ঢাকা, সোমবার   ১৭ আগস্ট ২০২৬

সরকারের ১৮০ দিনের পথচলা স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার প্রতিফলন: মাহদী আমিন

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৩:১৯, ১৭ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৫:১১, ১৭ আগস্ট ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, সরকারের প্রতি জনগণের অভূতপূর্ব জনসমর্থন রয়েছে। গত ছয় মাসে অজস্র গণসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে যেখানে গিয়েছেন সেখানে জনগণের ঢল নেমে এসেছে। সরকারের ১৮০ দিনের পথচলা জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতারই প্রত্যক্ষ প্রতিফলন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আজকের সরকারের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী দেড় দশকের সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম -যেখানে গুম-খুন হামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন পেরিয়ে- বাংলাদেশের সব গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্বে রাজপথে ছিল। সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় প্রতিটি শ্রেণী ও পেশার মানুষ এবং গণতন্ত্রকামী প্রতিটি রাজনৈতিক দল এক হয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় গণমানুষের যে আকাঙ্ক্ষা এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানবাধিকার থাকবে, বাকস্বাধীনতা থাকবে, আইনের অনুশাসন থাকবে। আমরা ঠিক সেটিই দেখেছি সরকারের কার্যক্রমে। 

মাহদী আমিন বলেন, গত ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন ও মানবাধিকারে সর্বোচ্চ মানদণ্ড স্থাপন দেখেছি, যেখানে একটি বারের জন্য কখনো কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি। অনেক সময় বাকস্বাধীনতা সেটা সীমালঙ্ঘন করেছে। আমরা দেখেছি, কীভাবে উস্কানি দেওয়া হয়েছে, অশোভন আচরণ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে -যেভাবে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র এসটাবলিশড করেছিলেন- সেটিকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে জনগণের সরকার।

তিনি জানান, সরকার গঠনের পর দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন সংসদের প্রথম অধিবেশনে শতাধিক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের সেই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে। 

সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন,  'ভোট গ্রহণের পরপরই সরকারের নির্বাচন ইশতেহার, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯-দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’, বিএনপির ২৭-দফা এবং যুগপৎ আন্দোলনের ৩১-দফার আলোকে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১৩ লক্ষ কৃষক পরিবারের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফ করা হয়। এছাড়া কৃষকদের জন্য 'কৃষক কার্ড', নারীদের জন্য 'ফ্যামিলি কার্ড', প্রবাসীদের জন্য 'প্রবাসী কার্ড', ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা এবং দেশজুড়ে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।'

মাহদী আমিন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেলের দাম বাড়ালেও একটা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সরকার তেলের দাম না বাড়িয়ে বরং সরবরাহকে নিরবচ্ছিন্ন রেখেছিল।

মুখপাত্র বলেন, পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। সরকার গঠনের পর সেই রাষ্ট্রব্যবস্থায় যেন কোনও সিন্ডিকেট না হয়, যেন কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো না হয়, সেভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ফিতর এবং ঈদুল আজহাতে দীর্ঘ সময় পর কোনও ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ হয়নি। কারণ সরকারে দৃঢ় পদক্ষেপে শ্রমিক, মালিক , ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন, বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন সবাইকে এক করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। যাতে প্রতিটি শ্রমিক তাদের বেতন ও বোনাস বকেয়া বুঝে পান।

এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান, স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী, এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল এবং অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত আছেন।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি