ঢাকা, সোমবার   ০৮ আগস্ট ২০২২

ঝালকাঠিতে অসহায় পরিবারকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি: 

প্রকাশিত : ২১:৫১, ২১ জুলাই ২০২০

ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাউকাঠি গ্রামের এক অসহায় ঋষি ( মুচি) পরিবারের বসত ঘরের বাহিরের বারান্দার আড়ার সাথে ১১পিচ ইয়াবা রেখে ফাঁসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে হতদরিদ্র সংখ্যালঘু পরিবারের শেষ সম্ভল ৩ কাঠা জমি গ্রাস করতেই এই ইয়াবা রেখে উদ্ধারের নাটক সাজিয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছে। 

দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় একটি ভূমীলোভী চক্রের লোলুপ দৃষ্টি পড়ায় তারাই ভিটামাটি ছাড়া করার জন্য পুলিশের সাথে যোগসাজসে ইয়াবা রেখেছে ও তার ভাই রবিন দাসকে আটক করিয়েছে দাবী করেন।

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি মো: খলিলুর রহমান জানান, সোমবার দুপুর ১২টা দিকে নবগ্রাম ইউনিয়নের বাউকাঠি গ্রামে গোপন সংবাদে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রবীন দাসের (৪৫) ঘরের সামনের বারান্দার আড়ায় লুকানো অবস্থায় ১১পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়।

এ ঘটনায় রবীন দাসকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে ঝালকাঠির একমাত্র নারী মুচি সবিতা দাস জানায়, তার ভাই রবিনের পান-সিগারেট কোন কিছুর নেশা নাই, কসাইয়ের কাজ করে সংসার চালায়। আর সে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় ফুটপাতে মুচির কাজ করে সংসারের সহায়তা করে।

আমরা যদি ইয়াবা বেচতাম তাহলে একজন নারী হয়েও আমাকে ফুটপাতে জুতা সেলাই করতে হতো না। কয়েক বছর ধরে এলাকার স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ভূমীলোভী চক্র তাদের পৈত্রিক জমিটুকু হাতিয়ে নিতে জোরপূর্ব বিক্রিসহ নানাধরনের হুমকী-ধূমকি দিয়ে আসছিল।

সংগ্রামী এ নারী মুচি সবিতা আরও বলেন, এই চক্রের মদদে এলাকার কিছু বখাটে ও খারাপ লোক বিভিন্ন অজুহাতে দিনরাতে আমাদের ঘরের মধ্যে প্রবেশ করতো। তাদের কখনো নিষেধ করলে আমার মা-বোনদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতো। তার মৃত পিতার মোট ৫ কাঠা জমি থাকলেও ২ কাঠা খালে বিলিন হয়ে গেছে। এখন অবশিষ্ট তিন কাঠা জমিতে ভাঙ্গাচুরা একটি ঘরে তারা বসবাস করে আসছে।

ইতিপূর্বে তাদের ঘরের সামনে পৈত্রিক জমিতে স্থানীয় কতিপয় লোক জোরপূর্বক দোকান ঘর উঠিয়ে ভাড়া আদায় করলেও আমরা ভয়ে তাতে বাঁধা দিতে সাহস পাইনি। এখন শেষ সম্বল জমিটুকো গ্রাস করতে ইয়াবা উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে আমার ভাইকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করিয়ে হয়রানি করছে বলে দাবী করেন সবিতা।

এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান বলেন, পরিবারটি যদি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে থাকে তবে সেটা তদন্তে বেড়িয়ে আসবে। পুলিশ সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করবে বলেও জানান ওসি।

আরকে//


Ekushey Television Ltd.

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি