ঢাকা, সোমবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

বৈষম্য নিরসনের দাবি সরকারি ব্যাংকগুলোর পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:২১, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ২২:৩২, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

পদোন্নতিতে বৈষম্য নিরোসনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রুপালী ব্যাংকের পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মচারীরা।

রোববার (৩০ নভেম্বর) সকালে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে তারা মানববন্ধন করেন।

এ সময় তারা বলেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হওয়ার পর ঢালাওভাবে ‘সুপারনিউমেরারি’ পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। যেখানে কোনো নিয়ম না মেনে আত্মীকরণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। 

মানবন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, নিয়মিত শূন্য ও নতুন অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে বিগত সরকারের সময় যারা পদ বঞ্চিত তাদেরকেও মূল্যায়নে নেয়ার দাবি তাদের।

এছাড়া মূল্যায়নে অর্থমন্ত্রণালের আর্থিক বিভাগের অযাচিত হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন বক্তারা। আর এক লিখিত বক্তব্যে মানববন্ধনকারীরা জানান, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে (২০০৯-২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট পর্যন্ত) সৃষ্ট পদোন্নতি বৈষম্য নিরসনের জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/ দফতর/ অধিদফতর/ সংস্থায় বৈষম্যের শিকার কর্মকর্তাদের বৈষম্য নিরসনের জন্য ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত একসঙ্গে ১-৩ ধাপ উচ্চতর গ্রেডে ভূতাপেক্ষা পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে, এমনকি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরও ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়ে বৈষম্য দূরীকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ২০২৪ সালে হাজার হাজার সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি দেয়া হলেও গুরুতর বৈষম্যের শিকার পদোন্নতি বঞ্চিত (পদ বিলুপ্তকরণ এবং বৈষম্যমূলক নীতিমালা প্রণয়নের ফলে সৃষ্ট) কর্মকর্তাদের বৈষম্য দূরীকরণের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আবার ২০২৫ সালে ও প্রকৃত বৈষম্য নিরসন না করে বরং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্তৃক 'পদ আত্মীকরণ' নামক নির্দেশনার মাধ্যমে প্রকৃত বৈষম্যের শিকার কর্মকর্তাদের পুনরায় পদোন্নতি বঞ্চিত করা হচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হয়নি।

আগের সুপারনিউমেরারি পদোন্নতির দায়/দেনা কেন বর্তমানে পদোন্নতি বঞ্চিতদের উপর বর্তাবে তা বোধগম্য নয়। মন্ত্রণালয়ের একটি গোষ্ঠী ব্যাংকিং সেক্টরের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার হীন উদ্দেশ্যে এরকম বৈষম্যমূলক নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছেন যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারই ভালো ছিল।

এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং সেক্টরে বৈষম্য দূর করতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ৩ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে মানববন্ধনকারীরা। দাবিগুলো হলো-

১) ব্যাংক কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, ইনসেন্টিভ, ঋণ প্রদান করা/ না করা, অর্গানোগ্রাম হালনাগাদকরণ এবং বিশেষকরে পদ আত্মীকরণের ক্ষেত্রে Vendor's Agreement (Deed of Agreement) ও  Memorandum and Articles of Association অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতার ওপর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিধিবহির্ভূত ও অবৈধ/ বেআইনি হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণভাবে রহিত করতে হবে; এবং এ-সংক্রান্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক এর আগে জারি করা সব নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপন বাতিল করতে হবে।

২) মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো ২০০৯-২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে বৈষম্যের শিকার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অবিলম্বে আবেদন সংগ্রহের সার্কুলার জারি করতে হবে এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বৈষম্যের শিকার কর্মকর্তাদের ভূতাপেক্ষা/ ন্যূনতম একটি পদোন্নতির মাধ্যমে বৈষম্য নিরসন করতে হবে।

৩) বাংলাদেশ ব্যাংকের আদলে স্বচ্ছ ও আধুনিক পদোন্নতি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি