আরও একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের
প্রকাশিত : ১১:৪৪, ৪ মার্চ ২০২৬
ইরানের সেনাবাহিনী ও এর শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর আগে তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছিল দেশটি।
বুধবার (৪ মার্চ) তেহরান ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন দায়িত্বশীল সামরিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এর আগে সোমবার তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে আরও একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংসের খবর মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে নিখুঁত নিশানায় মার্কিন এই যুদ্ধবিমানটিকে আঘাত করা হয়। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভূপাতিত হওয়া বিমানের ধ্বংসাবশেষ এবং বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলটদের বেরিয়ে আসার বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সোমবার সকালেও ইরান-কুয়েত সীমান্ত এলাকায় একটি আমেরিকান এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল, যে ঘটনার সত্যতা কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। কুয়েতের মাটিতে বিধ্বস্ত হওয়া সেই বিমানের ফুটেজগুলো এখন আন্তর্জাতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
সামরিক সূত্রটি জানিয়েছে, ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘনের যেকোনো প্রচেষ্টাকে অত্যন্ত কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে। সোমবারের সফল অভিযানের পর থেকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা মার্কিন ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের গতিবিধি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বিধ্বস্ত বিমানগুলোর ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া উড়ছে এবং পাইলটরা প্যারাশুটের সাহায্যে অবতরণ করছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবে কুয়েত ও ইরানের সীমান্তে সামরিক তৎপরতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের ‘হোমগ্রোন’ বা দেশীয় প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলো বিদেশি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোকাবিলায় অভাবনীয় সাফল্য প্রদর্শন করছে। খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে যে, গত কয়েক দিনে মোট চারটি মার্কিন এফ-১৫ বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ধারাবাহিক সাফল্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতার চিত্র যেমন স্পষ্ট হচ্ছে, তেমনি এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে পুরো সীমান্ত এলাকা জুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছে সামরিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
এএইচ
আরও পড়ুন










