুপ্তচরবৃত্তি বলে গণ্য হবে এবং এজন্য ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। ফেসবুকে মানহানিকর বা অবমাননাকর বক্তব্যের জন্য প্রস্তাবিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে• আইন অনুযায়ী ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার নামে প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণা চালালে বা মদদ দিলে অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।• ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে আক্রমণাত্মক, মিথ্যা, ভীতি প্রদর্শক তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ, মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, ঘৃণা প্রকাশ, অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, প্রকাশ বা ব্যবহার করলে জেল জরিমানার বিধান রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে তিন থেকে সাত সাত বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। দ্বিতীয়বার এরকম অপরাধ করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।• ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণা করলে অনধিক ৫ বছরের কারাদণ্ড, ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ড হতে পারে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, ডিজিটাল মাধ্যমে কি করা যাবে আর কি করা যাবে না• কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের বিষয়েও বিধান রয়েছে এই আইনে। সেখানে ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, কম্পিউটার, কম্পিউটার প্রোগ্রাম. কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা ডিভাইস, ডিজিটাল সিস্টেম বা ডিজিটাল নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার ব্যাহত করে, এমন ডিজিটাল সন্ত্রাসী কাজের জন্য অপরাধী হবেন এবং এজন্য অনধিক ১৪ বছর কারাদণ্ড অথবা এনধিক এক কোটি অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।• ছবি বিকৃতি বা অসৎ উদ্দেশ্যে ইচ্ছেকৃতভাবে বা অজ্ঞাতসারে কারো ব্যক্তিগত ছবি তোলা, প্রকাশ করা বা বিকৃত করা বা ধারণ করার মতো অপরাধ করলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ইন্টারনেটে পর্নগ্রাফি ও শিশু পর্নগ্রাফির অপরাধে সাত বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। • কোন ব্যাংক, বীমা বা আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান থেকে কোন ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে আইনানুগ কর্তৃত্ব ছাড়া অনলাইন লেনদেন করলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, `সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন`• বাংলাদেশ বা বিশ্বের যেকোনো বসে বাংলাদেশের কোন নাগরিক যদি এই আইন লঙ্ঘন করেন, তাহলেই তার বিরুদ্ধে এই আইনে বিচার করা যাবে। • ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিচার হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে। অভিযোগ গঠনের ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে এর মধ্যে করা সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ ৯০ কার্যদিবস পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। তথ্যসূত্র: বিবিসি। এসএইচ/
 ‘বাংলাদেশ জিজ্ঞাসা’ : চ্যাম্পিয়নের জন্য কোটি টাকা পুরস্কার

সাতচল্লিশ বছরে বাংলাদেশের অর্জন, সাফল্য, ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে আমরা কে, কী, কখন, কোথায়, কেন, কীভাবে আছি এসব প্রশ্ন আর তার উত্তর নিয়ে ইনডিপেনডেন্ট টিভিতে শুরু হচ্ছে কুইজ শো ‘বাংলাদেশ জিজ্ঞাসা’। আসছে ১২ অক্টোবর থেকে প্রতি শুক্র ও শনিবার রাত ১০টায় ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। কুইজ শো চ্যাম্পিয়ন পাবেন এক কোটি টাকা পুরস্কার। কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি যে কোন নাগরিক অনলাইনে নিবন্ধন করে শো-তে অংশ নিতে পারবেন। ১৯ সেপ্টেম্বর নিবন্ধন শুরু হয়েছে। শেষ হবে ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায়। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কুইজ শো-র বিস্তারিত তুলে ধরেন ইনডিপেন্টে টেলিভিশনের সিইও অ্যান্ড এডিটর-ইন-চিফ এম শামসুর রহমান এবং স্পন্সর প্রতিষ্ঠান আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ আলম সারওয়ার। এ সময় উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের নির্বাহি সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘বাংলাদেশ জিজ্ঞাসার’ প্রথম পর্ব থেকে চূড়ান্ত পর্ব পর্যন্ত প্রতিটি পর্বের অংশগ্রহণকরীর জন্য থাকছে বিভিন্ন অঙ্কের  পুরস্কার। পুরো প্রতিযোগিতায় মোট ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার পুরস্কার পাবেন অংশগ্রহণকারীরা। পাশাপাশি থাকছে দর্শকদের জন্যও আকর্ষণীয় পুরষ্কার। কুইজ শো-তে অংশগ্রহণের জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ফরম ইতোমধ্যেই  উন্মুক্ত করা হয়েছে।  ১৮ বছরের উর্ধ্বে বাংলাদেশের যে কোনো নাগরিক ‘বাংলাদেশ জিজ্ঞাসা’ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা পর্যন্ত কুইজ শো-’র ওয়েবপেজ  www.bangladeshjiggasha.com এ নিবন্ধন করতে পারবেন। ইনডিপেনডেন্ট টিভির ওয়েবপেজ www.independent24.com এবং ফেসবুক পেজের www.facebook.com/IndependentTVNews মাধ্যমেও প্রতিযোগিতার জন্য  নিবন্ধন করা যাবে। নিবন্ধিত ব্যক্তিদের জন্য ‘বাংলাদেশ জিজ্ঞাসার’ ওয়েব পেইজে আগামী ২৮, ২৯ এবং ৩০ তারিখ অনলাইন পরীক্ষার উইন্ডো খোলা হবে। সেখানে লগ ইন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করতে হবে। একজন ব্যক্তি একবারই এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। অনলাইন প্রতিযোগিতায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে বাছাই করা প্রতিযোগীরা দ্বিতীয় ধাপে বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুরে একযোগে বিভাগীয় পর্যায়ের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এখান থেকেই ‘বাংলাদেশ জিজ্ঞাসা’ মঞ্চে আসার সুযোগ পাবেন ৮টি বিভাগ থেকে বাছাই করা ৮ জন করে মোট ৬৪ জন প্রতিযোগী। বিভাগীয় পরীক্ষার স্থান ও সময় পরে ঘোষণা করা হবে। পুরস্কার হিসাবে চ্যাম্পিয়ন পাবেন এক কোটি টাকা।  প্রথম রানার-আপ পাবেন ২৫ লাখ টাকা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় রানার আপ পাবেন যথাক্রমে ১৫ ও ৫ লাখ টাকা।  সেমিফাইনালে বিদায়ী ৪ জন ২ লাখ টাকা করে মোট ৮ লাখ টাকা, কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায়ী  ৮ জন ১ লাখ টাকা করে মোট ৮ লাখ টাকা, দ্বিতীয় রাউন্ডে বিদায়ী  ১৬ জন ৫০ হাজার টাকা করে মোট ৮ লাখ টাকা, প্রথম রাউন্ডে বিদায়ী ৩২ জন ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৮ লাখ টাকা পাবেন।   এসএইচ/

‘সৃষ্টিশীল মানসিকতাই দূর করে সাংবাদিকতার সব প্রতিবন্ধকতা’

প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকতায় নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে। সম্প্রচার সাংবাদিকতা স্বর্ণযুগে প্রবেশ করছে। এ সময়ে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সক্ষমতা না থাকলে পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে সাংবাদিকদের জন্য। আর, সাংবাদিকতায় মেয়েদের বড় চ্যালেঞ্জ মানসিকতা তৈরি না হওয়া। যারা কাজ করছেন বা নারীদের যারা নির্দেশনা দিচ্ছেন- উভয় শ্রেণিরই পেশাগত আচরণে ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। মোটাদাগে মনে হয় অনেক নারী আসছে, কাজ করছে। কিন্তু ভেতরের চিত্র ভিন্ন। শুধু গ্লামারের আকর্ষণেই ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে। কিন্ত সাংবাদিকতার কঠিন পথটি পাড়ি দেবার প্রস্তুতি নেই বেশিরভাগেরই। এই পেশায় অনেক প্রশিক্ষণ আর পড়াশোনার দরকার। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এটি হচ্ছে না। যা এই পেশায় টিঁকে থাকার বড় বড় চ্যালেঞ্জ। বলছিলেন দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তরের সিনিয়র রিপোর্টার শামীমা দোলা। গত ১৬ আগস্টে তিনি সিডব্লিউবিটিএ-ইন্ডিয়া বাংলাদেশ বিজনেস এক্সিলেন্স এওয়ার্ড ২০১৮ জয় করলেন। দোলাই একমাত্র বাংলাদেশি, যিনি সাংবাদিকতায় এই এওয়ার্ড বিজয়ী। ব্যবসা-বাণিজ্য ক্যাটাগরিতে অবশ্য আরেকজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আলমগীর কবিরও এই পুরস্কার লাভ করেন। কোলকাতা প্রেসক্লাবের সভাপতি স্নেহাশীষ সুর, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সিনিয়র সাংবাদিক আম্বার মুখার্জী, টাইমস অব ইন্ডিয়ার উদিপ্ত প্রসন্ন মুখার্জী আর তারকেশ মিশ্রকেও দেওয়া হয় এই সম্মাননা। কোলকাতায় গ্র্যান্ড ওবেরয় হোটেলে এই পুরস্কার তুলে দেন পশ্চিমবঙ্গের গণপূর্তমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ওই অনুষ্ঠানেই শামীমা দোলার লেখা প্রথম বই ‘বারোয়ারি সময়’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দৈনিক আমাদের সময়, রেডিও আমার, এবিসি রেডিও এবং বৈশাখী টেলিভিশনেও কাজ করেছেন। যদিও আর কজনের মতোই ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল ভিন্নতালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি শুরু করেন একটি বেসরকারি শিপিং কোম্পানিতে। কাজ করেন একটি বেসরকারি ব্যাংকেও। তবে তাতে যেন অসম্পূণতা রয়ে যাচ্ছিল। একঘেঁয়ে মনে হলে ছেড়ে দেন আকর্ষণীয় সব চাকরি। দীর্ঘ পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হয়ে জাতিসংঘের অধিবেশনের সংবাদ সংগ্রহসহ ঘুরে বেড়িয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়াসহ পনেরটির দেশ। বাংলাদেশ-ভারতের আন্তঃবাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, আন্তঃযোগাযোগ- এসব নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী রিপোর্টিং করেন শামীমা দোলা। সংবাদ উপস্থাপনা, বাণিজ্য ও অর্থনীতি বিষয়ে টেলিভিশনে অনুষ্ঠান সঞ্চালনাও করেছেন তিনি। শামীমা দোলা অর্থনীতি বিষয়ে রিপোর্টিংয়ের জন্য বেশ কিছু সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে-এনবিআর পুরস্কার-২০১৭, সমধারা সম্মাননা-২০১৬, বাংলাদেশ মহিলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সেরা প্রতিবেদক পুরস্কার ২০১৫-১৬। চলতি মাসেই তিনি বাংলাদেশের একশন এইড- ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম ইআরএফ মিডিয়া ফেলোশীপ ২০১৮ পান। টেলিভিশন সাংবাদিকতার পাশাপাশি লেখালেখিও করেন উদ্যোমী এই গণমাধ্যম কমী। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক আর অনলাইন নিউজ পোর্টালে তার বিশ্লেষণধমী নানা লেখা পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজও করেছেন তিনি। নির্বাচিত লেখাগুলো নিয়েই তৈরি হয়েছে বৈচিত্রধর্মী গ্রন্থ ‘ বারোয়ারী সময়। দেশে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে সাংবাদিকতা পেশার যখন কাঠখড় পোহাতে হচ্ছে অনেক, সে সময়ে নারীদের সাংবাদিকতায় এগিয়ে যাওয়া কি বাড়তি চ্যালেঞ্জ নয়- এমন প্রশ্নের উত্তরে আত্মপ্রত্যয়ী এই সংবাদ কমীর উত্তর, সাংবাদিকতায় নির্দিষ্ট, ধরা-বাধা কোন কাজ নেই। প্রতিদিন নতুন এসাইনমেন্ট, নতুন কাজ, নতুন নতুন তথ্যে ঝালাই করে নিতে হয় নিজেকে। রয়েছে শেখার বহুমুখী বিষয়। এক ঘেয়ে পেশার বাইরে দেশ, রাষ্ট্রের, সমাজের তথা মানুষের কল্যাণে কাজের সুযোগ আছে এই পেশায়। রয়েছে সৃজনশীলতার সুযোগও। একটি রিপোর্টের কারণে অনেক বড় বড় অনিয়ম তুলে ধরে নীতি পরিবর্তনের মত কাজ এই পেশাতেই সম্ভব। যেখানে কঠোর পরিশ্রম বড় হওয়ার বড় সাফল্য বলে মনে করেন শামীমা দোলা। দোলা মনে করেন, সাংবাদিকের কাজ শুধু বিনোদন দেওয়া কিংবা তথ্যের মাধ্যমে মানুষের ক্ষমতায়ন নয়। সঠিক তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখতে হবে সাংবাদিকদের। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে সম্প্রচার সাংবাদিকতা এখন আর টেলিভিশনের পর্দাতেই সীমাবদ্ধ নেই। নিজস্ব ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতেও এসব খবর তুলে ধরা হচ্ছে। সেখানে সামান্যতম ভুলের অবকাশ নেই। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষও এখন তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে পড়েছে। এসব ও যাগাযোগ মাধ্যম প্রাথমিক তথ্যের উৎস হিসেবে আবির্ভূত হওয়ায় সাংবাদিকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে দোলার অভিজ্ঞতা বলছে, পেশাগত উৎকর্ষতায় সেরা যারা, অন্যের অপপ্রচার কিংবা ঈর্ষারও কারণ হয়ে উঠছেন তারা। যে পথে বাড়তি অনেক চ্যালেঞ্জই রয়ে যাচ্ছে নারী সাংবাদিকদের। তবে, লক্ষ্য অটুট রেখে পা ফেলতে হবে সামনের দিকেই। ধারণ করতে হবে ইতিবাচক মানসিকতার।   এসএইচ/

‘তথ্যগত ভুল থাকলে সাংবাদিকতাই বৃথা’ (ভিডিও)

পেশাদার সাংবাদিকতার পাশাপাশি নাগরিক সাংবাদিকতায়ও ভুল তথ্য দেওয়ার সুযোগ নেই। তথ্যগত ভুল থাকলে মোটা দাগে সাংবাদিকতাই বৃথা যাবে। আজ সকালে রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে সোস্যাল ও মূলধারার সাংবাদিকের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনরা এ মন্তব্য করেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং একুশে টিভির প্রধান সম্পাদক ও সিইও মনজুরুল আহসান বুলবুল। ইউএসএআইডির সহায়তায় বেসরকারি সংস্থা সমষ্টি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে ঢাকা ও রাজশাহী জেলার সিটিজেন ও মূলধারার সাংবাদিকদের পুরস্কার দেওয়া হয়। মূলধারার সাংবাদিকতায় জাগোনিউজের স্টাফ রিপোর্টার মাসুদ রানা ও নাগরিক সংবাদিকতায় রাজশাহীর হাদিসুর রহমান প্রথম পুরস্কার পান।  

সংবাদকর্মীদের জন্য ৪৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা

সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থাগুলোতে নিয়োজিত সাংবাদিক-কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ হারে অন্তর্বর্তীকালীন মহার্ঘ ভাতা সুবিধা ঘোষণা করেছে সরকার। এ ভাতা ২০১৮ সালের ১ মার্চ থেকেই কার্যকর হবে। মঙ্গলবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেক স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   এ মহার্ঘ ভাতা পরবর্তীতে বোর্ডের নির্ধারিত সামগ্রিক বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বিত করা হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, নবম মজুরি বোর্ডের পেশ করা অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন পরীক্ষান্তে সরকার সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থাগুলোতে নিয়োজিত সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক ও সাধারণ কর্মীদের জন্য মূল বেতন (অষ্টম মজুরি বোর্ড ঘোষিত) ৪৫ শতাংশ হারে অন্তর্বর্তীকালীন মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ‘এই মহার্ঘ ভাতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হল। অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা মহার্ঘ ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করেছি।’ সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার কর্মীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের জন্য গত ২৯ জানুয়ারি নবম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। ১৩ সদস্যের এই বোর্ডে চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. নিজামুল হক। এছাড়া সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ এবং সাংবাদিক ও সংবাদপত্র কর্মচারী বা শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সমসংখ্যক প্রতিনিধিও রয়েছে ওয়েজ বোর্ডে। সরকারের কাছে সুপারিশ দিতে বোর্ডকে ছয় মাস সময় দেয়া হয়েছিল। ২৮ জুলাই সেই সময় শেষ হয়। পরে নবম মজুরি বোর্ডের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানো হয়। এর আগে ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সংবাদপত্রকর্মীদের বেতন-ভাতা ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে অষ্টম ওয়েজ বোর্ডের (অষ্টম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদাদ, ২০১৩) গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এসি   

‘মামুন পেশাদারী জায়গায় সচেতন ছিল’

সদ্য প্রয়াত সাংবাদিক মামুনুর রশীদ পেশাদারী জায়গায় সচেতন ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে নানা মত-পথ ও প্রতিযোগিতা থাকলেও মামুন সাংবাদিকতার জায়গা থেকে মামুন নিরপেক্ষ থাকতো। আজ শনিবার টিএসসি ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে এক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন। একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশীদের মৃত্যু উপলক্ষে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের পক্ষ থেকে এ শোক সভার আয়োজন করা হয়। বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, মামুন ছাত্রলীগ করত। আমাদের মধ্যেও নানা মত ও পথ আছে। নানা প্রতিযোগিতা আছে। মামুন কখনো পক্ষপাতিত্ব করত না। সে তার পেশাদারী দৃষ্টিভঙ্গিতে সব বিশ্লেষণ করত। স্মৃতিচারণ করে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, মামুন যখন বাংলা ভিশনে কাজ করত তখন ছাত্রলীগের প্রোগ্রাম কাভারের ব্যাপারে সে হেল্প করত। আমরাও মিডিয়া কাভারেজ সংক্রান্ত কোন যে কোন দরকারে তাকে নক করতাম। সাংবাদিক মামুন সব সময় হাসিখুশী থাকতেন এমন প্রসঙ্গে বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, এক পর্যায়ে বাংলা ভিশন থেকে তার (মামুন) চাকরি চলে যায়। তখন তার মন খারাপ। তবে সে মন খারাপ দেখাতো না। পরে যোগ দেয় এশিয়া টিভিতে। দেখা হলে আমি দুষ্টুমী করতাম। কখনো তাকে রাগাতে পারিনি। মামুন একুশে টিভিতে যাওয়ার পর রোজ দেখা হতো। মামুন মানেই আনন্দ। সে সব সময় সব কিছু জমিয়ে রাখত। ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়দেব নন্দীর সঞ্চালনায় শোকসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য এসএম কামাল হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএস জাকির হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি রেজানুল জক চৌধুরী শোভন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলি, সাবেক দফতর সম্পাদক নাসিম আল মোমিন, সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাবেক ছাত্রনেতা শাহাদাত হোসেন সুজন, দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রাজীব আহমেদ, রিপোর্টার রিয়াদুল করিম, সহপাঠী রুহিনা তাসকিন প্রমুখ। আআ//এসএইচ/

‘মামুনের জনপ্রিয়তার প্রমাণ পেয়েছি তার এলাকায় গিয়ে’

সদ্য প্রয়াত একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশীদ সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন বলেছেন, মামুনুর রশীদ কতোটুকু জনপ্রিয় ছিল তার প্রমাণ পেয়েছি তার লাশ নিয়ে যখন নড়াইল গেলাম তখন। এলাকার সর্বস্তরের লোক মামুনের জন্য হু হু করে কেঁদেছে। আজ শনিবার টিএসসি ছাত্রশিক্ষক মিলনায়তনে এক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন। একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশীদের মৃত্যু উপলক্ষে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের পক্ষ থেকে এ শোক সভার আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি তার বক্তৃতায় বলেন, আমি সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করি। অনেক সাংবাদিকের সঙ্গে আমার ঘনিষ্টতা। বিশেষ করে যারা প্রধানমন্ত্রীর বিট করেন তাদের সঙ্গে। এদের মধ্যে মামুন ছিল বিশেষ। মামুনের একটা অভ্যাস ছিল। যখনই মামুনকে ফোনে জিজ্ঞেশ করতাম, মামুন কোথায় আছ? মামুন উত্তরে বলত, পথে আছি। প্রয়াত সাংবাদিক মামুনুর রশীদের আন্তরিকতার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, আমি গ্রামের বাড়ি গেলে মামুন একদিন পরে গিয়ে হাজির হতো। যদি বলতাম, মামুন তোমাকে তো আসতে বলি নাই। কেন এসেছ? মামুন হেসে হেসে উত্তর দিত, আপনার বাড়ি আসতে হলে কী দাওয়াত লাগবে নাকি। আশরাফুল আলম খোকন আরও বলেন, মামুনকে বলতাম, মামুন বয়স ৩০ পার হয়েছে। এখন একটু ব্যায়াম কর, জগিং কর। মামুন উত্তরে বলত, খোকন ভাই আপনি বুড়া মানুষ। এগুলো আপনার করা দরকার। প্রয়াত মামুনুর রশীদ ভালো সাংবাদিকের বাইরে একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তার সততা ছিল মারাত্মক। এমন প্রসঙ্গে আশরাফুল আলম খোকন বক্তব্যে বলেন, মামুন যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর বিট করতো তার সঙ্গে অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের যোগাযোগ হয়েছিল। তাই অনেকে তার কাছে বিভিন্ন সাহায্য চাইতে আসত। এমন অনেক কাজ আমিও করে দিয়েছি। আমি কাজ করার আগে বা পরে খবর নিতাম। কারণ কোন বদনামী যাতে না হয় সেটা খেয়াল রাখা আমার নৈতিক দায়িত্ব। মামুন কখনো কারো কাছে এক টাকা বেনিফিট নেয়নি। অসংখ্য মানুষের উপকার সে করেছে। আমাদের দিয়ে করিয়েছে মানবতার জায়গা থেকে। তিনি আরও বলেন, মামুন খুব বেশী আয়ু পায়নি। ৩৩ বছর খুব বেশী আয়ু নয়। কিন্তু আদর্শিক জায়গা থেকে মামুনের জীবন ও কর্ম আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে যায়। শোকসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য এসএম কামাল হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএস জাকির হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি রেজানুল জক চৌধুরী শোভন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলি, সাবেক দফতর সম্পাদক নাসিম আল মোমিন, সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাবেক ছাত্রনেতা শাহাদাত হোসেন সুজন, দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রাজীব আহমেদ, রিপোর্টার রিয়াদুল করিম, সহপাঠী রুহিনা তাসকিন প্রমুখ। আআ//এসএইচ/

মামুনুর রশিদের মৃত্যুতে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন(ভিডিও)

একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশিদের মৃত্যুতে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেছে একুশে পরিবার। এসময় মামুনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন সবাই। তারা বলেন, মামুনের অকাল প্রয়াণে একজন তরুন প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিককে হারিয়েছে দেশের গণমাধ্যম। গেল ৩ সেপ্টেম্বর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে পরপারে পাড়ি জমান একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশিদ। একজন প্রতিভাবান সহকর্মীর এমন আকস্মিক বিদায় এখনো মেনে নিতে পারছেননা একুশে পরিবার। বিকেলে একুশের স্টুডিওতে দোয়া অনুষ্ঠানে আসেন তার সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব ও শুভানুদ্ধায়ীরা। মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন........। এসময় মামুন রশিদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে পুরস্কার পেলেন তিন সাংবাদিক

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অবদান রাখায় পুরস্কার পেয়েছেন তিনজন সাংবাদিক। আজ বৃহস্পতিবার বসুন্ধরার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার পান এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক মুন্নী সাহা, দৈনিক আমাদের সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার লুৎফর রহমান কাকন ও ডেইলি সানের বিশেষ প্রতিনিধি শামীম জাহাঙ্গীর। পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমাদের খরচ হচ্ছে ৬ টাকা ২৫ পয়সা। কিন্তু আমরা বিক্রি করছি ৪ টাকা ৮২ পয়সায়। অর্থাৎ, আমরা এখানে ভর্তুকি দিচ্ছি। বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে খরচ সেটা কিন্তু আমরা গ্রাহকের কাছ থেকে নিচ্ছি না। কিন্তু এক সময় এ সুযোগ আর থাকবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় আর্থ-সামাজিক উন্নতি যখন হবে, তখন যতটা খরচ ততটাই দিতে হবে। আমার একটা অনুরোধ থাকবে, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। বিদ্যুতের অপচয় বন্ধ করার জন্য আমি অনুরোধ জানাই। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ছিল ‘অত্যন্ত শোচনীয়’। তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল তিন হাজার মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার মেগাওয়াটে। গত সাড়ে নয় বছরে মোট ২৪ হাজার ৩৫১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৩৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য চুক্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়েছে এবং প্রায় ১২ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। বর্তমান সরকারের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অবদানের জন্য এ অনুষ্ঠানে ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সন্মাননা দেন প্রধানমন্ত্রী। এসএইচ/

ওয়েলকাম মামুন, প্লিজ...

বুঝতে পারিনি সেদিন রোববার ছিলো মামুনের জীবনের শেষ অফিস। গনভবনে প্রধানমন্ত্রীর একটি প্রোগ্রামে সংবাদ সংগ্রহের কাজে ছিলো মামুন। অফিস থেকে আমাকে বলা হলো মামুনকে সহযোগিতা করতে। আমি স্ক্রিপ্ট লিখে প্যাকেজ বানানোর সময় মামুন চিরচেনা হাসিমুখ নিয়ে প্যানেলে এলো। ঢুকেই আমাকে বললো,“থ্যাঙ্কস আপা”। আমি একটু মজা করে বললাম- নট ওয়েলকাম। ওটাই ছিলো আমার সাথে মামুনের শেষ কথা, শেষ দেখা । একটু পরেই সে অফিস থেকে চলে যায়। যাওয়ার সময় দেখলাম হাসিমুখ নিয়ে সেন্ট্রাল ডেস্ক থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছে। আর তার পরদিন ছিলো মামুনের ডে অফ। রাতে শুনি আমাদের টগবগে তরুন সাংবাদিক মামুন আর নেই। প্রথমে দু:সংবাদটা শুনে  মনে হচ্ছিল আমি হয়ত পাগল হয়ে গেছি কিংবা কোথাও আমার বড় ভুল হচ্ছে। পরে যখন বুঝলাম নির্মম মৃত্যু কেড়ে নিয়েছে আমাদের মামুনকে, বাকি রাতটা আর ঘুমাতে পারলাম না । মামুন ছিলো আমার ডিপার্টমেন্টের দুষ্টু আর মিষ্টি ছোট ভাই, একই সঙ্গে প্রিয় সহকর্মী। শুধু আফসোস হতে লাগলো, কেন যে নট ওয়েলকাম বলেছিলাম । মনে মনে বিড়বিড় করতে লাগলাম-“মোষ্ট ওয়েলকাম, মোষ্ট ওয়েলকাম মামুন । লেখক : মামুনুর রশিদের সহকর্মী। / এআর /

মামুনের বর্ণাঢ্য জীবন

মামুনুর রশিদ জন্মেছিলেন নড়াইলের অজপাড়া গা-তেলপাড়াতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে নিজেকে ক্রমেই প্রতিষ্ঠা করছিলেন সাংবাদিকতার জগতে এক উদীয়মান নক্ষত্র হিসেবে। সদ্য ডানা মেলা পাখি যেমন রঙ্গিন আকাশে লাফিয়ে বেড়ায়, তেমনি সাংবাদিকতায় নিজেকে মুক্ত বিহঙ্গের মতো করে গড়ে তুলছিলেন তরুণ এ সাংবাদিক। তবে বিধাতার অমোঘ বিধানে জীবনের মধ্যাহ্ন, অপরাহ্ণ কিংবা গোধূলি না আসতেই কালের স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে গেল একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশিদকে। তার এই অকালে চলে যাওয়া কিছুতেই যেন মানতে পারছেন না তার দীর্ঘদিনের সহপাঠী, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী, গুণগ্রাহী ও বন্ধুপরিজন। দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি মামুনুর রশিদের। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করার পরই জনকণ্ঠ পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মামুন। ২০০৮ সালে সদ্য স্নাতকোত্তর পাশ করা মামুনের কর্মজীবনের প্রথম দিকে সাধারণ বিটে কাজ করলেও, খুব অল্পদিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সচিবালয়সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিটের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। জনকণ্ঠে এক বছর থাকার পরই যোগ দেন জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল-বাংলা ভিশনে। দীর্ঘ ৫ বছর বাংলাভিশনে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এসময় দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিট প্রধানমন্ত্রী বিট, রাষ্ট্রপতি বিট, পররাষ্ট্র বিট, ভিভিআইপি বিট এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিটে কৃতীত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপরই সিনিয়ন রিপোর্টার যোগ দেন এশিয়ান টেলিভিশনে। এর কিছুদিন পরই দেশের প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল-একুশে টেলিভিশনে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন মামুনুর রশিদ। একুশে টেলিভিশনে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছিলেন মামুন। মামুন স্বপ্ন দেখতেন নিজেকে একদিন সাংবাদিকতার দিকপাল হিসেবে গড়ে তুলবেন। দেশের সংবাদ ও সাংবাদিতার ক্ষেত্রকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ারও স্বপ্ন দেখতেন প্রয়াত গুণী এই সাংবাদিক। নটরডেম কলেজ থেকে ২০০৩ সালে মানবিক বিভাগ থেকে কৃতীত্বের সঙ্গে এইসএসসি পাশ করেন মামুন। এরপরই ভর্তি হন প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে। সেখান থেকে ২০০৭ সালে স্নাতক ও ২০০৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর একই বছর যোগ দেন দৈনিক জনকণ্ঠে। মামুন বেড়ে উঠেছেন নড়াইলের লোহাগারা উপজেলার তেলকারা গ্রামে। তিনি মরহুম শেখ আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তার মায়ের নাম ফাতেমা বেগম। দুই ভাই-দুই বোনের মধ্যে মামুন ছিলেন সবার ছোটো। গ্রামের দুরন্তপনা জীবনে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল ও খেলাধূলায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন তিনি। এরপরই ছেলের উচ্চ শিক্ষার কথা চিন্তা করে, তাকে নটরডেম কলেজে ভর্তি করে দেয় তার মা-বাবা। সেখান থেকেই সাংবাদিকতার জগতে জ্বলে উঠার লক্ষ্যণ দেখা দেয় তার মধ্যে। লেখালেখিরও হাঁতেখড়ি হয় ওই ইন্টারমিডিয়েট জীবন থেকেই। এরপরই তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সেখান থেকে অনন্য উচ্চতায় এক উদীয়মান তারা। আর আজ সেই জাজ্জ্বল্যমাণ আকাশ থেকে খসে পড়া একখণ্ড ধূমকেতু, যা কেবলই স্মৃতি। স্মৃতির অম্লানে চিরভাস্মর হয়ে থাকবে আমাদের মামুন। এমজে/

মামুনের মৃত্যুতে একুশে টেলিভিশন চেয়ারম্যানের শোক

একুশে টিভির সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এস আলম গ্রুপ ও একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। তিনি মামুনের শোক সন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের সমবেদনা জানিয়েছেন। এক শোকবার্তায় সাইফুল আলম বলেন, সাংবাদিক মামুনুর রশিদ ছিলেন একজন সত্যনিষ্ঠ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অগ্রপ্রতীক। তিনি দক্ষতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিটে কাজ করছিলেন। তাঁর অকালে চলে যাওয়া আমাদের ব্যাথিত করে। আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মঙ্গলবার এক শোকবার্তায় এস আলম গ্রুপের কর্ণধার আরও বলেন, আমি তরুণ সাংবাদিক মামুনুর রশিদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন, বন্ধুমহল, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে সমব্যাথী। সাইফুল আলম আরও বলেন, উদীয়মান সাংবাদিক মামুনুর রশিদ কাজের ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তার দায়িত্বশীল সাংবাদিকতায় একুশে পরিবার সমৃদ্ধ হয়েছে বলে আমি মনে করি। তার অকালে চলে যাওয়া একুশে টেলিভিশন পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মামুনুর রশিদের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সেখানে ছুটে যান তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী একুশে টেলিভিশন পরিবারের সদস্যবর্গসহ অন্য গণমাধ্যম কর্মীরা।৩৩ বছরে পা দিতে যাওয়া চৌকস ও মেধাবী এ সাংবাদিকের মৃত্যুতে গণমাধ্যম কর্মীরা শোকাহত। /এমজে/  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি