ছাত্রীদের কুপ্রস্তাবের অভিযোগ, সেই শিক্ষককে অব্যাহতি
প্রকাশিত : ১২:০৫, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গোপনে ডেকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলা, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শের চেষ্টা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরপর অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার আশ্বাসে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফিরে যান। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুককে বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়ে অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক কুরুচিপূর্ণ কথা ও কুপ্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওই ছাত্রীর মা বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানান।
অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দিদারুল আলম ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম তালুকদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।
ভুক্তভোগী এক ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক তাকে বয়ঃসন্ধিকাল নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন এবং শরীরের পালস মাপার কথা বলে বোরকা খুলতে বলেন। বিষয়টি একাধিকবার প্রধান শিক্ষককে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তার অভিযোগ।
আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ফারুক স্যার বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের আলাদাভাবে ডেকে ব্যক্তিগত ও অশালীন মন্তব্য করতেন। কেউ কেউ তাকে শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে মন্তব্য করা, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শের চেষ্টা এবং একা দেখা করতে বলার অভিযোগ করেন।
অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষক তাকে ব্যক্তিগতভাবে ডেকে ‘সোনা ময়না পাখি’ বলে সম্বোধন করতেন এবং তার পোশাক ও ঠোঁট নিয়ে মন্তব্য করতেন।
অন্য এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ফলাফল সংক্রান্ত বিষয় দেখানোর কথা বলে তাকে একা ডেকে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ কথা বলা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘এ ধরনের আচরণের অভিযোগ যার বিরুদ্ধে উঠেছে, এমন শিক্ষককে আমরা বিদ্যালয়ে দেখতে চাই না। তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে তাকে চূড়ান্ত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’’
তবে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুককে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি ফোনটি তুলেননি। তাই এ বিষয়ে তার বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম তালুকদার বলেন, ‘‘টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় একটি নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শুনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্ত চলাকালে বিষয়টি নিয়ে গুজব বা উত্তেজনা না ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদানে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এএইচ
আরও পড়ুন










