ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০১৯ ৩:৫০:২৩

Ekushey Television Ltd.

হামলায় তিন বাংলাদেশী নিহত

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:০১ পিএম, ১৫ মার্চ ২০১৯ শুক্রবার | আপডেট: ০৮:৫১ পিএম, ১৫ মার্চ ২০১৯ শুক্রবার

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্ট-চার্চের দু`টি মসজিদে গোলাগুলি হয়েছে। নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ঐ সময় মসজিদে গিয়েছিল এবং ঠিক যখন হামলার ঘটনাটি ঘটে তারা মসজিদের ভেতর প্রবেশ করতে যাচ্ছিল। তবে ক্রিকেটাররা সবাই সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।

নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ জানিয়েছেন, হামলায় ৪৯ জন মারা গেছে। ২০ জনেরও বেশি গুরুতর আহত।

নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩ জন বাংলাদেশী নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে নিউজিল্যান্ডের জন্য নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস

দূতাবাসের অনারারী কনসাল শফিকুর রহমার ভুইয়া জানিয়েছেন, যে দু`জন বাংলাদেশীর পরিচয় সম্পর্কে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছিলেন।

বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে চারটায় তিনি জানান যে আরও একজনের মৃত্যু কথা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. আবদুস সামাদের স্ত্রী, যাকে এর আগে নিখোঁজ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

ড. আবদুস সামাদ স্থানীয় লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন। এর আগে ড. সামাদ বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন বলে জানান শফিকুর রহমান।

নিহত আরেকজনে পরিচয় সম্পর্কে মি. ভুইয়া বলেন যে মিসেস হোসনে আরা ফরিদ একজন গৃহবধূ ছিলেন।

এছাড়াও অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দু`জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যাচ্ছে।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডেন বলেছেন, এই ঘটনা তাঁর দেশের ইতিহাসের `অন্ধকারতম অধ্যায়`গুলোর একটি।

পুলিশ বলছে এখন পর্যন্ত এক নারীসহ অন্তত চারজন তাদের জিম্মায় রয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ঐ এলাকার সব মসজিদ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা নিরাপদ আছেন। বাতিল করা হয়েছে ১৬ই মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টেস্ট।

গোলাগুলির ঘটনায় বেঁচে ফিরে আসা মোহন ইব্রাহীম নামের একজন বলেন, গুলি শুরু হওয়ার পর আল নূর মসজিদের জানালা ভেঙে মানুষ পালাতে থাকে। টানা ১০-১৫ মিনিট গুলি চালায় বন্দুকধারী।

“সে (হামলাকারী) সবাইকে গুলি করতে থাকে। যাকেই তার মনে হয়েছে যে সে বেঁচে আছে, তাকে লক্ষ্য করে সে আবার গুলি চালায়”, রেডিও নিউজিল্যান্ডকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন তিনি।

আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন অন্তত ২০ মিনিট ধরে গোলাগুলি চলে।

তিনি বলেন, “আমি আসলে শুধু একটা প্রার্থনাই করছিলাম। তার (হামলাকারীর) গুলি যেন শেষ হয়ে যায়।”

এখন পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে

ক্রাইস্টচার্চের দু’টি মসজিদে গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হয়েছে। ৪১ জন নিহত হয়েছেন আল নূর মসজিদে এবং ৭ জন মারা গেছেন লিনউড মসজিদের ঘটনায়। আরেকজন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার সময় মারা যান। নিউজিল্যান্ডের পুলিশ এই ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদী ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে।

২৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাকে শনিবার আদালতে হাজির করা হবে। পুলিশের জিম্মায় আরো দুইজন রয়েছেন। আর আগে আটক করা একজন ‘এই ঘটনার সাথে জড়িত নন।’

পুলিশ বলেছে, আপাতত শহরে বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি থাকবে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন একে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে এটি দেশটির ইতিহাসের "কালো দিনগুলোর" একটি।

হামলার সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা ঐ মসজিদের দিকেই যাচ্ছিলেন যখন তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং তারা পাশের একটি পার্কে ঢুকে পড়েন। ১৬ই মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টেস্ট বাতিল করা হয়েছে।

ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ফ্রান্স

ফ্রান্সের মন্ত্রী ক্রিস্টফ কাস্টানার ঘোষণা করেছেন যে `সতর্কতা` অবলম্বন করতে ফ্রান্সের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লিনউড মসজিদে হামলা সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

আল নূর মসজিদে প্রথম হামলা হওয়ার কিছুক্ষণ পর লিনউড মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটে বলে এখন পর্যন্ত জানা যাচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলের হেলমেট পরিহিত একজন বন্দুকধারী মসজিদের ভেতরে প্রার্থনারত প্রায় ১০০ জনের দিকে গুলি চালানো শুরু করেন।

সাইয়েদ আহমেদ নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী নিউজিল্যান্ডের একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে বন্দুকধারী গুলি চালানোর সময় `চিৎকার করে কিছু একটা বলছিলেন।`

আহমেদ বলেন, তিনি অন্তত আটজনকে মারা যেতে দেখেছেন, যাদের মধ্যে দু`জন তার বন্ধু ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন বিলম্বিত হওয়াতেই বেঁচে গেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। আল নূর মসজিদের কাছেই অনুশীলন করতে থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা ঐ মসজিদের দিকেই যাচ্ছিলেন যখন তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং তারা পাশের একটি পার্কে ঢুকে পড়েন।

নিউজিল্যান্ড থেকে পাওয়া খবর থেকে জানা যাচ্ছে যে, একটি সংবাদ সম্মেলন দেরি করে শুরু হওয়ায় তারা কিছুটা দেরিতে মসজিদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। অন্যথায় তারা হয়তো হামলার সময় মসজিদের ভেতরেই থাকতেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা

এসি

 



© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি