ঢাকা, মঙ্গলবার   ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ছাড়িয়েছে  ৯০০

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৪:৫৮, ৩১ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৫:১৪, ৩১ আগস্ট ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট অভূতপূর্ব ও বিধ্বংসী বন্যায় নেপালে নিহতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। পাহাড়ের ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকে পড়া কর্মীদের উদ্ধারে সেনাসদস্য ও উদ্ধারকারীরা রাতভর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। নেপাল সরকারের এই বৃহৎ উদ্ধার অভিযানে সরাসরি সহায়তায় এগিয়ে এসেছে প্রতিবেশী দেশ চীন ও ভারত।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও কাদার ঢলে নেপালে ৯০৩ জন নিহত এবং ৪,২৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। একই দুর্যোগ সীমান্ত পেরিয়ে চীনের তিব্বত অঞ্চলেও আঘাত হেনেছে; সেখানে ১৬ জন নিহত এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

কাদা ও পাথরের স্তূপে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রায় এক ডজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া কর্মীদের উদ্ধারে মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুড়ঙ্গের জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হওয়ায় চীন ও ভারতের কারিগরি সাহায্য নিচ্ছে নেপাল। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ জন কর্মীর পাশাপাশি 'ট্রাক অ্যান্ড কন্টেইনার অ্যাসোসিয়েশনের' প্রায় ৫০০ কর্মী এবং ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক (তিব্বত অংশে) নিখোঁজ রয়েছেন।

কাঠমান্ডুর হাসপাতালগুলোতে মর্গের ধারণক্ষমতা পেরিয়ে যাওয়ায় নিখোঁজদের খোঁজে স্বজনরা বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটছেন। বহু অচেনা মৃতদেহ দ্রুত সমাহিত করতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ একে “অভূতপূর্ব ও ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ” বলে উল্লেখ করেছেন। দুর্গম ভূখণ্ড সত্ত্বেও প্রায় ২১ হাজার নিরাপত্তা কর্মী, বেসামরিক সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সর্বাত্মক উদ্ধারের তাগিদ দিয়েছেন। চীনের তিব্বত অংশে ২,১০০ জন উদ্ধারকর্মী এবং প্রায় ২২ কোটি ইউয়ান (৩৩ মিলিয়ন ডলার) ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নেপালকে উপগ্রহ-ভিত্তিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে বেইজিং। রেড ক্রসের মতে, এই দুর্যোগে ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সাথে সম্পর্কিত বলে চীন উল্লেখ করেছে।

বন্যার স্রোতে প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা পুরোপুরি ভেসে যাওয়ায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া নেপাল-চীন সীমান্তে নতুন করে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি উপচে পড়ার আশঙ্কায় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কয়েকবার উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখতে হয়েছিল। তবে সোমবার আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে আসায় রাসুয়াসহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে কাজ আবার জোরদার করা হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা 
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি