আশুলিয়ায় ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন, পরকীয়ার বলি তারা
প্রকাশিত : ১০:২০, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খুন হওয়ার আগে বাসার পাশের এক চা দোকানে সহধর্মীনী নাজমা খাতুন (৩৯) ও খুনি মনিরুজ্জামান হৃদয় (৪৪)কে নিয়ে চা খেয়েছিলেন স্বামী আলমগীর কবির (৪৫)। পরে তাদের নিয়েই নিজ ঘরে গিয়ে খুনের শিকার হন তিনি ও তার পরিবার।
নাজমার সাথে হৃদয়ের পরকীয়ার জের ধরে স্বামী আলমগীরের প্রথমে বাদানুবাদ শুরু হয়। পরক্ষণে নাজমা স্বামীর উপস্থিতিতে ঝাড়ু দিয়ে পরকীয়া প্রেমিক হৃদয়কে মারতে থাকে। হৃদয় নিজেকে সামলে নিয়ে অন্তঃস্বত্তা নাজমা খাতুনকে সজোরে তলপেটে লাথি দিলে সে ঘরের মেঝেতে পরে গিয়ে প্রচণ্ড ব্যথায় ছটফট করতে করতে এক পর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। সেখানেই মৃত শিশুটির ভূমিষ্ঠ হয়।
সহধর্মীনীর এ অবস্থা দেখে খুনির উপর ঝাঁপিয়ে পরে স্বামী আলমগীর কবির। এ সময় অনেকক্ষণ ধ্বস্তাধস্তি হয় তাদের মধ্যে। এক পর্যায়ে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকেও হত্যা করে পালিয়ে যায় খুনি হৃদয়।
সম্প্রতি আশুলিয়ার জামগড়া ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় এমন লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে খুনি মনিরুজ্জামান হৃদয় নিজেই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর ) দুপুরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা এর উদ্যোগে এক প্রেস ব্রিফিং এ তথ্য জানান পিবিআইর জেলা পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।
তিনি আরও জানান, প্রায় তিন বছর ধরে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় নিহত দিনাজপুরের আতিয়ার রহমানের মেয়ে নাজমা খাতুনের সঙ্গে প্রেমঘটিত শারীরিক সম্পর্ক ছিল পার্শ্ববর্তী ভাড়াটিয়া মনিরুজ্জামান হৃদয়ের (৪৪) সাথে। পরবর্তীতে একই জেলার নিশা কাজলদিঘী গ্রামের আলমগীর কবিরের সাথে নাজমার বিয়ে হয়। সংসার জীবনের এক পর্যায় বিষয়টি স্বামী আলমগীর টের পেয়ে নরসিংহপুর থেকে স্থান পরিবর্তন করে দুই মাস আগে জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার ৫৬নং রুমে ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠেন তারা।
দূরে সরে গেলে সম্পর্কের ছেদ হবে এমন ভেবে খুনি হৃদয়ের মনে ধীরে ধীরে সংশয় ও ক্ষোভ জন্মে। পরকীয়া সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে নাজমার সাথে যোগাযোগ রাখতে থাকে সে। এ নিয়ে আলমগীরের সাথেও নাজমার মনোমালিন্য হয়।
ঘটনার দিন গত ২ সেপ্টেম্বর আলমগীর ও নাজমার সঙ্গে ওই বাড়িতে আসে খুনি হৃদয়। নীচে চায়ের দোকানে একসঙ্গে তারা চা খায়। পরে তাকে নিয়ে ঘরে আসেন। সেখানে অনেকক্ষণ অবস্থান করেন। নাজমা হৃদয়কে এ সময় মুড়িও খেতে দেন। পরে তাদের তিন জনের মধ্যে এ সম্পর্ক নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায় তাদের হত্যা করে পালিয়ে যায় হৃদয়।
পরে ৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয়রা ঘরের ভেতর থেকে গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে আশুলিয়া থানা পুলিশ এসে ভূমিষ্ঠ শিশুসহ ওই দম্পতির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পরেরদিন (৬ সেপ্টেম্বর) নিহত নাজমার বোন শাপলা বেগম আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-৩০) দায়ের করলে পিবিআই তা তদন্ত করে।
এরপর আলামত ও তথ্য প্রমাণাদির সাহায্যে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আশুলিয়ার নরসিংহপুর থেকে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান হৃদয়কে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত হৃদয় ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার দাম দরদী গ্রামের জব্বার মাতব্বরের ছেলে।
এএইচ
আরও পড়ুন










