ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার সিঙ্গাপুরের কাছেও হারল বাংলাদেশ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৮:২০, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ফিফা-আসিয়ান কাপের বাছাইপর্বে টানা দ্বিতীয় হারের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ার কাছে প্রথম ম্যাচে ৩–০ গোলে হারের পর এবার সিঙ্গাপুরের কাছে ১–০ গোলে হেরেছে জামাল ভূঁইয়ার দল।

জাকার্তায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে সিঙ্গাপুরের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন রায়ান স্টুয়ার্ট। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে তাঁর হেড থেকেই আসে জয় নিশ্চিত করা গোলটি।

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য বাংলাদেশকে বেশ আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। প্রথম ১৫ মিনিটে বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল লাল-সবুজের দল। দ্বিতীয় মিনিটেই কর্নার পায় বাংলাদেশ। জামাল ভূঁইয়ার নেওয়া কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি হলেও বক্সে থাকা কোনো বাংলাদেশি খেলোয়াড় বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি।

১৫ মিনিটে রাকিব হোসেন বল নিয়ে সিঙ্গাপুরের পেনাল্টি এলাকার দিকে এগিয়ে যান। তবে তাঁকে অনুসরণ করে সতীর্থরা যথেষ্ট দ্রুত বক্সে ঢুকতে না পারায় আক্রমণটি শেষ পর্যন্ত বড় কোনো সুযোগে পরিণত হয়নি।

এর আগে ষষ্ঠ মিনিটেই হলুদ কার্ড দেখেন শমিত সোম। সিঙ্গাপুরের জুলকিফলিকে পেছন থেকে জার্সি ধরে থামানোর কারণে তাঁকে সতর্ক করেন রেফারি।

ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে সিঙ্গাপুর। ১৬ মিনিটে ইলহান ফান্দির নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান। ওই আক্রমণের পরপরই দুটি কর্নার আদায় করে নেয় সিঙ্গাপুর।

৩৩ মিনিটে বাংলাদেশের গোলরক্ষককে আবারও কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়। বক্সের বাইরে ডান প্রান্তে ফ্রি-কিক পায় সিঙ্গাপুর। বিপজ্জনক জায়গা থেকে নেওয়া শট মেহেদী দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন।

তবে দুই মিনিট পর আর গোল ঠেকাতে পারেনি বাংলাদেশ। ৩৫ মিনিটে ডান দিক থেকে আসা ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান রায়ান স্টুয়ার্ট। তাঁর গোলে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সিঙ্গাপুর।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিকরা। ডান দিক থেকে নেওয়া একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত এক গোলের ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পরও আক্রমণের ধার ধরে রাখে সিঙ্গাপুর। ৪৭ মিনিটে তাদের একটি শট বারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে বিপদমুক্ত করেন মেহেদী হাসান।

ম্যাচে সমতা ফেরাতে একের পর এক বদলি খেলোয়াড় মাঠে নামান বাংলাদেশের কোচ টমাস ডুলি। ৫৭ মিনিটে শেখ মোরছালিনের জায়গায় নামেন মিনহাজুল করিম। জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই ছিল ২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের অভিষেক।

৭১ মিনিটে আরও দুটি পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। শমিত সোমের বদলে সোহেল রানা এবং শুকি ইতোফুসার পরিবর্তে মাঠে নামেন ফাহামিদুল ইসলাম।

মাঠে নেমেই বাঁ প্রান্তে গতি বাড়ান ফাহামিদুল। তাঁর দৌড় ও ক্রস দিয়ে সিঙ্গাপুরের রক্ষণে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ।

৭৯ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে উঠে ফাহামিদুলের বাড়ানো ক্রস থেকে সুযোগ পেয়েছিলেন রাকিব হোসেন। তাঁর হেড অবশ্য সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষক আটকে দেন। ম্যাচের শেষ দিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুযোগগুলোর একটি ছিল এটি।

শেষদিকে গোলের সন্ধানে রক্ষণ ছেড়ে আক্রমণে উঠে আসেন হামজা চৌধুরীও। কিন্তু সিঙ্গাপুরের সংগঠিত রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ের পর আরও ছয় মিনিট খেলা হলেও সমতাসূচক গোলের দেখা পায়নি লাল-সবুজের দল।

শেষ পর্যন্ত ১–০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিঙ্গাপুর। আর প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও পরাজিত হয়ে হতাশ হতে হয় বাংলাদেশকে।

এমএইচ 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি