ঢাকা, শনিবার   ০৮ আগস্ট ২০২৬

চুরির অপবাদে গাছে বেঁধে তরুণীকে মারধর, গ্রেপ্তার ২

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৯:২৫, ৮ আগস্ট ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

শরীয়তপুরের সখিপুরে মনির মোল্লা নামে এক মুদি দোকানদারের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক তরুণীকে চুরির অপবাদ দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে। ওই তরুণীকে গাছের সাথে বেধে, চুল কেটে, গলায় জুতার মালা পরিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ছৈয়ালকান্দি এলাকায় গত মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। 

এছাড়া তার দুই ভাই-বোনকে কয়েক ঘণ্টা একটি ঘরে আটকে রাখে মনির মোল্লার স্বজনরা। খবর পেয়ে সেদিন দুপুরেই পুলিশ তিন ভাই-বোনকে উদ্ধার করে। 

শুক্রবার নির্যাতনের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় তাদের মা বাদী হয়ে শুক্রবার রাতেই সখিপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় আবুল মোল্যার ছেলে মনির মোল্যাসহ ছয়জনকে এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

জানা যায়, সখিপুর থানাধীন ছৈয়াল কান্দি এলাকার আবুল মোল্লার ছেলে মুদি দোকানদার মনির মোল্যা দীর্ঘদিন ধরে পাশের বাড়ির ফারিয়া আক্তার (১৮)কে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন এবং মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিতেন। ঘটনার দিন ৪ আগস্ট মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ভুক্তভোগী তরুণী তার বোন মারিয়া আক্তার (১৩) ও ভাই ফাহিম (৭)কে নিয়ে মনির মোল্লার মুদি দোকানে কেনাকাটা করতে আসেন। 

এসময় অভিযুক্ত মনির মোল্লা ওই তরুণীকে নানাভাবে অশালীন কথাবার্তা বলেন এবং কুপ্রস্তাব দেন। এতে প্রতিবাদ জানালে মনির মোল্লা ওই তরুণীকে পাশের ফৌজিয়া সরদারের বাড়িতে নিয়ে একটি গাছের সাথে হাত-পা বাধেন। এসময় তাকে চুল কেটে, গলায় জুতার মালা পরিয়ে, একটি চোখ নষ্ট করে দিয়ে পিটিয়ে উল্লাস করতে থাকেন। 

এছাড়া ওই তরুণীর ভাই-বোনদেরকে দোকানের পাশে একটি ঘরে হাত-পা বেঁধে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। 

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সখিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগী তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা ফাতেমা আক্তার সখিপুর থানায় মামলা করায় জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ভুক্তভোগীর পুরো পরিবার। 

ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আফসানা ও আমীরকে গ্রেফতার করলেও মূল হোতা মনির মোল্লাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। 

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি