ঢাকা, শুক্রবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না রোহিতরা!

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৮:৪০, ১০ নভেম্বর ২০২২

ডাগআউটে ক্রন্দনরত রোহিত শর্মা

ডাগআউটে ক্রন্দনরত রোহিত শর্মা

ইংল্যান্ডের কাছে ১০ উইকেটের লজ্জার হারে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অষ্টম আসর থেকে ছিটকে যাওয়ার পরে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না রোহিত শর্মা। কেঁদে ফেললেন ভারত অধিনায়ক। এসময় তাকে সান্ত্বনা দিলেন দলের কোচ রাহুল দ্রাবিড়। 

কিন্তু তার পরেও নিজেকে আটকাতে পারছিলেন না রোহিত। মাথা নিচু করে ডাগআউটে বসে থাকতে দেখা যায় হিটম্যান খ্যাত এই ব্যাটারকে।

বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে লজ্জার হার দেখেছে ভারত। খেলা শেষ হওয়ার পরে দেখা যায় ডাগআউটে চুপচাপ বসে আছেন রোহিত। তার চোখে জল। রোহিতের সামনে বসেছিলেন ঋষভ পন্ট। তিনি কথা বলছিলেন রোহিতের সঙ্গে। তাতেও শান্ত হননি রোহিত। 

তাকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, কতটা হতাশ ও ক্ষুব্ধ তিনি। হার মেনে নিতে পারছিলেন না। রোহিতকে এভাবে বসে থাকতে দেখে তার কাছে আসেন রাহুল দ্রাবিড়। রোহিতের পিঠে হাত রাখেন ভারতের কোচ, দেন সান্ত্বনা। বেশ কিছুক্ষণ দ্রাবিড়ের সঙ্গে কথা বলেন রোহিত। তার পরে কিছুটা শান্ত হন অধিনায়ক। 

কিন্তু ক্যামেরা তার দিকে ধরলেই দেখা যাচ্ছিল, রোহিতের চোখ চিকচিক করছে। হারের হতাশা বার বার ধরা পড়ছিল রোহিতের চোখেমুখে। কাঁদতে দেখা যায় হার্দিক পান্ডিয়াকেও। কোহলিকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন মারকুটে এই অলরাউণ্ডার।

জবাব দিতে নেমে এদিন পাওয়ার প্লে-তেই খেলা ভারতের হাত থেকে ছিনিয়ে নেন ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার জস বাটলার ও অ্যালেক্স হেলস। খেলা যতই ইংল্যান্ডের হাতের মুঠোয় যেতে থাকে, ততই হতাশ হতে দেখা যায় রোহিতকে। মাঠেই মেজাজ হারাতে থাকেন তিনি। 

বার বার বোলারদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু কিছুতেই উইকেট আসছিল না। ফিল্ডিংয়েও অনেক ভুল করছিলেন ভারতীয়রা। তখনও হতাশ হতে দেখা যাচ্ছিল রোহিতকে। মাঠেও যেমন নিজেকে আটকে রাখতে পারছিলেন না তিনি। তেমনি খেলা শেষে মাঠের বাইরেও নিজেকে আটকে রাখতে পারলেন না রোহিত।

২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারত হেরে যাওয়ার পরেও কেঁদেছিলেন রোহিত। সেবারের বিশ্বকাপে পাঁচটি শতরান করেছিলেন তিনি। ভারতকে সেমিফাইনালে তোলার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল তারই। কিন্তু সেমিফাইনালে নিউজ়িল্যান্ডের কাছে হেরে ছিটকে যায় ভারত। তাই নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি রোহিত। আরও এক বার দেখা গেল সেই চিত্র।

এদিন রোহিত শর্মারা ফিরিয়ে আনেন আরও একটা চিত্র! ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের লজ্জার স্মৃতি। সেবার পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচে ১০ উইকেটে হেরে নিজেদের সম্মান খুইয়েছিলেন কোহলিরা। আর ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। ৩৮২ দিন পর ফের ১০ উইকেটে হারের লজ্জা দেখলো ভারতীয় ক্রিকেট।

এভাবে হারতে হবে বোধহয় ম্যাচের আগে স্বপ্নেও ভাবেননি রোহিতরা। হয়তো ইনিংসের ব্রেকেও করেননি এমন ভয়ানক কল্পনা। সেমিতে জেতা তো দূরের কথা, ভারতীয় বোলারদের হতশ্রী পারফরম্যান্স একেবারে মাটিতে মিশিয়ে দিল টিম ইন্ডিয়াকে। ১০ উইকেটে রোহিত শর্মার দলকে হারিয়ে অষ্টম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে চলে গেল ইংল্যান্ড।

২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসরেও বাবর আজম এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান মিলে শেষ করে দিয়েছিল ভারতকে। এদিন ভারতের সব মান-সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিলেন দুই ব্রিটিশ ওপেনার জস বাটলার ও আলেক্স হেলস মিলে। সামনে এনে দিলেন ভারতীয় টিমের কঙ্কারসার চেহারাটা। 

ভারতীয় দলের ১৬৮ রানের জবাবে ১৬ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। ২৪ বল বাকি থাকতে কোনও উইকেট না হারিয়ে ১৭০ রান তুলে ফেলে তারা। ভারতীয় বোলারদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়ে জস বাটলার করেন ৪৯ বলে অপরাজিত ৮০ রান। অ্যালেক্স হেলস ৪৭ বলে অপরাজিত ৮৬ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন। 

প্রসঙ্গত, পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড- দুই দলই কিন্তু ভারতের বিপক্ষে ১৫০-র উপর রান তাড়া করে জয় ছিনিয়ে নেয়।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কোনও দল চার ওভার বাকি থাকতেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে- এমন নজির খুঁজে পাওয়া কিন্তু কঠিন। টিম ইন্ডিয়াকে নিয়ে এ দিন রীতিমতো ছেলেখেলা করল বাটলার বাহিনী। যে উইকেটে রোহিতরা রান তুলতে হিমশিম খেলেন, সেই পিচেই কিনা সুনামী বইয়ে দিলেন ইংল্যান্ডের দুই তারকা!

বৃহস্পতিবার টসে হেরে প্রথম ব্যাট করতে নেমে হার্দিকের ৩৩ বলে ৬৬ রানের দুরন্ত ইনিংসের হাত ধরেই কিছুটা মুখ রক্ষা হয় ভারতের। টিম ইন্ডিয়া নির্দিষ্ট ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান পৌঁছায়। হার্দিকের এই ইনিংসে রয়েছে চারটি চার এবং পাঁচটি ছয়। হার্দিক ছাড়াও হাফসেঞ্চুরি করেন কোহলিও। ৪০ বলে ৫০ করে আউট হন তিনি। 

এর বাইরে বাকি ব্যাটারদের অবস্থা তথৈবচ। ওপেন করতে নেমে রোহিত শর্মা ২৮ বলে তাও কোনওক্রমে ২৭ করেন। আরেক ওপেনার কেএল রাহুল তো আউট হয়ে যান ৫ বলে ৫ রান করে। সূর্যকুমার যাদব করেন ১০ বলে মাত্র ১৪ রান। 

সেমিফাইনালে ভারতের প্রথম সারির তিন ব্যাটারই এ দিন ডুবিয়েছেন টিমকে। পরে ডোবালেন বোলাররা। তারা কোনও উইকেটই তুলে নিতে পারলেন না। আইসিসি টুর্নামেন্টে আরও একবার ব্যর্থতার বোঝা নিয়ে মাথা নীচু করে দেশে ফিরতে হচ্ছে রোহিতদের।

এনএস//


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৩ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি