ঢাকা, রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৮:১১:২৩

সিলেটে ঢুকল পররাষ্ট্রমন্ত্রী বের হলো অর্থমন্ত্রী

সিলেটে ঢুকল পররাষ্ট্রমন্ত্রী বের হলো অর্থমন্ত্রী

প্রায় তিন দশক পর সিলেটের বাইরে থেকে অর্থমন্ত্রী পাচ্ছে বাংলাদেশ। একাদশ জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন কুমিল্লা-১০ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আ হ ম মুস্তফা কামাল, যিনি গত মেয়াদে সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আর দেড় যুগ পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের একজন। নতুন সরকারে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আবদুল মোমেনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ও শাহ এএমএস কিবরিয়া কিংবা বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, এরা সবাই ছিলেন সিলেটের। তবে এবার সিলেট যুগের অবসান ঘটিয়ে অন্য অঞ্চল থেকেই অর্থমন্ত্রী বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ তত্কালীন বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে এম সাইফুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের অর্থমন্ত্রীর পদটি সিলেটের দখলে ছিল। তাই আজ সোমবার আ হ ম মুস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে আপাতত ছেদ পড়বে সিলেট যুগের। নতুন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের আমন্ত্রণ পাওয়ার পর গতকাল রোববার সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি জানান, অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি আর্থিক খাতের সমস্যাগুলো আগে চিহ্নিত করবেন। এরপর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সমস্যাগুলোকে সময়োপযোগী সমাধান করা হবে। মুস্তফা কামাল আরও বলেন, সমস্যা চিহ্নিত না করে অনুমানের ভিত্তিতে কাজ করলে কোনও সমাধান আসবে না। তাই আর্থিক খাতে যে ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে তার বাস্তবভিত্তিক সমাধান করতে হবে। আর এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা চান তিনি। ১৯৪৭ সালের ১৫ জুন কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মুস্তফা কামাল এর আগে তিনবার এমপি হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং আওয়ামী লীগের কুমিল্লা জেলার (দক্ষিণ) আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে এর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এ দিকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আবদুস সামাদ আজাদ। ১৯৭৩ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারে এই দায়িত্বে ছিলেন। পঁচাত্তরে সপরিবারে জাতির পিতার মৃত্যুর পর দীর্ঘ ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ফেরেন সামাদ আজাদ। ২০০১ সালের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন সিলেটের আরেকজন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আবদুল মোমেনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০১৫ সালে জাতিসংঘ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনার সময় প্রধানমন্ত্রী ‘দেশে বড় দায়িত্ব’ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। একে//
শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানালেন ফিজির প্রধানমন্ত্রী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ফিজির প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক বাইনিমারমা।আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।ফলাফল প্রকাশের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোনে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এছাড়া অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টির চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব, চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী, সৌদি আরবের বাদশা ও যুবরাজ, কাতারের আমির, ভুটানের রাজা ও প্রধানমন্ত্রী, নেপালের প্রধানমন্ত্রী, শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট। প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৮৮ আসন। এ জয়ের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এদিকে আজ শপথ নিয়েছেন একাদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত এমপিরা। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিধি মোতাবেক দশম সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাদের শপথ পাঠ করান।সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের ১ম লেভেলের (নিচতলায়) শপথ কক্ষে এ শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।এর নবনির্বাচিত এমপিদের শপথকক্ষে প্রবেশের সময় ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। শপথকক্ষে ঢোকার পর সবার হাতে তুলে দেওয়া হয় শপথনামার ফোল্ডার। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন গ্রহণের পর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় শপথ অনুষ্ঠান।এসএ/

জনপ্রত্যাশা পূরণে সকলের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তাঁর ওপর অগাধ আস্থা স্থাপনকারী জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যবসায়ীসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।তিনি বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে বাংলাদেশ ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)’র একটি প্রতিনিধি দলকে বলেন, ‘আমি সবসময় মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আমার ওপর যে আস্থা স্থাপন করেছে, আমি যে তার প্রতিদান দিতে পারি।’প্রতিনিধিদল ৩০ ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করায় তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং তাকে একটি ফুলের তোড়া উপহার দেন।বাংলাদেশ ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার ও এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।শেখ হাসিনা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে বিপুল সমর্থন দেয়ার জন্য দেশের ব্যবসায়ী সমাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের সমর্থন আমাদের জনসমর্থন পেতে সহায়তা করেছে।’নির্বাচনে মহাজোটে নিরঙ্কুশ বিজয় সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার জনগণ নৌকা ছাড়া অন্য কোন প্রার্থীকে ভোট দেয়নি। কেননা তারা নৌকাকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রতীক বলে মনে করে।তিনি বলেন, ‘এবার জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে খুবই আগ্রহী ছিল। এমনকি অনেক ভোটার কেবল প্রতীক দেখেই ভোট দিয়েছে। জনগণ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য যে রকম আবেগ দেখিয়েছিলো এবারো তারা সেই একই আবেগ দেখিয়েছে।’শেখ হাসিনা নির্বাচনে বিএনপির বিপর্যয়ের জন্য ‘মনোনয়ন বাণিজ্য’কে প্রধান কারণ উল্লেখ করে বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিরোধী দলের আচরণ ছিল খুবই অদ্ভুত। তারা বিজয় হবে এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়নি।তিনি বলেন, ‘তারা প্রতিটি আসনে টাকা নিয়ে তিন থেকে চার জন প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। তারা নির্বাচনকে বাণিজ্য হিসেবে নিয়েছে, প্রতিযোগিতায় জিততে চায়নি।’শেখ হাসিনা বলেন, কিছু সংখ্যক বিএনপি প্রার্থী তাদের দলের শীর্ষ নেতাদের কথা মতো দুবাইয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে তাদের মনোনয়ন পত্র দাখিল করতে গিয়েছিল। দূতাবাস তাদের মনোনয়ন পত্র গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাদের রিটার্নিং অফিসারের কাছে অথবা অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলের নেতাদের বিরক্ত হয়ে তারা প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, মনোনয়ন কেনার জন্য টাকা দেয়ার কথা স্বীকার করে।তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য একটি শক্তিশালী বিরোধী দল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা একটি শক্তিশালী বিরোধী দল পেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা যদি মনোনয়ন বাণিজ্যের মতো হীন কাজে জড়িয়ে পড়েন তাহলে আপনি বিরোধী দল কোথায় পাবেন।শেখ হাসিনা বলেন, তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন ছাড়া আর কিছু পাওয়ার আশা করেন না।তিনি বলেন, ‘আমি চাই বাংলাদেশের মানুষ বাসস্থান পাক, তাদের সন্তানরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খাদ্যের অধিকার পাক, যাতে তাদের জীবন সুন্দর সমৃদ্ধ হয়।তিনি ব্যবসায়ীদেরকে তাদের নিজ-নিজ এলাকার জনগণকে সহায়তার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের সাহায্য সহযোগিতা তাদের এলাকার প্রচুর মানুষের জীবন পাল্টে দিতে পারে। আর তখন বাংলাদেশের কোন মানুষ দারিদ্র্যের কবলে নিপতিত থাকবে না।সূত্র : বাসসএসএ/

শপথ নিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন

শপথ নিয়েছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী নতুন সংসদ সদস্যরা। শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নিজেই নিজের শপথ নেন। পরে একযোগে সবাইকে শপথ পাঠ করান তিনি। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথ অনুষ্ঠানের আগে থেকেই নতুন সংসদ সদস্য এবং তাদের সমর্থকরা সংসদ ভবন এলাকায় আসতে শুরু করেন। এর আগে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট জাতীয় সংসদে পৌঁছায়। এটি ১ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত। গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকারকে শপথ পড়াতে হয়। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী একাদশ সংসদে সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় তিনি আগে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। পরে নির্বাচিত অন্যদের শপথ পড়ান। শপথ শেষে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা বৈঠক করে নিজেদের সংসদ নেতা নির্বাচন করবেন। শেরে বাংলা নগরে সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের প্রথম লেভেলের শপথ কক্ষে এ শপথ অনুষ্ঠিত হয়।এসএ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি