ঢাকা, বুধবার   ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে ‘ভোটের সিল’ উদ্ধার, জামায়াত নেতাসহ ২ জনের নামে মামলা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৮:২২, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

লক্ষ্মীপুরে ভোটের অবৈধ ৬টি সিল উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাসহ দুজনের নামে মামলা করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা ব্যবসায়ী সোহেল রানাকে (৪০)। তিনি সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মারইয়াম প্রেসের স্বত্বাধিকারী। মামলার অপর আসামি হলেন সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফ (৩৪)। তিনি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. শাহজাহানের ছেলে ও ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি।

গতকাল বিকেলে শহরের পুরোনো আদালত রোডের মারইয়াম প্রেস থেকে ভোটে ব্যবহারের অবৈধ ছয়টি সিল, একটি কম্পিউটার, একটি মুঠোফোনসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ মারইয়াম প্রেসে অভিযান চালায়। এসময় দোকান থেকে ভোটে ব্যবহৃত ৬টি সীল উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে নির্বাহী মাজিষ্ট্রেটের হাসান মাহমুদ নাহিদ ঘটনাস্থলে আসেন। পরে সীলগুলোসহ একটি মোবাইলফোন ও কম্পিউটার জব্দ করে আটক সোহেলকে থানায় নিয়ে যায়। 

পুলিশ আরও জানায়, সৌরভ হোসেন ছয়টি ভোটের সিল তৈরির জন্য ব্যবসায়ী সোহেল রানার দোকানে অর্ডার দেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, সৌরভ হোসেনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থীর একাধিক ছবি রয়েছে। এসব ছবি ও জব্দ আলামতের সূত্র ধরে সিল তৈরির পেছনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।

ঘটনার পর থেকে সৌরভ হোসেন শরীফ মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে লক্ষ্মীপুর পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি হারুন অর রশীদ বলেন, ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি সৌরভ হোসেনকে ষড়যন্ত্রমূলক আসামি করা হয়েছে।

পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া সিলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় দুটি দিককে প্রাথমিকভাবে সামনে রেখে তদন্ত চলছে। প্রথমত, এসব সিল ভোটারদের প্রশিক্ষণ বা মহড়া দেওয়ার কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল কিনা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনের দিন ব্যালট পেপারে সিল মারার মাধ্যমে ভোট কারচুপি বা কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল কিনা—সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহেদ পারভেজ বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা পুলিশকে জানিয়েছেন, অর্ডার পাওয়ার পরই তিনি এসব সিল তৈরি করছিলেন। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, সৌরভ হোসেন নামের এক ব্যক্তি সিলগুলো তৈরির অর্ডার দিয়েছেন।’

ওসি আরও বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সিল তৈরির পেছনের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং সৌরভের সঙ্গে এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি