ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ৩০ জুলাই ২০২৬

ধামা ইলিয়াছের তথ্যে ডেভিড ইমনসহ ৪ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২০:১৯, ৩০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২০:৪৩, ৩০ জুলাই ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার এজাহারভুক্ত আসামি ধামা ইলিয়াছের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চার সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। 

একই সঙ্গে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজিসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, রিমান্ডে ধামা ইলিয়াছকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুদ ও সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। এদিন দুপুরে ডেভিড ইমনসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে গত ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ধামা ইলিয়াছ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুদ ও সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি কুখ্যাত সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ২১টি মামলা রয়েছে।

এসপি মাসুদ আলম জানান, রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৯ জুলাই যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমন (২৫), আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), মো. শামীম (২৮) এবং মো. সাফায়েত হোসেনকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। 

এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার ভোরে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের পাইট্ট্যাল টিলাপাড়ার একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি