টাঙ্গাইলে প্রকাশিত হলো ব্র্যাকের ঢাকা বিভাগীয় বার্ষিক প্রতিবেদন
প্রকাশিত : ২৩:০১, ১৯ মে ২০২৬
২০২৫ সালে ঢাকা বিভাগের প্রতি আটজন বাসিন্দার মধ্যে একজন ব্র্যাকের বিভিন্ন সেবার আওতায় এসেছেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, দুর্যোগ ও সংকট মোকাবিলা, নিরাপদ পানি ও পয়োনিষ্কাশন (ওয়াশ), জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভিবাসন এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে এসব সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) টাঙ্গাইল জেলা সদরের উপজেলা হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগ ও টাঙ্গাইল জেলার বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশকালে এসব তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ঢাকা বিভাগে ব্র্যাকের ২৬ হাজার ৯০০ কর্মী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছেন, যাদের প্রায় ৪০ শতাংশ নারী। বিভাগটিতে সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির ১ হাজার ৫১টি কার্যালয় এবং সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগের ৮৬টি কার্যালয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা এবং সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ তুলে ধরেন ব্র্যাকের চিফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও) সাব্বির আহমেদ।
তিনি বলেন, “ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ বিশ্বাস করতেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই সুপ্ত সম্ভাবনা রয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে সেই সম্ভাবনার বিকাশ সম্ভব। ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন। তিনি বলেন, “ব্র্যাক দেশ-বিদেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সুনাম অর্জন করেছে। তবে দরিদ্র ও দুঃস্থ মানুষের জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম বলেন, “গত ৫০ বছরে ব্র্যাক বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নতুন প্রজন্মের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরিতেও আরও ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. আদিবুল ইসলাম পিপিএম (সেবা), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. সেলিম মিঞা, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া এবং ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির প্রধান আবু সাদাত মনিরুজ্জামান খান। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ব্র্যাকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে ঢাকা বিভাগে ১৭ হাজার ৯০৯টি অতিদরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৭২৫টি পরিবার অতিদারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে। এছাড়া জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ে সহায়তা পেয়েছেন ৪ হাজার ১১৬ জন।
আর্থিক সেবার আওতায় ঢাকা বিভাগের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ এসেছেন। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশই নারী।
স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক সেবা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আওতায় এসেছেন ৩ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি মানুষ। এক লাখের বেশি গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং ২৫ হাজার ৪৭৫টি নিরাপদ প্রসবে সহায়তা করেছে ব্র্যাক। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষার আওতায় এসেছেন ৯০ হাজার ২৮৮ জন।
এদিকে টাঙ্গাইল জেলার প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলার প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন কোনো না কোনোভাবে ব্র্যাকের সহায়তা পেয়েছেন। জেলায় ব্র্যাকের ৫১১টি সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির অফিস ও তিনটি সামাজিক উদ্যোগের অফিসে ১ হাজার ২৫৫ জন কর্মী কাজ করছেন।
এছাড়া টাঙ্গাইলে ৩ লাখ মানুষ আর্থিক সেবা ও সচেতনতামূলক সহায়তা পেয়েছেন। স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবার আওতায় এসেছেন ১৮ হাজার ৭৬৮ জন। পাশাপাশি ৭০ হাজারের বেশি মানুষ অভিবাসনবিষয়ক সচেতনতা, মনোসামাজিক সহায়তা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন সেবা পেয়েছেন।
এমআর//
আরও পড়ুন










