ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৯ নভেম্বর ২০২২

পেঁয়াজসহ সবজির দাম কমছে

প্রকাশিত : ১৪:৩৬, ১৯ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ১৫:০৮, ১৯ জানুয়ারি ২০১৮

বেশকিছু দিন ধরে রাজধানীসহ সারাদেশে মাঝারি ও ভারি শৈত্যপ্রবাহের পর শীতের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। এরই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমতে শুরু করেছে বেশকিছু সবজিসহ পেঁয়াজের দামও। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে গত মাস থেকে সবজির দাম ছিল ঊর্ধমুখী। তবে বর্তমানে পেঁয়াজসহ সব ধরণের সবজির দাম-ই কমতে শুরু করেছে।

রাজধানীর নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহ ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি কমেছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। গত সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। বর্তমানে পাইকারিতে কেজিপ্রতি ভারতীয় মোটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা পর্যন্ত। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে। এছাড়া সপ্তাহ ব্যবধানে আদার দর কেজিপ্রজিতে ২০ টাকা কমেছে । গত সপ্তাহে প্রতিকেজি আদা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে মিলছে ৮০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছে আরও কমতে পারে পেঁয়াজের দাম।

তারা আরও জানান, আগামী সপ্তাহে শীতকালীন সবজিসহ পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম ক্রেতাদের সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। এদিকে ক্রেতাদের দাবি, প্রশাসনের নজরদারি না থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়েই চলছে। এজন্য প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তারা।

আজ শুক্রবার রাজধানীর নিউমার্কেট কাঁচবাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতকালীন সবজি সপ্তাহ ব্যবধানে কমেছে ৬-১০ টাকা। বর্তমানে মুলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৪২ টাকা দরে, আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০-৬০ টাকা, শসা ৩০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, গাজর ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, শুকনা মরিচ ১৫০ টাকা, ঢেঁড়স ও ঝিঙ্গা ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরণের শাকের আঁটি মিলছে ১০ টাকায়। এদিকে কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৫২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে গরুর মাংস। খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ৭০০ থেকে ৭২০ টাকায় বিক্রিয় হচ্ছে খাসির মাংস।

নিউমার্কেট কাঁচাবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আশরাফ আলী অভিযোগ করে বলেন, রাজধানীর কাঁচাবাজার নিয়ন্ত্রণ করে বেশকিছু সিডিকেন্ট। তারা মূলত বাজারের দাম নির্ধারণ করছে। তবে সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও সপ্তাহে বব্যধানে পেয়াঁজের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে এসেছে। আগামী সপ্তাহে দাম আরও কমবে বলে জানান তিনি।

এছাড়া কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোছাইন জানান, অনেক ব্যবসায়ী আছেন যারা নানা অজুহাত দেখিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়েই চলছেন। তাদের অজুহাতগুলো কতটুকু যৌক্তিক তা প্রশাসনকে দেখতে হবে। নয়তো ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াতে থাকবে। তাই প্রশাসনের নিয়মিত বাজার তদারকির উপর জোর দেন তিনি।

তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের উপর দোষ চাপালেও আড়ত ব্যবসায়ীরা বলছে ভিন্ন কথা। নিউমার্কেট পেঁয়াজ, রসুন ও আদা আড়ত ব্যবসায়ীরা জানায়, দেশি পেঁয়াজের পর্যাপ্ত চাহিদা থাকলেও পাইকারি বাজারে সরবরাহ নেই বললেই চলে। আর সরবরাহ কম থাকায় পেঁয়াজের দাম কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমছে না বলে দাবি করেন তারা। তবে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে যথেষ্ট পরিমাণ দেশি পেঁয়াজের যোগান থাকলেও খুচরা বাজারে তেমন কোন প্রভাব পড়ছেনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, নিউমার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি কাওসার আহমেদ বলেন, দেশীয় উৎপাদিত পেঁয়াজ, রসুন ও আদা বাজারে আসতে শুরু করেছে। ফলে বাজারে পেঁয়াজসহ সবজির দাম কমতে শুরু করেছে।


টিআর/এমজে

 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি