ঢাকা, শুক্রবার   ৩১ জুলাই ২০২৬

আত্মসমর্পণের আগেই গ্রেপ্তার হতে পারেন শেখ হাসিনা: আইনমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৪:৫০, ৩০ জুলাই ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশে ফিরতে চাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ীই প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজন মনে করলে আত্মসমর্পণের আগেই তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে।

তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি দণ্ডপ্রাপ্ত বা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে দেশে ফিরে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আত্মসমর্পণ করার অধিকার রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের দুটি সমঝতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সঙ্গে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি (সেলপ) ব্র্যাকের এই সমঝতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। 

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে শুক্রবার দেশে ফেরার সম্ভাব্য ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে তার প্রত্যাবর্তন হলে আইনি প্রক্রিয়া কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণের চেষ্টা করছে কিনা, সে বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে কেউ কীভাবে দেশে আসবেন, সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়। তিনি বাংলাদেশের আইনগত আওতায় প্রবেশ করলেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, তিনি কীভাবে আসবেন, সেটা তার বিষয়। কিন্তু আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে প্রবেশ করলে আইন আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছে, সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করা হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তিনি জানান, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

তিনি বলেন, সংসদের পরবর্তী অধিবেশনও সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। তাই আপাতত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের প্রয়োজনীয়তা সরকার দেখছে না। তবে প্রয়োজনে সরকার বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আদালতগুলোতে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি বড় বোঝা। এই মামলা জট কমানোর লক্ষ্যেই সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৯৪ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলেই প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে দেশে প্রথম সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, যা ২০০১ সালে আইনে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে আমরা সেই আইনকে আরও যুগোপযোগী করেছি।’

সরকারের একার পক্ষে এই বিশাল কাজ শেষ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ব্লাস্ট ও ব্র্যাকের মতো অভিজ্ঞ এনজিওগুলোর দক্ষতা ও প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে সরকার কাজে লাগাতে চায়। পাশাপাশি জাপান (জাইকা), জার্মানির জিআইজেড ও ইউএনডিপির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাও এডিআর জোরদারে সহযোগিতা করছে।

আইনগত সহায়তার সর্বজনীন অধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি নির্যাতনের ঘটনা এবং এক নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের আইনি সহায়তার বিষয়ে জানান, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সরকারি খরচে লিগ্যাল এইড থেকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অর্থের অভাবে দেশের কোনো মানুষ যেন বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস, অতিরিক্ত সচিব এস, এম, এরশাদুল আলম, আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন, ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং ব্র্যাকের সেল্প কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি