শ্রীমঙ্গলে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য
অবশেষে চক্রের মূলহোতা খালেদ গ্রেপ্তার
প্রকাশিত : ২০:৪১, ২১ মে ২০২৬
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন শহর ও শহরতলীর বাসিন্দারা। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষ করে নারী পথচারীদের টার্গেট করে মোটরসাইকেলযোগে ছিনতাই চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যেত একটি সংঘবদ্ধ চক্র। দীর্ঘ তদন্ত ও শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর অবশেষে চক্রটির মূলহোতা খালেদ আহমেদকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ জানায়, চক্রটি সাধারণত একটি মোটরসাইকেলে দুই বা তিনজন করে ঘুরে বেড়াত। সুযোগ বুঝে পেছনে থাকা সদস্য ধারালো দা বের করে মুহূর্তের মধ্যে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যেত।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, ছিনতাইকারীরা শ্রীমঙ্গলের বাইরে থেকে এসে বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ সংঘটিত করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করত। তাদের ধরতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল চেকপোস্ট বসায় এবং নানা কৌশলে অভিযান পরিচালনা করে। তবে শুরুতে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মহিবুর রহমান ধারাবাহিক তদন্ত শুরু করেন। তিনি ঘটনার স্থানগুলো পরিদর্শন করে সময় ও বর্ণনা অনুযায়ী সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। গত ১৫ দিনে তিনি প্রায় শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন, যার অন্তত ২৫টিতে ছিনতাইকারীদের উপস্থিতি শনাক্ত হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়ক, কমলগঞ্জ, শমশেরনগর, কুলাউড়া হয়ে সিলেট পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চক্রটির গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। পরে গত ১৯ মে সিলেট নগরীর জালালাবাদ থানার আখালিয়া গেট এলাকার একটি বাসা থেকে চক্রের মূলহোতা খালেদ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার খালেদ সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার গৌরাবাড়ী এলাকার বাশির মিয়ার ছেলে। এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, হেলমেট, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও পার্স উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, এই চক্র শুধু শ্রীমঙ্গলে নয়, মৌলভীবাজার সদর ও হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ এলাকাতেও একাধিক ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। তাদের আরও কয়েকজন সহযোগী রয়েছে।
শ্রীমঙ্গলের রূপসপুর এলাকার শিক্ষিকা অর্পিতা রায় জানান, গত ৩ মে বিকেলে স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে রূপসপুর আখড়ার পাশে মোটরসাইকেলযোগে এসে ছিনতাইকারীরা ধারালো দা দেখিয়ে তার প্রায় পৌনে এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
একই দিনে শহরের বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি ছিনতাই ও ছিনতাইচেষ্টার ঘটনা ঘটে। মাস্টারপাড়া এলাকায় জয়া সাহা নামে এক নারীর গলায় দা ধরে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হলে তিনি আহত হন। এসব ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর অনেকেই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া কমিয়ে দেন।
মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা বলেন, “অনেক কষ্ট করে আমরা এই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছি। চক্রটি একাধিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
পুলিশ জানায়, প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ২০ মে গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ছিনতাই প্রতিরোধে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এমআর//
আরও পড়ুন










