ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ৩:২৮:০১

Ekushey Television Ltd.

বুলেট ট্রেন তৈরিতে বনাঞ্চল উঁজাড়ে সমালোচনা  

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:২৬ পিএম, ১৩ জুন ২০১৮ বুধবার

ভারতের মুম্বাই-আহমেদাবাদের মধ্যে বুলেট ট্রেন নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে। ছোট শহরগুলির মধ্যে সস্তায় বিমান যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও এবং জাপানের কাছে বিপুল পরিমাণ ঋণের বুঝা নিয়ে এ ট্রেন তৈরি করার কারণে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ বুলেট ট্রেন তৈরিতে বনাঞ্চলও উজাড় হবে। এ জন্য ভারতের পরিবেশবাদীরা এ বিরোধীতা শুরু করেছে।   

ইতোমধ্যে দ্রুত গতির এই রেল প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে৷ অধিগ্রহণ শুরু হতেই প্রতিবাদে নেমেছেন কিছু পরিবেশ সচেতন মানুষ৷ নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের বুলেট ট্রেন প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে হলে ধ্বংস হবে সবুজ বন৷

মুম্বাইয়ের থানে এলাকায় জাতীয় উদ্যানে বন্যপ্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হবে, নষ্ট হবে পরিবেশের ভারসাম্য, এই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ আগামী ডিসেম্বরে জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে৷

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের এই বুলেট ট্রেনের জন্য মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মোট ৩১২টি গ্রামের বাসিন্দাদের জমি দিতে হবে৷ এছাড়াও বন দপ্তর ও রেলের হাতে থাকা ৭,৯৭৪টি জমির অংশ অধিগ্রহণ করবে হাইস্পিড রেল কর্পোরেশন৷ এখানেই আপত্তি তুলেছেন পরিবেশবিদ ও মানবাধিকার রক্ষাকারী সংস্থাগুলি৷

তাদের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে উদ্ভিদ নিধনের ঘটনায় শহরের জনজীবনে খারাপ প্রভাব পড়বে৷ বিশেষত, গাড়ির ধোঁয়া এবং নির্মাণ কার্যের ধুলোয় আরও বিপর্যন্ত হবে জনজীবন, যার প্রভাব পড়বে মানুষের স্বাস্থ্যে৷ সমস্যায় পড়বে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম৷ এ জন্য আরও বেশি বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে৷ সব মিলিয়ে জাপানের সহযোগিতায় ১.০৮ লক্ষ কোটির এই রেল প্রকল্প নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে৷

বিশিষ্ট পরিবেশবিদ সুভাস দত্ত অবশ্য পরিবেশ ও উন্নয়নের ভারসাম্য রক্ষার কথা বলছেন৷ এক সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, ভারতে পরিবেশবিদ বা স্বেচ্ছাসেবীসংস্থার নামে হয় রাজনৈতিক স্বার্থ, নতুবা বাণিজ্যিক স্বার্থরক্ষায় কাজ করার প্রবণতা দেখা যায়৷ বুলেট ট্রেনের ক্ষেত্রেও সেরকম কিছুর প্রভাব থাকা অবাস্তব নয়৷

তিনি আরোও বলেন, ম্যানগ্রোভের নামে যারা চিৎকার করছেন, দেখতে হবে তাদের কেউ স্পনসর করছেন কিনা৷ অতীতে নর্দমা বাঁচাও আন্দোলনে তেমনটাই দেখেছি আমরা৷ সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে৷ বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সমীক্ষা করে বিকল্প খুঁজে দেখতে হবে৷ খেয়াল রাখতে হবে, পরিবেশের নামে উন্নয়ন রুখে দেওয়ার ‘চক্রান্ত`।

এমএইচ/এসি 

     



এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি