ঢাকা, সোমবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে মারামারি,আহত ১

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২১:০৩, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সাদা দলের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ে এই সংঘর্ষ হয়। এতে ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবাল নামের একজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপাচার্য ড. আলিমুল ইসলাম এর প্রশাসনিক অনিয়মের প্রতিবাদ জানাতে এদিন দুপুরে একদল শিক্ষক উপাচার্যের কার্যালয়ে যান। তাদের কয়েকজন উপাচার্যকে পদত্যাগ করতেও বলেন। এ নিয়ে প্রক্টর ড. জসিম উদ্দিন ও ফিশ বায়োলজি ও জেনেটিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবালের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইকবালকে ঘুষি মারেন। মারামারি থামাতে গিয়ে আহত হন আরও কয়েকজন শিক্ষক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদ্যা ও হাওর কৃষি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন, ড. মাহবুবের পাশাপাশি প্রক্টর তাকেও লাথি দিয়েছে, মারধর করেছে। আমরা উপাচার্যের বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়ম ও প্রশ্ন-উত্তর প্রসঙ্গে ভিসির সঙ্গে দেখা করতে গেলে হঠাৎ করেই আমাদের লক্ষ্য করে আক্রমণ করে উপাচার্যের লোকজন। এতে ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। অনেক শিক্ষক হামলাকে ‘মত প্রকাশের ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া শিক্ষকদের একটি অংশ জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, গত কিছুদিন ধরে উপাচার্য বিধিবহির্ভূতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ শুরু করেছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও তিনি যথারীতি অফিস করছেন এবং লোক নিয়োগ করছেন। পাশাপাশি উপাচার্যের বিরুদ্ধে পদোন্নতি থেকে শিক্ষকদের বঞ্চিত করা এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুললে সম্প্রতি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অধ্যাপক মাহবুব ইকবাল বলেন, আমরা অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলে প্রক্টরের লোকজন আমাকে মেরে রক্তাক্ত করেছেন। মেরে আমার নাক-মুখ ফাটিয়ে দিয়েছে তারা। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি এখন একটু বিশ্রামে আছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম জানান, ‘আজ আমার চেম্বারে যা ঘটেছে, তা একটি পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। যারা প্রশাসনের পরিবর্তন মেনে নিতে পারছেন না, তারাই মূলত ‘মব’ তৈরি করে এই হামলা চালিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেয়ার পর আগের প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা কাজে অসহযোগিতা করছিলেন, যার ফলে আমি পরিবর্তন আনতে বাধ্য হই। আজ যারা পদ হারিয়েছেন তারা পরিকল্পিতভাবে আমার চেম্বারে এসে ‘মব’ সৃষ্টি করেছেন। তারা কেবল আমাকে অপদস্থই করেনি, আমার উপস্থিতিতেই সিনিয়র শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলেছে। এমনকি বর্তমান প্রক্টর জসিম উদ্দিন সাহেবের ওপরও শারীরিক আক্রমণ চালানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঘটনার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই এটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। এর মানে হলো এটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত একটি ষড়যন্ত্র।’

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি